বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অন্য কোনো দেশের হস্তক্ষেপ সমর্থন করে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছে চীন। তিস্তা মহাপরিকল্পনাসহ বাংলাদেশের উন্নয়ন-সংক্রান্ত বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার বাংলাদেশেরই রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ঢাকায় চীন দূতাবাসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, তিস্তা প্রকল্প নিয়ে অন্য কোনো দেশ কী ভাবছে, সেটি তাদের নিজস্ব বিষয়। তবে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বাইরের কোনো হস্তক্ষেপ চীন সমর্থন করে না। করিডোর উন্নয়ন বা আঞ্চলিক সংযোগে অন্য কোনো দেশ অংশ নিতে চাইলে তাতেও চীনের কোনো আপত্তি নেই।
সম্প্রতি বাংলাদেশ থেকে উচ্চপর্যায়ের সফরের প্রসঙ্গ তুলে ইয়াও ওয়েন বলেন, গত তিন বছরে বাংলাদেশের তিনটি ভিন্ন সরকারের প্রধান বেইজিং সফর করলেও এবারের সফরে দুটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে। এর মধ্যে প্রথমবারের মতো দুই দেশের মধ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। আগে এ ধরনের বৈঠক পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ে সীমাবদ্ধ ছিল।
তিনি আরও জানান, এবারের সফরে প্রথমবারের মতো কূটনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি সামরিক পর্যায়েও ‘টু-প্লাস-টু’ কাঠামোয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মাধ্যমে দুই দেশের কৌশলগত সহযোগিতার পরিধি আরও বিস্তৃত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে চীনের সম্পর্ক প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সময় থেকেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সঙ্গে চীনের সুসম্পর্ক রয়েছে। তবে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সঙ্গে নয়, চীনের সম্পর্ক বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে।
ইয়াও ওয়েন বলেন, বাংলাদেশে যে সরকারই ক্ষমতায় থাকুক না কেন, পারস্পরিক সম্মান, উন্নয়ন সহযোগিতা ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চীন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও জোরদারে ভবিষ্যতেও বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।








