ক্রিকেট

দিল্লিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন, খোলা চিঠিতে যা বললেন শচীন

শচীন টেন্ডুলকারের ছবি, তিনি একটি ছাদের উপর দাঁড়িয়ে আছেন. Channel i News - চ্যানেল আই নিউজ

শচীন টেন্ডুলকার একটি ছাদের উপর দাঁড়িয়ে আছেন, পেছনে সূর্যাস্তের দৃশ্য দেখা যাচ্ছে।. Channel i News – চ্যানেল আই নিউজ

মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের জেরে উত্তাল হয়ে উঠেছে ভারতের রাজধানী নতুন দিল্লি। প্রশ্নপত্র ফাঁসসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনরতের পাশে দাঁড়িয়েছেন বিভিন্ন পেশার মানুষ। এবার শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে খোলা চিঠি লিখলেন ভারতের কিংবদন্তি সাবেক ক্রিকেটার শচীন টেন্ডুলকার।

বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্টে করে শচীন তরুণদের জন্য এমন পরিবেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন, যেখানে কঠোর পরিশ্রম ও সততা যথাযথ স্বীকৃতি পাবে।

চিঠিতে শচীন স্মরণ করেন তার বাবার শেখানো মূল্যবোধের কথা। লিখেছেন, ‘আমার বাবা একজন অধ্যাপক ছিলেন। তিনি বহু তরুণ শিক্ষার্থীর পরামর্শদাতা এবং পথপ্রদর্শক ছিলেন। তিনি জীবনের শুরুর দিকেই যে একটি শিক্ষা মননে গেঁথে দিয়েছিলেন তা হলো, ব্যর্থ হওয়া ঠিক আছে, কিন্তু প্রতারণা বা নকল করা নয়। কখনোই সহজ পথ (শর্টকাট) বেছে নেবে না।’

শচীনের মতে, শিক্ষার্থীরা যখন কঠোর পরিশ্রমের যথাযথ মূল্য না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়ে, তখন সমাজের প্রতিটি মানুষের দায়িত্ব তাদের পাশে দাঁড়ানো। অভিভাবক, শিক্ষক, বন্ধু, আত্মীয়স্বজন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং প্রশাসন-সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এমন একটি সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে, যেখানে সততা ও পরিশ্রমই হবে সাফল্যের প্রধান ভিত্তি।

বলেছেন, ‘সমাজের প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে সংস্কৃতি বা সমাজকে রূপ দেওয়ার দায়িত্ব আমাদেরই। যে সমাজ প্রচেষ্টার চেয়ে ফলাফলকে বেশি প্রাধান্য দেয়, তারা মেধার চেয়ে সহজ পথের দিকেই বেশি ঝুঁকবে। আজ যখন শিক্ষার্থীরা অনুভব করে যে তাদের কঠোর পরিশ্রমের যোগ্য ফল পাওয়া যায়নি, তখন তাদের এই হতাশ হওয়াটা স্বাভাবিক। আমাদের সবার সম্মিলিতভাবে একসাথে কাজ করা উচিত যাতে তাদের আর কখনো এমনটা অনুভব করতে না হয়।’

তিনি আরও লিখেছেন, তরুণ ভারত স্বপ্ন এবং শক্তিতে ভরপুর। তারাই আমাদের সাফল্যের জ্বালানি। সমাজ হিসেবে অভিভাবক, শিক্ষক, বন্ধু, আত্মীয়-স্বজন, বিদ্যালয় এবং প্রশাসকসহ আমাদের সবারই একটি বিশাল দায়িত্ব রয়েছে এবং আমাদের তরুণেরা যাতে সর্বদা উৎসাহিত ও প্রাণবন্ত থাকে, তা নিশ্চিত করতে সবারই ভিন্ন ভিন্ন ভূমিকা পালন করার আছে।

আশার বাণী শুনিয়ে শচীন লেখেন, ‘আমাদের এমন একটি সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে যেখানে কঠোর পরিশ্রমের পুরস্কার দেওয়া হবে, সততাকে উৎসাহিত করা হবে এবং মেধার জয় হবে। আমি নিশ্চিত যে আমরা সবাই এমন সমাধান খুঁজে পাব যা আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎকে সুদৃঢ় করবে এবং তাদের আকাঙ্ক্ষাকে সুরক্ষিত করবে।’

বিষয়:আন্দোলন ভারত শচীন সিজেপি

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…