মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এবং তাদের নীতির সমালোচকদের ভিসা বাতিলের জন্য কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।
নিউইয়র্ক টাইমস এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৫ মার্চ এক বার্তার মাধ্যমে কনস্যুলার কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কিছু নির্দিষ্ট শিক্ষার্থী এবং এক্সচেঞ্জ ভিজিটর ভিসা আবেদনকারীদের বাধ্যতামূলকভাবে সামাজিক মাধ্যম পরীক্ষা করা হচ্ছে।
এই নির্দেশের ফলে কর্মকর্তারা যদি কোনো আবেদনকারীর অনলাইন কার্যকলাপের মাধ্যমে “মার্কিন নাগরিক বা মার্কিন সংস্কৃতির প্রতি শত্রুভাবাপন্ন মনোভাব” দেখতে পান, তাহলে তাদের ভিসা প্রত্যাখ্যান করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
এই পদক্ষেপটি প্রথম শুরু হয়েছিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম ক্ষমতার আমল থেকে। ট্রাম্পের সময়ে ফিলিস্তিনপন্থী ছাত্র বিক্ষোভকারীদের মতো বিদেশি নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, যিনি এই ধরনের নীতির একজন কট্টর সমর্থক, গত সপ্তাহে বলেছেন যে সম্প্রতি ৩০০টিরও বেশি ভিসা বাতিল করা হয়েছে। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আমরা তোমাদের পড়াশোনা করার জন্য ভিসা দেই। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসগুলোতে ভাঙচুর করা সামাজিক কর্মী হওয়ার জন্য নয়।
এই নীতির কারণে ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীকে আটক ও ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। তুর্কি পিএইচডি শিক্ষার্থী রুমেইসা ওজতুর্ককে গত সপ্তাহে আইসিই (ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট) এজেন্টরা গ্রেপ্তার করে।
তার আইনজীবীর ধারণা, ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের সমালোচনামূলক এবং ফিলিস্তিনিদের অধিকারের সমর্থনমূলক একটি বিশ্ববিদ্যালয় পত্রিকার নিবন্ধে সহ-লেখক হওয়ার কারণেই তাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের একজন মুখপাত্র নিশ্চিত করেছেন, ২০১৯ সাল থেকে ভিসা আবেদনকারীদের তাদের সোশ্যাল মিডিয়ার তথ্য প্রদান করতে বলা হচ্ছে। তবে তিনি বিশেষভাবে মার্চের এই নতুন নির্দেশিকা নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।
এই নতুন ভিসা নীতি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী এবং শিক্ষাবিদদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
সমালোচকরা বলছেন, এটি বাকস্বাধীনতা এবং একাডেমিক স্বাধীনতার ওপর আঘাত এবং এর মাধ্যমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনাকে দমন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এই নীতির দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব কতটা সুদূরপ্রসারী হবে, তা এখন দেখার বিষয়।







