উপদেষ্টাদের কয়েকজনের কূটনৈতিক বা লাল পাসপোর্ট জমা দেওয়ার তথ্য সম্প্রতি আলোচনায় এসেছে। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন ও অর্থ উপদেষ্টা প্রকাশ্যে বিষয়টি স্বীকার করায় স্বাভাবিকভাবেই জনমনে উঠেছে নানা প্রশ্ন লাল পাসপোর্ট কী, এর সুবিধা কী এবং দায়িত্ব শেষ হওয়ার আগেই কেন এটি ফেরত দেওয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশের সাধারণ নাগরিকদের জন্য ইস্যু করা পাসপোর্টের রঙ সবুজ। তবে এর বাইরে নির্দিষ্ট দায়িত্ব পালনের জন্য রয়েছে ডিপ্লোম্যাটিক বা কূটনৈতিক পাসপোর্ট, যা লাল রঙের হওয়ায় ‘লাল পাসপোর্ট’ নামে পরিচিত। এটি কোনো ব্যক্তিগত সম্মান নয়; বরং রাষ্ট্রীয় ও কূটনৈতিক দায়িত্ব পালনের সুবিধার্থে নির্দিষ্ট পদের সঙ্গে সংশ্লিষ্টভাবে ইস্যু করা হয়।
রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী বা প্রধান উপদেষ্টা, মন্ত্রিসভার সদস্য ও উপদেষ্টা, সংসদ সদস্য, রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত পর্যায়ের কর্মকর্তারা এই পাসপোর্ট পেয়ে থাকেন। শর্তসাপেক্ষে তাঁদের স্বামী-স্ত্রী ও নির্ভরশীল সন্তানরাও এর আওতায় আসেন। তবে এই পাসপোর্ট সাধারণত শুধু সরকারি সফরের ক্ষেত্রেই ব্যবহারযোগ্য।
লাল পাসপোর্টের বড় সুবিধা হলো অনেক দেশে ভিসা ছাড়াই বা ভিসা অন-অ্যারাইভাল সুবিধায় ভ্রমণ করা যায়, ইমিগ্রেশনে প্রক্রিয়া সহজ হয় এবং কূটনৈতিক প্রটোকল পাওয়া যায়। তবে এটি আইন ভাঙার কোনো ছাড়পত্র নয়।
দায়িত্ব শেষ হলে লাল পাসপোর্ট জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। সাধারণত ৩০ দিনের মধ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা পাসপোর্ট অধিদপ্তরের নির্ধারিত শাখায় এটি ফেরত দিতে হয়। না দিলে আইনগত ও প্রশাসনিক জটিলতার মুখে পড়ার আশঙ্কা থাকে।
তবে আইন অনুযায়ী দায়িত্ব চলাকালীন সময়েও চাইলে কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দেওয়া যায় এতে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। অতীতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সদস্য, রাষ্ট্রদূত কিংবা বিশেষ দূতদের ক্ষেত্রেও দায়িত্ব শেষ হওয়ার আগেই লাল পাসপোর্ট ফেরত দেওয়ার নজির রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ও নির্বাচনকালীন সংবেদনশীল বাস্তবতায় বিতর্ক এড়ানো, ব্যক্তিগত ও রাষ্ট্রীয় ভ্রমণ আলাদা রাখা, কিংবা ভবিষ্যৎ ভিসা জটিলতা কমানোর লক্ষ্যেই কেউ কেউ আগেভাগে পাসপোর্ট জমা দিচ্ছেন। পররাষ্ট্র উপদেষ্টাও ইঙ্গিত দিয়েছেন—সহজ ভিসা প্রক্রিয়ার বিষয়টি এক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে।
লাল পাসপোর্ট কোনো ব্যক্তিগত পুরস্কার নয়; এটি রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের একটি উপকরণ। দায়িত্ব শেষ হলে যেমন তা ফেরত দিতে হয়, তেমনি প্রয়োজনে দায়িত্ব চলাকালীন সময়েও আগেভাগে জমা দেওয়া আইনের বাইরে নয়। বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিতর্কের ঊর্ধ্বে থাকতে এবং ঝুঁকি এড়াতেই উপদেষ্টাদের কেউ কেউ এই পথ বেছে নিচ্ছেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।








