টম ল্যাথাম, ড্যারিল মিচেল, মার্টিন গাপটিল ও ডেভন কনওয়ের হাফ সেঞ্চুরির কল্যাণে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৫ উইকেটে হারিয়েছে নিউজিল্যান্ড। এর ফলে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিতেছে কিউইরা।
ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে তাদের মাটিতে প্রথমবারের মতো ওয়ানডে সিরিজ জয়ের কীর্তি গড়ল ব্ল্যাক ক্যাপস।
ওয়ানডে সুপার লিগে নির্ধারিত ২৪টি ম্যাচের সবকটি খেলে ফেলল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ৯ জয় ও ১৫ হারে ৯০ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের সাতে থাকা ক্যারিবীয়দের সরাসরি ২০২৩ বিশ্বকাপে খেলা নিয়ে রয়েছে শঙ্কা। অন্যান্য দলের খেলাগুলোর ফলাফলের উপর তাদের ভাগ্য নির্ধারিত হবে।
১০ ম্যাচে ১১ জয় ও এক হারে ১১০ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তৃতীয় স্থানে আছে নিউজিল্যান্ড। ১৮ ম্যাচ খেলে ১২০ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দুই নম্বরে থেকে সরাসরি বিশ্বকাপ খেলার দ্বারপ্রান্তে আছে বাংলাদেশ। সমান ম্যাচে ১২৫ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড।
রোববার বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাতে ব্রিজটাউনে শুরু হওয়া ম্যাচে টসে হেরে আগে ব্যাট করা স্বাগতিকরা কাইল মায়ার্সের সেঞ্চুরি ও নিকোলাস পুরান এবং শাই হোপের হাফ সেঞ্চুরিতে ভর করে ৮ উইকেটে ৩০১ রান করে। জবাবে ১৭ বল হাতে রেখেই বড় লক্ষ্য তাড়া করে ফেলে সফরকারীরা।
ওপেনিং জুটিতে ১৭৩ রানের বড় জুটি গড়েছিলেন হোপ ও মায়ার্স। পেসার ট্রেন্ট বোল্টের শিকারে পরিণত হওয়ার আগে ৩ চার ও এক ছক্কায় ৫১ রানের ইনিংস খেলা হোপের ইনিংস ধীরগতির ছিল। ১০০টি বল তিনি খেলেন।
হোপ আউট হওয়ার পরই দ্রুত বিদায় নেন মায়ার্স। এর আগেই তিনি পান সেঞ্চুরি। ১১০ বলে ১২ চার ও ৩ ছক্কায় ১০৫ রান করে তিনি লুকি ফার্গুসনের বলে মিচেল স্যান্টনারের হাতে ধরা পড়েন।
তিন নম্বরে ব্যাট করতে নামা নিকোলাস পুরান আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করলেও বাকিরা আসা-যাওয়ায় ব্যস্ত থাকেন। চার থেকে আট নম্বরে নামা কোনো ব্যাটার দুই অঙ্কের ঘরে রান করতে পারেননি।
পুরান অল্পের জন্য সেঞ্চুরি মিস করেন। ৫৫ বলে ৪টি চার ও ৯ ছক্কায় ৯১ রানের ইনিংস খেলে স্যান্টনারের হাতে ধরা পড়েন। আলজারি জোসেফ ৬ বলে এক চার ও ৩ ছক্কায় ২০ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে দলকে তিনশ রানের গণ্ডি পার করাতে সহায়তা করেন।
নিউজিল্যান্ডের হয়ে ৩ উইকেট তেন ট্রেন্ট বোল্ট। এছাড়া মিচেল স্যান্টনার দুটি ও টিম সাউদি, লুকি ফার্গুসন ও জেমি নিশাম একটি করে উইকেট নেন।
বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে কিউইরা পরিকল্পনামাফিক ব্যাটিং করে। ২০ রানের মাথায় ওপেনার ফিন অ্যালেনের উইকেট হারালেও সেটি তাদের দুশ্চিন্তায় ফেলেনি। গাপটিলকে নিয়ে দ্বিতীয় উইকেটে ৮২ রানের জুটি গড়েন কনওয়ে। ৬৪ বলে ৫ চার ও এক ছক্কায় ৫৭ রান করা গাপটিল আউট হলে জুটি ভাঙে।
ইয়ানিক ক্যারিয়ার বলে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়েন ৬৩ বলে ৬ চারে ৫৬ রান করা কনওয়ে। চতুর্থ উইকেটে ১২০ রানের জুটি গড়েন ল্যাথাম ও মিচেল। ৪৯ বলে ৬ চার ও এক ছক্কায় ৬৩ করা মিচেলের উইকেট পান ক্যারিয়া। খানিক পর ৭৫ বলে ৬ চারে ৬৯ রান করা ম্যাচ সেরা ল্যাথামের উইকেট নেন জেসন হোল্ডার।
এরপর ষষ্ঠ উইকেটে দ্রুত ৪৮ রান যোগ করে নিউজিল্যান্ডকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন জেমি নিশাম ও মিচেল ব্রেসওয়েল। ১১ বলে এক চার ও ৪ ছক্কায় নিশাম ৩৪ রান করেন। ব্রেসওয়েল ১৪ রানে অপরাজিত থাকেন।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে ক্যারিয়া ও হোল্ডার ২টি ও জোসেফ একটি উইকেট পকেটে পুরেন।







