কাশ্মীরের পেহেলগামে হামলার পর থেকেই ভারত ও পাকিস্তান পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপ নিচ্ছিলো। এরমধ্যে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে পাকিস্তানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায় ভারত। পাকিস্তানও কাশ্মীর সীমান্তে পাল্টা পদক্ষেপ নেয়। এমন পরিস্থিতিতে উদ্বিঘ্ন পুরো বিশ্ব। পারমানবিক শক্তিধর দেশ দু’টি যদি নিজেদের মাঝে পুরোদমে যুদ্ধে যায় তাহলে তার ভার পৃথিবী বহন করতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘের মহাপরিচালক আন্তোনিও গুতেরেস।
বিশ্ব মঞ্চে যখন এমন অবস্থা তখন প্রতিবেশি হিসেবে আমরা কী ভাবছি। কী প্রভাব পড়বে আমাদের অর্থনীতিতে? নিরাপত্তা বিশ্লেষক- অর্থনীতিবীদ থেকে ব্যবসায়ী নেতা সকলে বলছেন সঙ্কার কথা। তারা বলছেন পরোদমে যুদ্ধ বেধে গেলে বাংলাদেশসহ সার্কভূক্ত অন্য প্রতিবেশি দেশগুলোর সমুদ্রপথে সাপ্লাই লাইন বন্ধ হয়ে যাবে। দ্রব্যমূল্যের দাম বেড়ে যাবে। যা জনসাধারণের জীবনযাত্রায় প্রভাব ফেলবে।
এ প্রসঙ্গে নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) ড. মনিরুল ইসলাম আকন্দ বলছেন: ভারত-পাকিস্তান যতটা ক্ষতিগ্রস্ত হবে তার চেয়েও আমরা যারা তাদের প্রতিবেশী হয়ে আছি, বা সারা বিশ্বে এর প্রভাব পড়বে। এটা আমাদের অর্থনীতির ওপর বিশাল প্রভাব ফেলবে। দ্রব্যমূল্যে বেড়ে যাবে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ বলছেন: আমাদের আশা থাকবে যে, বড় আকারে যুদ্ধে তারা যেন না যায়। বড় আকারে যুদ্ধ গেলে যে সাপ্লাই লাইনগুলো আছে, সেগুলো আরও ব্যাহত হবে। সাপ্লাই (সি লাইন) লাইনগুলো যদি ব্যাহত হয় তাহলে আরও বড় ক্ষতি হবে। আমাদের পক্ষ থেকে আশা থাকবে, তারা যেন শান্তির পথ বেছে নেয়। তারা কূটনৈতিক আলোচনার মধ্যে তারা যেন যায়।
সংঘাত পরিস্থিতি সার্কভুক্ত দেশের অর্থনীতির জন্য হুমকি বলে মন্তব্য করেছেন বস্ত্রখাতের নেতারা। বিকেএমইএ এর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলছেন: যুদ্ধে বিগ্রহে যে দেশে হয় সেই দেশ যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়, এর ফলে আশেপাশের দেশও কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ক্ষতিগ্রস্ত আমরাও হবো, কীভাবে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারি। বাংলাদেশের কাঁচামাল আমদানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। সীমান্তে কড়াকড়ি আরোপ করলে সীমান্ত বাণিজ্য অনেকটা বাধাগ্রস্ত হবে।
এমন সঙ্কট নিরসে আন্তর্জাতিক বিশ্বের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।
এদিকে ভারত পাকিস্তান সংঘর্ষ ঘিরে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে চলমান সংঘাত কেন্দ্র করে সীমান্ত ঘেঁষা সব জেলার পুলিশ সুপারদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল ইসলাম।







