যুক্তরাষ্ট্র প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হারার পরদিন বুধবার (৬ নভেম্বর) ওয়াশিংটনে হাওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি আবেগপ্রবণ ভাষণ দেন ক্ষমতাসীন ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী ও ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস। সেখানে তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের বিষয়ে কোনও তাৎক্ষণিক পরিকল্পনার কথা জানাননি তিনি।
কমলা হ্যারিসের ভবিষ্যৎ কী হতে পারে বিষয়ে এনডিটিভি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
২০২৮ সালের জন্য প্রস্তুতি?
৬০ বছর বয়সী কমলা আগামী ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি হোয়াইট হাউস ছাড়তে হবে বাইডেনকে। দায়িত্ব ছেড়ে দিতে হবে কমলা হ্যারিসকেও। তাহলে হোয়াউট হাউস ছেড়ে দেওয়ার পর কী করবেন হ্যারিস। ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত হ্যারিস? নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি; ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য প্রস্তৃতি নিতে পারেন হ্যারিস। যেমন জন কেরি ২০০৪ সালে জর্জ ডব্লিউ বুশের কাছে হেরেও রাজনৈতিক কার্যক্রম থেকে পুরোপুরি হারিয়ে যাননি। বারাক ওবামার দ্বিতীয় মেয়াদে তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
সিনেটে ফিরবেন?
নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জন কেরির মতো রাজনীতিতে ফিরে আসা এবং নতুন করে গতি তৈরি করা কমলা হ্যারিসের জন্য সহজ বলে মনে হচ্ছে না। কারণ হেরে যাওয়ায় অনেকটা বিধ্বস্ত তিনি। সান ফ্রান্সিসকোভিত্তিক রিপাবলিকান ভাষ্যকার রিচি গ্রিনবার্গ বলেন, কমলাকে হয়তো আগের মতো অর্থ সংগ্রহের সমর্থন পেতে সংগ্রাম করতে হবে।
ডেমোক্রেটিক পার্টিতে ভূমিকা
কমলা হ্যারিসের জন্য একটি সম্ভাব্য পথ হতে পারে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির একজন মুখপাত্র হিসেবে কাজ করা। কারণ তার নামের ব্যাপক পরিচিতি এবং সংযোগ রয়েছে। তবে গ্রিনবার্গ মনে করেন, আর্থিক সহায়তা পুনরুজ্জীবিত করতে কমলা চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হবেন।
বই লেখা?
আগের দুজন ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী—হিলারি ক্লিনটন ও আল গোর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরাজিত হন। এরপর তারা লেখালেখি ও অন্যান্য কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখার সিদ্ধান্ত নেন। সেই একই পথে হাঁটতে পারেন কমলা হ্যারিসও। ট্রাম্পের কাছে ২০১৬ সালে পরাজয়ের পর হিলারি একটি বই লেখেন ‘হোয়াট হ্যাপেন্ড’ শিরোনামে। অন্যদিকে গোর একটি ডকুমেন্টারি চলচ্চিত্র ‘অ্যান ইনকনভিনিয়েন্ট ট্রুথ’ তৈরি করেন।
রাজনীতি থেকে দূরে
কয়েক মাসের মধ্যেই কমলা হ্যারিস ভাইস-প্রেসিডেন্টের পদ থেকে অবসর নেবেন। নিজেকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী অবসরেও যেতে পারেন। গত ২৭ পেনসিলভানিয়ার একটি বইয়ের দোকানে তিনি বলেছিলেন, ‘প্রচারণার কাজ শেষে আমি কিছু ওজন বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছি। কারণ আমাকে অনেক খাটতে হচ্ছে।’
এছাড়া কমলা হ্যারিস হিলারি ক্লিনটনের পথ অনুসরণ করতেও পারেন। হিলারি রাজনীতিতে খুব বেশি সক্রিয় নন। বরং ব্যক্তিগত জীবনের দিকে বেশি মনোযোগী। তবে তিনি দাতাদের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় রেখেছেন।







