তিতুমীর কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় রূপান্তরের দাবিতে আজও কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থীরা। আজ তারা ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাস ক্লোজডাউন কর্মসূচি পালন করে। তাদের দাবির পক্ষে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত না আসলে আবারও সড়ক-রেলপথ অবরোধ কর্মসূচিতে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
এদিকে সরকারি তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীদের মহাখালী অবরোধের কর্মসূচি ঘিরে কলেজটির সামনে বিপুল পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া মহাখালী রেলগেট, আমতলীসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকাতেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। একইসঙ্গে রাওয়া ক্লাবের সামনে থেকে মহাখালী রেলগেট পর্যন্ত সড়কে সেনাবাহিনীর শতাধিক সদস্যও অবস্থান নিয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) দুপুরের দিকে কলেজের প্রধান ফটকে সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক মতিউর রহমান জয় বলেছেন: আজকে আমাদের দাবিগুলো নিয়ে শিক্ষা উপদেষ্টাসহ সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তারা বসবেন বলে জেনেছি। সেখানে আমাদের প্রতিনিধি দলও থাকবে। এ বৈঠক থেকে দাবি মেনে নেওয়ার সুনির্দিষ্ট আশ্বাস না পেলে বুধবার বেলা ১১টা থেকে সড়ক ও রেলপথ অবরোধ করা হবে।
জানা গেছে: আন্দোলনরত এই শিক্ষার্থীদের ১৪ জনের একটি প্রতিনিধি দল সরকারের আহ্বানে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে গেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছে- মাহমুদ হাসান মুক্তার, মোশাররফ রাব্বি, নেয়েক নূর মোহাম্মদ, আব্দুল হামিদ, নূরুদ্দিন জিসান, মতিউর রহমান জয়, জাহাঙ্গীর সানি, মেহেদী হাসান মাল, আমিনুল ইসলাম, মোহাম্মদ বেল্লাল, আল নোমান নিরব, হাবিবুল্লাহ রনি, মো. তোয়াহা ও কাউসার।
পুলিশের উপস্থিতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছ সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এ সময় তাদের ‘তুমি কে আমি কে, তিতুমীর তিতুমীর’; ‘আমাদের সংগ্রাম চলছে চলবে’; ‘ক্যাম্পাসে পুলিশ কেন প্রশাসন জবাব চাই’; ‘দালালি না রাজপথ, রাজপথ রাজপথ’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে দেখা গেছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সরকারি তিতুমীর কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের দাবিতে সোমবার বেলা ১১টায় মহাখালীর আমতলী, কাঁচাবাজার ও রেলক্রসিংয়ে শত শত শিক্ষার্থী জড়ো হন। তারা তিতুমীর কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরে কমিশন গঠনের দাবি জানান।
শিক্ষার্থীরা মহাখালীতে সড়ক ও রেলপথ অবরোধ করলে রাজধানীজুড়ে চরম যানজট সৃষ্টি হয়। কুর্মিটোলা থেকে বানানী পর্যন্ত রাস্তায় গাড়ি আটকে থাকে। বনানী থেকে তেজগাঁও, তেজগাঁও থেকে বনানী, মহাখালীর আমতলী থেকে জাহাঙ্গীরগেইট এবং মহাখালী থেকে গুলশান পর্যন্ত যান চলাচল বন্ধ থাকে দীর্ঘসময়।
দুপুরে মহাখালী রেলক্রসিংয়ে অবস্থান নেন আন্দোলনকারীরা। তারা রেললাইনে অবস্থান নিলে ‘উপকূল এক্সপ্রেস’ ট্রেনের লোকোমাস্টার ব্রেক কষেন। তবে ট্রেনটি থামে অবরোধস্থল পার হওয়ার পর।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো ভিডিওতে দেখা যায়, ট্রেন ছুটে আসার মধ্যে আন্দোলনকারীরা রেল লাইন থেকে দ্রুত সরে যাওয়ায় বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পান। আর এর মধ্যেই কেউ কেউ ট্রেনটিতে ঢিল ছোড়েন। তাতে এক শিশুসহ বেশ কয়েকজন যাত্রী হন। ফেসবুকে রক্তাক্ত শিশু ও আহত যাত্রীদের ছবি ছড়িয়ে পড়লে নিন্দার ঝড় ওঠে।

তিতুমীর কলেজের সামনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অবস্থান বিকাল ৪টা পর্যন্ত এই অবরোধ চলে। কিছু সময়ের জন্য উঠে গিয়ে তারা আবারও কলেজের সামনের সড়কে বসে পড়েন। রাতেই সবধরনের একাডেমিক কার্যক্রম বর্জনের ঘোষণা করেন প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা।
একইসঙ্গে আজ বেলা ১১টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত মহাখালী অবরোধের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। তবে সকাল থেকেই ক্যা্ম্পাস এলাকায় বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। ফলে ক্যাম্পাস থেকে বের হতে না পেরে ভেতরেই বিক্ষোভ চালিয়ে যেতে থাকেন শিক্ষার্থীরা।
তিতুমীর কলেজ শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবিতে তিন দফা দাবিগুলো হলো : ১. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্তি বাতিল করে ৭ কলেজ থেকে তিতুমীর কলেজকে পৃথক (আলাদা) করতে হবে। ২. তিতুমীর কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের লক্ষ্যে কমিশন গঠন করতে হবে। ৩. তিতুমীরকে একটি স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়নের রূপরেখা প্রণয়ন করতে হবে।







