পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে মমতা ব্যনার্জি নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস ঘিরে। দলের ভেতরে বিদ্রোহী শিবির এখন আগের তুলনায় আরও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে বলে দাবি করেছে তারা।
বিদ্রোহী শিবিরের নেতৃত্বে থাকা কাকলী ঘোষ দস্তিদার জানিয়েছেন, তাদের সমর্থনকারী সংসদ সদস্যের সংখ্যা ২০ থেকে বেড়ে এখন ২২-এ পৌঁছেছে।
কলকাতায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে কাকলি ঘোষ দস্তিদার বলেন, ‘আমরা পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করা এমপিদের সঙ্গে কথা বলেছি। আরও একজন বা দু-জন যুক্ত হবেন। আগে ২০ বলেছিলাম, এখন ২২।’
তিনি আরও দাবি করেন, সবার মতামত শোনা হবে। কোনো একনায়কতন্ত্র থাকবে না।
তবে নতুন দুই এমপির নাম এখনও প্রকাশ করেননি তিনি। আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেওয়ার পরই তা জানানো হবে।
বিদ্রোহী শিবিরের কয়েকজন এমপি শতাব্দী রায়, মালা রায়, প্রসূন ব্যানার্জি ও সায়নী ঘোষ দিল্লিতে বিজেপি নেতা ভূপেন্দ্র যাদব-এর বাসভবনে বৈঠকে অংশ নেন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন নিশিকান্ত দুবে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই বৈঠক বিদ্রোহী শিবিরের কৌশলগত অবস্থানকে আরও স্পষ্ট করছে।
একই সময়ে তৃণমূল কংগ্রেসের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ নেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
তিনি আনুষ্ঠানিক অবস্থান ঘোষণা না করলেও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে এই বৈঠক বিদ্রোহী শিবিরের দিকে তার ঝোঁককে ইঙ্গিত করছে। সূত্রের দাবি, তার যোগদানের মাধ্যমে বিদ্রোহী শিবির আরও শক্তিশালী ও অভিজ্ঞ নেতৃত্ব পেতে পারে।
সূত্র অনুযায়ী, এমপিদের একাংশ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্ব নিয়ে দ্বিধায় ছিলেন। অনেকে মনে করছেন, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের যোগ দিলে বিদ্রোহী শিবিরে নেতৃত্বের ভারসাম্য বদলে দিতে পারে।
এই ঘটনাগুলোর মধ্যেই তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ সংকট আরও গভীর হচ্ছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।
গত নির্বাচনী পরাজয়ের পর মমতা ব্যানার্জির রাজনৈতিক অবস্থান আরও চাপে পড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। রাজ্যের প্রায় ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে অন্তত ৬০ জন ইতিমধ্যেই বিদ্রোহী শিবিরের দিকে ঝুঁকেছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
এছাড়া দলের প্রবীণ নেতা ও সাবেক মন্ত্রী মানস ভূঁইয়া সম্প্রতি দল থেকে পদত্যাগ করেছেন, যা সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, একের পর এক বিদ্রোহ, বৈঠক ও নেতৃত্ব বদলের ইঙ্গিত তৃণমূল কংগ্রেসের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কাঠামোকে বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে ফেলছে।







