মুসলমানের জীবনে আজান একটি গুরুত্বপূর্ণ আহ্বান। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময় হওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পাশাপাশি আজান মানুষকে আল্লাহর ইবাদতের দিকে আহ্বান করে। তাই আজান শুনলে এর জবাব দেওয়া এবং এরপর রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শেখানো দোয়া পড়া গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত আমল।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “তোমরা যখন মুয়াজ্জিনকে আজান দিতে শুনবে, তখন সে যা বলে তোমরাও তা বলবে।”
(সহিহ বুখারি: ৬১১; সহিহ মুসলিম: ৩৮৩)
আজানের জবাব কীভাবে দেবেন?
আজান শুনলে মুয়াজ্জিনের বলা বাক্যগুলো পুনরাবৃত্তি করতে হয়। তবে আজানের দুটি বাক্যে ব্যতিক্রম রয়েছে।
মুয়াজ্জিন যখন বলেন—
حَيَّ عَلَى الصَّلَاةِ
হাইয়া আলাস সালাহ
এবং—
حَيَّ عَلَى الْفَلَاحِ
হাইয়া আলাল ফালাহ
তখন জবাবে বলতে হয়—
لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ
উচ্চারণ: লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।
অর্থ: আল্লাহ ছাড়া কোনো শক্তি ও সামর্থ্য নেই।
আজান শেষ হলে কী করবেন?
আজান শেষ হওয়ার পর রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর দরুদ পাঠ করা সুন্নত। এরপর তাঁর জন্য ‘ওয়াসিলা’ প্রার্থনা করে বিশেষ দোয়া পড়তে হয়।
اللَّهُمَّ رَبَّ هَذِهِ الدَّعْوَةِ التَّامَّةِ، وَالصَّلَاةِ الْقَائِمَةِ، آتِ مُحَمَّدًا الْوَسِيلَةَ وَالْفَضِيلَةَ، وَابْعَثْهُ مَقَامًا مَحْمُودًا الَّذِي وَعَدْتَهُ
উচ্চারণ:
আল্লাহুম্মা রাব্বা হাজিহিদ দাওয়াতিত তাম্মাতি, ওয়াস সালাতিল কায়িমাতি, আতি মুহাম্মাদানিল ওয়াসিলাতা ওয়াল ফাদিলাতা, ওয়াবআছহু মাকামাম মাহমুদানিল্লাজি ওয়াদতাহু।
অর্থ:
“হে আল্লাহ! এই পরিপূর্ণ আহ্বান ও প্রতিষ্ঠিত নামাজের রব! মুহাম্মদ (সা.)-কে ওয়াসিলা ও মর্যাদা দান করুন এবং তাঁকে সেই প্রশংসিত مقامে পৌঁছে দিন, যার প্রতিশ্রুতি আপনি তাঁকে দিয়েছেন।”
(সহিহ বুখারি: ৬১৪)
আজানের জবাব দেওয়ার ফজিলত
আজানের জবাব দেওয়ার পাশাপাশি আজান শেষে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জন্য ওয়াসিলা প্রার্থনার বিশেষ ফজিলত রয়েছে।
হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি আজান শুনে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জন্য এই দোয়া করবে, কিয়ামতের দিন তার জন্য রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুপারিশ লাভের অধিকার থাকবে।
(সহিহ বুখারি: ৬১৪)
আজানের সময় কীভাবে মনোযোগী হবেন?
আজান শুরু হলে সম্ভব হলে কথা বলা ও অন্য কাজ থেকে বিরত হয়ে মনোযোগ দিয়ে আজানের জবাব দেওয়া ভালো। মুয়াজ্জিনের সঙ্গে সঙ্গে আজানের বাক্যগুলো বলা এবং ‘হাইয়া আলাস সালাহ’ ও ‘হাইয়া আলাল ফালাহ’-এর সময় ‘লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ’ বলা সুন্নত।
আজান শেষ হওয়ার পর দরুদ ও নির্ধারিত দোয়া পড়ার পাশাপাশি নিজের প্রয়োজন ও কল্যাণের জন্যও আল্লাহর কাছে দোয়া করা যেতে পারে।
আজান প্রতিদিনের জীবনে বারবার ফিরে আসা আল্লাহর একটি আহ্বান। তাই আজানকে শুধু নামাজের সময় জানানোর ঘোষণা হিসেবে না দেখে আল্লাহর স্মরণ ও ইবাদতের আহ্বান হিসেবে গ্রহণ করা উচিত।
আজান শুনে তার জবাব দেওয়া, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর দরুদ পাঠ করা এবং তাঁর জন্য ওয়াসিলা প্রার্থনা করা অল্প সময়ের হলেও অত্যন্ত মূল্যবান একটি সুন্নত আমল।








