প্রধানমন্ত্রী বলেছেন: যাদের এদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন পছন্দ হচ্ছে না তারাই নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। সবটুকু তারা নিজেরা খাবে আর দেশের মানুষ অবহেলায় থাকবে। আজ আমরা ১৭ কোটি মানুষের ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিয়েছি। মাত্র ৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎকে ২৫ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করেছি। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। দেশের মানুষের যাতে কষ্ট না হয় সেজন্য আমরা যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছি।
আজ বেলা ১২ টায় গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক সুইজারল্যান্ড ও কাতার সফর নিয়ে সংবাদ সম্মেলন সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এই কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, কোভিড মহামারির কারণে দেশের অর্থনীতিতে একটা চাপ পরেছিল। তখন তো সারা বিশ্বেই অর্থনৈতিক মন্দা চলছে। এর পর এলো রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। শুরু হলো নিষেধাজ্ঞা, পাল্টা নিষেধাজ্ঞা। এতে সবকিছুরই দাম বেড়ে গেছে। শুধু বাংলাদেশ নয় বরং সারা বিশ্বেই এই অবস্থা। বড় বড় অর্থনীতির দেশগুলোতে দুই-তিনটা ব্যাংক পর্যন্ত বন্ধ হয়ে গেল। অর্থাৎ সারা বিশ্বেই এই অবস্থা চলছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ছোট একটি ভুখণ্ডে বিশাল জনগোষ্ঠীর দেশ। ১৭ কোটি মানুষের খাদ্য, চিকিৎসা, বাসস্থান, শিক্ষাসহ সবকিছু আমাদের পূরণ করতে হয়। আমাদের চাষের জমি সীমিত হওয়া সত্তেও আমরা শস্য উৎপাদন করে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছি।
তিনি বলেন, নির্বাচন নিয়ে একেকজন একেক কথা বলবে এটাই স্বাভাবিক। জাতির পিতাকে হত্যা করার পর আমার ১০ বছরের ছোট ভাইটাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। জাতির পিতার রক্ত জাতে ক্ষমতায় আসতে না পারে তাই ছিল খুনিদের উদ্দেশ্য। সেখানে আমি চারবার ক্ষমতায় এসেছি। দেশের মানুষের উন্নতিও করেছি। আমি নিজে কিছু ভোগ করতে আসিনি। দেশের মানুষের অবস্থার উন্নতি করতে এসেছি।
তিনি আরও বলেন, যারা জাতির পিতার হত্যাকারীদের পুরস্কৃত করেছে, এদেশের গণতন্ত্র হরণ করেছে, স্বাভাবিকভাবে তারা এদেশের মানুষের কল্যাণ চাবে না। তারা একটা ঘোলাটে পরিবেশ তৈরি করতে চাইবে। সেখানে দেশি-বিদেশি সবাই থাকবে। আমাদের দেশের সচেতন নাগরিক এইসবকে কেন গুরুত্ব দিবে? তারা ২০০৯ এর আগের বাংলাদেশ এবং আজকের বাংলাদেশকে বিচার করবে। সচেতন নাগরিকদের সেটাই আগে বিবেচনা করা উচিত।
তিনি বলেন, আমার আত্মবিশ্বাস আছে যে আমি দেশের মানুষের জন্য কাজ করছি। মানুষের পছন্দ হলে ভোট দিবে, না হলে দিবে না। আমরা ভোটের অধিকারের জন্য সংগ্রাম করলাম। আর আমাদের বলে ভোট চোর। তাও যারা আসলে ভোট ডাকাত। যাদের উত্থান হয়েছে ডাকাতি করে, খুন করে।
এর আগে সুইজারল্যান্ডে চারদিনের সফর শেষে শুক্রবার দিনগত রাত ১টা ৫৫ মিনিটে দেশে ফেরেন প্রধানমন্ত্রী। ‘ওয়ার্ল্ড অব ওয়ার্ক সামিট: সোশ্যাল জাস্টিস ফর অল’-এ যোগ দিতে গত মঙ্গলবার চারদিনের সরকারি সফরে জেনেভা যান প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া, গত ২৩-২৫ মে কাতারের রাজধানী দোহায় অনুষ্ঠিত তৃতীয় কাতার ইকোনমিক ফোরামে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী।







