এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে জনযোগাযোগ জোরদারে এডুকেশন এক্সচেঞ্জকে প্রধান মাধ্যম হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন।
তিনি বলেন, আমরা চাই দুই দেশের মানুষের সাথে মানুষের মেলবন্ধনটা বাড়ুক, আর সেটার সবচেয়ে বড় মাধ্যম হতে পারে এডুকেশন এক্সচেঞ্জ। আমাদের শিক্ষার্থীরা যেমন চীনে গিয়ে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ পাবে, একইভাবে চীনা শিক্ষার্থীরাও বাংলাদেশে এসে সামার স্কুল ও বিভিন্ন ক্যাম্পাসের শিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নেবে।
বুধবার স্থানীয় সময় বিকেলে চীনের গুয়াংঝৌর সাউথ চায়না নর্মাল ইউনিভার্সিটিতে অনুষ্ঠিত ‘চীন-বাংলাদেশ এডুকেশন এক্সচেঞ্জ সম্মেলনে’ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র একথা বলেন।
চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতা, একাডেমিক বিনিময় এবং দীর্ঘমেয়াদী শিক্ষাগত অংশীদারিত্ব বৃদ্ধিতে উভয় পক্ষের দৃঢ় অঙ্গীকার প্রকাশের মাধ্যমে সম্মেলনটি শেষ হয়।
এর আগে সকালে চীন-বাংলাদেশ শিক্ষা সহযোগিতা বিষয়ক সভা হয়। সেখানে চীনে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার সুযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা, যৌথ গবেষণা এবং কারিগরি শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন- এই চারটি প্রধান বিষয়ের ওপর আলোচনা করা হয়।
বিকালের সম্মেলনে চীনের বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থার সুবিধার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন জানান, যেসব বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ইতোমধ্যে চীনে পড়াশোনা করছে, তাদের অ্যাকাডেমিক পরিবেশ আর সুযোগ-সুবিধা কীভাবে আরও বাড়ানো যায়, সেটা নিয়েও আমাদের চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে নিয়মিত সমন্বয় করা হচ্ছে।
তবে শুধু শিক্ষার্থী পাঠানোই যথেষ্ট নয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা যৌথ গবেষণা ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, চীনের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো গবেষণা ও বৈশ্বিক র্যাংকিংয়ে যে সাফল্য দেখিয়েছে, তার অভিজ্ঞতা পেতে যৌথ গবেষণা ও ল্যাব শেয়ারিং প্রয়োজন। বিশেষ করে কারিগরি শিক্ষা ও পলিটেকনিক খাতে চীনের অভিজ্ঞতা আমাদের শিক্ষকদের প্রশিক্ষণে কাজে লাগালে তা বাস্তব চিত্রে বড় পরিবর্তন আনবে।
এই মেলবন্ধন শুধু ক্লাসরুমের তাত্ত্বিক আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রায়োগিক ক্ষেত্রে দুই দেশের মেধাকে এক সুতোয় বাঁধার আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা।
মাহ্দী আমিন বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান শিক্ষাগত প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। তিনি শীর্ষস্থানীয় চীনা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সাথে বিশেষ করে কারিগরি শিক্ষা, গবেষণা সহযোগিতা, বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশীদারিত্ব এবং চীনা ভাষা শিক্ষার ক্ষেত্রে একাডেমিক যোগাযোগ জোরদার করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি চীনা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সহায়তায় বাংলাদেশে ‘চীনা ভাষা কেন্দ্র’ গড়ে তোলার ওপর জোর দেন, যা যোগ্য শিক্ষক, সুসংগঠিত কোর্স, শিক্ষাসামগ্রী এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা প্রদান করবে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা চীনা সরকার ও চীনা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তাদের বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান, যাতে তারা দেশের শিক্ষার পরিস্থিতি আরও ভালোভাবে বুঝতে পারেন, বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে সরাসরি মতবিনিময় করতে পারেন এবং দীর্ঘমেয়াদী একাডেমিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার বাস্তব সম্ভাবনাগুলো খতিয়ে দেখতে পারেন।
বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলে আরও ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া।
চীন পক্ষের অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছিলেন গুয়াংডং প্রদেশের শিক্ষা বিভাগের প্রাদেশিক প্রধান পরিদর্শক জু শিমিন; এক্সচেঞ্জ অ্যান্ড কোঅপারেশন অফিসের উপ-পরিচালক ঝো লিউইউ; চীন-বাংলাদেশ শিক্ষা ও সংস্কৃতি সমিতির সহ-সভাপতি প্রকৌশলী শেখ কোরবান আলী; যুগ্ম-সম্পাদক ওয়াং পেং; পরামর্শক ঝেং পেংউ এবং সাউথ চায়না নর্মাল ইউনিভার্সিটির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ইয়াং চেংওয়েই।
সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে আরও গভীর ও সুসংগঠিত শিক্ষাগত অংশীদারিত্বের আহ্বান জানান। তিনি যৌথ গবেষণা, বৃত্তি, শিক্ষার্থী ও শিক্ষক বিনিময়, স্বল্পমেয়াদী প্রশিক্ষণ এবং যৌথ মাস্টার্স ও পিএইচডি প্রোগ্রামের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে দীর্ঘমেয়াদী সহযোগিতার ওপর জোর দেন এবং একই সাথে উভয় পক্ষের প্রতিষ্ঠানগুলোকে টেকসই একাডেমিক অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে উৎসাহিত করেন।
সম্মেলনে জু শিমিন আন্তর্জাতিক শিক্ষার প্রতি গুয়াংডংয়ের প্রতিশ্রুতি এবং আরও বেশি বাংলাদেশী শিক্ষার্থী গ্রহণ করার ইচ্ছার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। ২০২৪–২০২৫ শিক্ষাবর্ষে ২৬১ জন বাংলাদেশী শিক্ষার্থী গুয়াংডংয়ে অধ্যয়ন করেছেন এবং ২০২৫ সালে ২০ জন গুয়াংডং সরকার বৃত্তি পেয়েছেন।
সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- সাউথ চায়না ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি থেকে বোর্ডের ডেপুটি চেয়ার পান জুন এবং অ্যাডমিশন অফিসের কর্মকর্তা ঝাং ওয়েনশিন, সাউথ চায়না নরম্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-প্রিন্সিপাল ইয়াং চেংওয়েই, আন্তর্জাতিক বিনিময় ও সহযোগিতা বিভাগের পরিচালক তান উইহং, ইন্টারন্যাশনাল কালচার স্কুলের ডিন জিন তান এবং আন্তর্জাতিক বিনিময় ও সহযোগিতা অফিসের তিন ডেপুটি ডিরেক্টর—শেন লিলিং, ঝাও দি ও লি হুইরু;
জিনান বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি ডিরেক্টর-জেনারেল গুও নিং, সাউদার্ন মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশন স্কুলের ভাইস ডিন উ পেইশিয়ান, গুয়াংডং ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির আন্তর্জাতিক বিনিময় কলেজের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী বিষয়ক প্রধান ইয়ে জিয়ায়ি, গুয়াংঝু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন মা শিয়াওজি, গুয়াংঝু ইউনিভার্সিটি অব চাইনিজ মেডিসিনের ইন্টারন্যাশনাল কলেজের ভারপ্রাপ্ত ভাইস ডিন লু গুয়ানরু এবং হংকং, ম্যাকাও, তাইওয়ান, ওভারসিজ চাইনিজ ও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ফুল-টাইম কাউন্সিলর সুন শিয়াওমিং, গুয়াংডং ওশান বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগীয় প্রধান চেন জিনজুন, হারবিন ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (শেনঝেন)-এর আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তি বিষয়ক পরিচালক জৌ ইউয়েলি এবং গুয়াংডং পলিটেকনিক নরম্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশন কলেজের ভাইস ডিন পি শ্যাংইউসহ চীনের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিবৃন্দ।
প্রসঙ্গত; চীন সরকারের আমন্ত্রণে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা বিষয়ক বিভিন্ন আয়োজন এবং আলোচনায় অংশ নিতে তিন দিনের সরকারি সফরে চীনে রয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন।









