আন্তর্জাতিক

চড়ের ভিডিও ভাইরাল: সিনেমাকেও হার মানায় ম্যাক্রোঁ দম্পতির প্রেম কাহিনী

ম Macron দম্পতির প্রেমের ভিডিও ভাইরাল, সিনেমাকেও হার মানায়. Channel i News - চ্যানেল আই নিউজ

ম Macron দম্পতি বিমানবন্দরে দেখা যাচ্ছে, একে অপরের সঙ্গে প্রেমের মুহূর্তে।. Channel i News – চ্যানেল আই নিউজ

অডিও সংবাদএই খবরটি পডকাস্টে শুনুন

ভিয়েতনাম সফরের সময় বিমানবন্দরে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ও তার স্ত্রী ব্রিজিত ম্যাক্রোঁর একটি মুহূর্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে গেছে। ভিডিওটিতে দেখা যায়, ব্রিজিত ম্যাক্রোঁ স্বামীর মুখ একপ্রকার ঠেলে সরিয়ে দিচ্ছেন।

আজ (২৭ মে) মঙ্গলবার প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে এনডিটিভি জানিয়েছে, অনেকেই এটিকে ‘চড়’ বলে অভিহিত করেছেন। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে ফরাসি প্রেসিডেন্ট দম্পতির দীর্ঘদিনের আলোচিত প্রেম কাহিনী।

১৯৯৩ সালে ফ্রান্সের আমিয়ঁ শহরের ক্যাথলিক বিদ্যালয়ে প্রথম পরিচয় হয় ইমানুয়েল ও ব্রিজিতের। তখন ব্রিজিতের বয়স ছিল ৩৯ এবং তিনি ছিলেন একজন স্কুলশিক্ষিকা। আর ইমানুয়েলের বয়স ছিল মাত্র ১৫ বছর; তিনি ছিলেন ব্রিজিতের ছাত্র। তখন ব্রিজিত বিবাহিত ছিলেন এবং তিন সন্তানের জননী। তার বড় মেয়েটিও ইমানুয়েলের সহপাঠী ছিল।

ফরাসি সাংবাদিক মায়েল ব্রুনের লেখা ‘ব্রিগিটতে মাক্রোন: যান উঁফেটারেদ ওম্যান’ বই অনুসারে, ১৯৯৪ সালের গ্রীষ্মে ব্রিজিত ও ইমানুয়েলের সম্পর্ক পরিবারের নজরে আসে যখন তারা দুজনকে একসঙ্গে পুলের পাশে রোদ পোহাতে দেখেন। পরে ব্রিজিত ও তার প্রথম স্বামীর বিচ্ছেদ হয়।

ইমানুয়েলের এক সাবেক ক্রীড়া শিক্ষক ড্যানিয়েল লেলেউ বলেন, ১৫ বছর বয়সেই ম্যাক্রোঁর মানসিক পরিপক্বতা ছিল ২৫ বছরের মতো। তিনি সহপাঠীদের চেয়ে শিক্ষকদের সঙ্গেই সময় কাটাতে পছন্দ করতেন। তাদের সম্পর্ক স্থানীয়ভাবে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি করে। কেউ কেউ ব্রিজিতের পরিবারের ঠিকানায় বেনামী হুমকিপূর্ণ চিঠি পাঠাত, কেউবা তাদের বাড়ির দরজায় থুতু দিতেন।

এক পর্যায়ে ইমানুয়েল প্যারিসে চলে যান উচ্চশিক্ষা নিতে। সে সময় ব্রিজিত ধারণা করেছিলেন এই সম্পর্ক টিকবে না। তিনি এক সাক্ষাৎকারে বলেন, আমার মাথা তখন এলোমেলো ছিল।

তবে দূরত্বের মাঝেও যোগাযোগ অটুট রাখেন দুজন। অবশেষে ২০০৭ সালে লে তুকুয়েতে তাদের বিয়ে হয়—যেখানে ব্রিজিত ১৯৭৪ সালে তার প্রথম স্বামীর সঙ্গেও বিয়ে করেছিলেন। ২০১৪ সালে ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ফ্রান্সের অর্থমন্ত্রী নিযুক্ত হলে ব্রিজিত চাকরি ছেড়ে স্বামীর রাজনৈতিক যাত্রায় পূর্ণ সমর্থন দিতে শুরু করেন।

এক সাক্ষাৎকারে ব্রিজিত বলেন, জীবনের কিছু মুহূর্তে আপনাকে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়। হ্যাঁ, আমরা একসঙ্গে সকালের নাশতা করি—আমি আমার বয়স আর বলিরেখা নিয়ে, আর সে তার তারুণ্য নিয়ে। তবে এটাই বাস্তব।

তবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় তাদের সম্পর্কেও গুজব ছড়িয়ে পড়ে। তখন দাবি ওঠে, ইমানুয়েল গোপনে রেডিও ফ্রান্সের এক প্রধানের সঙ্গে সম্পর্কে রয়েছেন, আর ব্রিজিত নাকি ‘আবরণ মাত্র’।  ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ তখন এসব গুজব সরাসরি অস্বীকার করেন। সেই সময় ব্রিজিত মানসিকভাবে প্রচণ্ড আঘাত পান বলে মায়েল ব্রুনের বইয়ে উল্লেখ আছে।

সাম্প্রতিক ভাইরাল ভিডিও প্রসঙ্গে ম্যাক্রোঁ বলেন, আমার স্ত্রী ও আমি মজা করছিলাম মাত্র। কিন্তু সেই মুহূর্তকে যেন বিশ্বব্যাপী কোনও দুর্যোগ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। সবাইকে শান্ত হওয়া উচিত।

বিষয়:ইমানুয়েল ম্যাঁক্রো ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ভাইরাল

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…