গাজায় ইসরায়েলের মানবতাবিরোধী যুদ্ধ, বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা। আর ঠিক এই প্রেক্ষাপটেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করলেন এক নতুন আন্তর্জাতিক উদ্যোগ ‘বোর্ড অব পিস’। তিনি বলছেন, এটি ভবিষ্যতে জাতিসংঘের বিকল্প হয়ে উঠতে পারে। কিন্তু প্রশ্ন হলো; এটা কি সত্যিই শান্তির পথ খুলবে, নাকি জাতিসংঘকে পাশ কাটিয়ে বিশ্ব রাজনীতিতে এক নতুন ক্ষমতার খেলা?
বোর্ড অব পিস হলো যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত একটি আন্তর্জাতিক শান্তি পরিষদ। ২০২৫ সালের অক্টোবরে ইসরায়েল–হামাস যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপের অংশ হিসেবে এই বোর্ডের ঘোষণা আসে। আর নভেম্বরেই চমকপ্রদভাবে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের কাছ থেকে সীমিত মেয়াদের অনুমোদনও পায়। এর লক্ষ্য-প্রথমে গাজায় যুদ্ধবিরতি তদারকি, এরপর ধাপে ধাপে বিশ্বের অন্যান্য সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে কাজ করা।
‘বোর্ড অব পিস’ বিতর্ক
এই বোর্ডের সবচেয়ে বিতর্কিত দিক হলো ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই হবেন এর আজীবন চেয়ারম্যান। আর এই বোর্ডের স্থায়ী সদস্য হতে হলে দিতে হবে ১ বিলিয়ন ডলার! হোয়াইট হাউস বলছে, এই অর্থ গাজার পুনর্গঠনে ব্যয় হবে। কিন্তু সমালোচকরা বলছেন “শান্তির জন্য টাকা দিলে সদস্যপদ?” এটা নজিরবিহীন।
শুধু এখানেই শেষ নয়। এই বোর্ডের প্রতিষ্ঠাতা নির্বাহী কমিটিতে আছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ, ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার, সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার। আর এখানেই প্রশ্ন ওঠে ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধের অন্যতম সমর্থক টনি ব্লেয়ার কি শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রতীক হতে পারেন? আর সবচেয়ে সংবেদনশীল বিষয় হলো, বোর্ড অব পিসে কোনো ফিলিস্তিনি প্রতিনিধি নেই।
অন্যদিকে, গাজা নির্বাহী বোর্ডে একজন ইসরায়েলি ব্যবসায়ী থাকলেও দেশটির সরকার বলছে, “আমাদের সঙ্গে কোনো সমন্বয়ই করা হয়নি।” আবার ফিলিস্তিনি নেতারা বলছেন, “এটা দেখতে অনেকটাই ‘আমেরিকান বোর্ড’, সামান্য আন্তর্জাতিক রঙে মোড়া।” এক কূটনীতিক একে বলছেন, “ট্রাম্প ইউনাইটেড নেশনস।”
চীন, রাশিয়া ও ইউরোপের বহু দেশ এটিকে বৈশ্বিক ব্যবস্থার জন্য ঝুঁকি হিসেবে দেখছে।
শান্তি আসবে কি?
এখন প্রশ্ন হলো তাহলে কি গাজায় শান্তি আসবে? অন্যদিকে বাস্তবতা হলো গাজার প্রায় ৮০ শতাংশ অবকাঠামো ধ্বংসপ্রাপ্ত, লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত এবং সেখানে যুদ্ধবিরতিই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ হামাস নিরস্ত্রীকরণ চায় না একতরফাভাবে আর ইসরায়েল সেনা প্রত্যাহার করবে না নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে। তাই এই জটিল সমীকরণে বোর্ড অব পিস কতটা কার্যকর হবে তা এখনও অনিশ্চিত।
ডোনাল্ড ট্রাম্প বলছেন, “বোর্ড অব পিসের মতো কিছু আগে কখনও হয়নি।” কিন্তু ইতিহাস বলছে, শান্তি শুধু কাঠামো দিয়ে আসে না, আসে বিশ্বাস, ন্যায্যতা আর অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে। এখন বোর্ড অব পিস কি সত্যিই শান্তির নতুন অধ্যায় খুলবে? নাকি এটি হবে আরেকটি বিতর্কিত বৈশ্বিক পরীক্ষা? তবে নতুন অধ্যায় খোলা না খোলা নিশ্চিত না হলেও বোর্ডটি বৈশ্বিক পরীক্ষায় পাশ করুক, সেটাই চাইছেন সারা বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ।








