ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় এক সাবেক বাসচালকের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে অন্তত ২৮ কোটি রুপি নগদ অর্থ ও ১৫ কেজি স্বর্ণ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বিপুল পরিমাণ অর্থ গণনার সময় পাঁচটি নোট গণনার মেশিন বিকল হয়ে পড়ে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয়েছে মিনার মণ্ডলকে। তিনি একসময় বাসচালক ছিলেন এবং পরে পাথর ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হন। মিনার মণ্ডল তৃণমূল কংগ্রেসের সাবেক নেতা অনুব্রত মণ্ডলের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও পাথর ব্যবসায়ী তুলু মণ্ডলের আত্মীয়।
পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে মিনার মণ্ডল স্বীকার করেছেন যে, উদ্ধার হওয়া নগদ অর্থ ও প্রায় ২১ কোটি রুপি মূল্যের ১৫ কেজি স্বর্ণ তুলু মণ্ডল এবং তার কথিত অবৈধ সিন্ডিকেটের।
বুধবার (২৯ জুলাই) রাত থেকে শুরু হওয়া অভিযানে প্রথমে প্রায় সাড়ে ৫ কোটি রুপি উদ্ধার হয়। পরদিন সকাল পর্যন্ত গণনা শেষে নগদের পরিমাণ বেড়ে ২৮ কোটিরও বেশি হয়। তদন্তকারীদের ভাষ্য, মিনার মণ্ডলের সঙ্গে তুলু মণ্ডলের মালিকানাধীন পাথরখনি ও ক্রাশিং ইউনিটেরও সম্পর্ক রয়েছে।
এত বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ কোথা থেকে এসেছে এবং কীভাবে তা সংগ্রহ করা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। অভিযানের সময় বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। তবে অভিযানের সুনির্দিষ্ট কারণ বা এটি কোনো অবৈধ আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত কি না, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
এদিকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বুধবার বলেছেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে তার সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত থাকবে।
এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে মোহাম্মদবাজার থানার পুলিশ অবৈধ বালু সিন্ডিকেটের আস্তানায় অভিযান চালিয়ে বিপুল অবৈধ সম্পদ উদ্ধার করেছে। জনগণের সম্পদ লুটকারীদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না এবং মাফিয়া সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অভিযান চলবে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মিনার মণ্ডল আগে রাজ্যের পরিবহন দপ্তরের কর্মী হিসেবে বাসচালকের দায়িত্ব পালন করতেন। পরে তিনি পাথর ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন। তার আয়ের উৎস এবং বিপুল সম্পদের উৎস এখন তদন্তের আওতায় রয়েছে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূল কংগ্রেসের দুই পক্ষের মধ্যে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক দোষারোপ। অভিযুক্তদের সঙ্গে অনুব্রত মণ্ডলের ঘনিষ্ঠতার বিষয়টি নিয়ে একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছেন দলটির নেতারা।
তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, যাদের বাড়ি থেকে বিপুল অর্থ উদ্ধার হয়েছে তারা কয়েকজন প্রভাবশালী নেতার ঘনিষ্ঠ বলে শোনা যাচ্ছে। প্রকৃত সত্য উদঘাটনে প্রয়োজনে সেই নেতাদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিত।
দলের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বীরভূম দীর্ঘদিন কিছু প্রভাবশালী নেতার নিয়ন্ত্রণে ছিল। অভিযুক্তদের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক কতটা গভীর, সেটিও তদন্তে বেরিয়ে আসা উচিত।
অন্যদিকে রিতব্রত ব্যানার্জির ঘনিষ্ঠ তৃণমূল বিধায়ক প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে এত বড় অঙ্কের অর্থ উদ্ধারে পুলিশ প্রশংসার দাবিদার। একই সঙ্গে এই অর্থের প্রকৃত মালিক কারা, সেটিও তদন্তে বের করা উচিত।
এই অভিযানের পর আবারও আলোচনায় এসেছে ২০২৪ সালে তুলু মণ্ডলের মেয়ের জাঁকজমকপূর্ণ বিয়ে। বীরভূমের সিউড়িতে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে বাংলা ও বলিউডের একাধিক তারকা অংশ নিয়েছিলেন।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ওই বিয়েতে প্রায় ১০০ কোটি রুপি ব্যয় করা হয়েছিল। অতিথি তালিকায় ছিলেন অঙ্কুশ হাজরা, দর্শনা বণিক, আরবাজ খান ও জারিন খানসহ বেশ কয়েকজন অভিনয়শিল্পী।







