এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের মামলায় অভিযুক্ত বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের এই সাবেক আইজিপির বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তদন্ত করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ইতোমধ্যে এসব অভিযোগে তার বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে এবং আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করেছে।
আজ রোববার (১৪ জুন) জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এই তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন।
দুদকের তদন্তে দাবি করা হয়েছে, বেনজীর আহমেদ তার বৈধ আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়েছেন। তদন্তে তার ঘোষিত সম্পদের তুলনায় অতিরিক্ত সম্পদ, গোপন সম্পদ এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগের তথ্য পাওয়া গেছে।
এছাড়া বেনজীর, তার স্ত্রী ও সন্তানদের নামে বিপুল পরিমাণ জমি, ফ্ল্যাট, ব্যাংক হিসাব, কোম্পানির শেয়ার এবং বিদেশে সম্পদের তথ্য সামনে আসে। দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে তাদের পরিবারের প্রায় ৪৩ কোটি ৫০ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানানো হয়।
দুদক আরও অভিযোগ করেছে, অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে অর্থপাচার করা হয়েছে। এ অভিযোগে বিদেশে থাকা সম্পদেরও অনুসন্ধান চালানো হয়। দুবাইয়ে তার পরিবারের মালিকানাধীন ফ্ল্যাট ও ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশও দিয়েছে আদালত।
তদন্ত চলাকালে বেনজীর দেশের বাইরে চলে যান বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে। পরে তার বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারি করা হয় এবং আদালত তাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেয়।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিযোগগুলো আদালতে প্রমাণিত হলে বেনজীর আহমেদকে দুর্নীতি ও অর্থপাচারবিরোধী আইনের আওতায় কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হতে পারে।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলা
২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর দুদকের পক্ষ থেকে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও তথ্য গোপনের অভিযোগে বেনজীর ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।
অভিযোগপত্র বা চার্জশিট
দীর্ঘ অনুসন্ধান শেষে ২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বর আদালতে তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে দুদক। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, বেনজীর তাঁর দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে কয়েক কোটি টাকার সম্পদ গোপন করেছেন এবং তার নামে অন্তত ১১ কোটি ৪ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ পাওয়া গেছে।
আদালতের পরোয়ানা
অভিযোগপত্র গ্রহণের পর চলতি বছরের মার্চ মাসে ঢাকার একটি বিশেষ আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। এরপর মে মাসে তাঁর অনুপস্থিতিতেই আদালতে অভিযোগ গঠন করা হয়।
মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও পলাতক জীবন
২০২১ সালের ডিসেম্বরে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ও ট্রেজারি বিভাগ র্যাবের সাবেক ও বর্তমান সাত কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়, যার মধ্যে বেনজীর আহমেদের নামও ছিল।
গত ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে তার বিশাল অবৈধ সম্পদের খতিয়ান গণমাধ্যমে আসার পর থেকেই তিনি সপরিবার আত্মগোপনে চলে যান। ধারণা করা হচ্ছিল, তিনি বাংলাদেশ ছেড়ে মধ্যপ্রাচ্য বা ইউরোপের কোনো দেশে আশ্রয় নিয়েছিলেন। পরে তার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত এবং ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার নির্দেশ দেন আদালত।
বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ পুলিশের আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) মহাপরিচালক এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।







