তিন দফা দাবী নিয়ে কাকরাইল মসজিদের পাশে ও প্রধান বিচারপতির বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবির এই আন্দোলন সংহতি জানিয়েছে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতারা৷
বুধবার (১৪ মে) সন্ধ্যায় ছাত্র সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতারা শিক্ষার্থীদের পাশে দাড়িয়েছেন৷ দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাদের পাশে থাকবেন বলেও জানিয়েছেন তারা।
সমাবেশে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের সদস্য সচিব জাহিদ আহসান বলেন, ছাত্রদের রক্তের ওপর দাড়িয়ে যে সরকার হয়েছে সে সরকার কেন এখন রক্ত ঝরাচ্ছে? ছাত্রদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে ক্ষমতা ভোগ করবেন আর ছাত্রদের যৌক্তিক দাবি নিয়ে কথা বলবেন না এটা আমরা মেনে নিব না। কেন ছাত্রদের গায়ে লাঠি উঠলো, সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করলো তার জবাব ডিএমপিকে দিতে হবে। জগন্নাথের বাজেট বাড়ার পরিবর্তে কেন কমানো হয়েছে? যতদিন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা একতাবদ্ধ থাকবে ততদিন তাদের যৌক্তিক দাবিতে তারা সফল হবে।
ইসলামি ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ইতিহাস ঐতিহ্যের সাথে জড়িত। সকল আন্দোলনে জবি সম্পৃক্ত ছিল। কিন্তু জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যে সুযোগ সুবিধা পাওয়ার কথা সেই সুযোগ সুবিধা থেকে বরাবরই বঞ্চিত। শিক্ষার্থীদের সাথে উচ্চ শিক্ষার নামে প্রতারণা করা হয়। জবিয়ানদেরকে বারবার আশ্বস্ত করা হয় কিন্তু দাবি বাস্তবায়ন হয় না।
তিনি বলেন, যেই সরকার শিক্ষার্থীদের রক্তের উপর দাঁড়িয়ে আছে শিক্ষার্থীদের সাথে এমন আচরণ করতে পারে না এই সরকার। অতি উৎসাহী হয়ে যারা আন্দোলন তাদেরকে বিচার করতে হবে। এখানে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের যে দাবি আছে এ দাবি শিক্ষার্থীদের জন্য অবশ্যই ঘোষণা আসতে হবে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সাবেক শিক্ষার্থী হিসেবে আমি বলছি শিক্ষার্থীদের এই ন্যায্য দাবি দ্রুত মেনে নেয়া উচিৎ। দাবি আদায় না হওয়া মেনে নেওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চলছে। চলবে।
ছাত্র অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লা বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের পাশে আছে ছাত্র অধিকার পরিষদ। কিছুদিন পূর্বে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একটা স্লোগান উঠেছিল আমার মনে হয় সেই কারণেই উপদেষ্টা পরিষদের এই ক্ষোভ। ঢাকার মধ্যে একটা বিশ্ববিদ্যালয় তাদের আবাসন সুবিধা পাবে না তা হয় না৷
সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সভাপতি বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের জন্য যে বাজেট থাকার কথা ছিল তা নেই। তারা তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আজকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের সাথে বৈষম্য করা হচ্ছে। যে রাষ্ট্রের শিক্ষার্থীদের দায়িত্ব নেয়ার কথা সেই দায়িত্ব তো নিচ্ছে-ই না, বরং তাদের উপর লাঠিচার্জ করছে৷ আমরা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবির পাশে আছি, আপনাদের আন্দোলন আরও বেগবান হোক।
ইসলামি ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ এর সাধারণ সম্পাদক শেখ মাহবুবুর রহমান বলেন, আজ শিক্ষার্থীরা যদি চাইতো যমুনায় অবশ্যই যেতে পারতো, কিন্তু শিক্ষার্থীরা রাষ্ট্রের আইনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তা করে নাই। কিন্তু তাই বলে শিক্ষার্থীরা তাদের অধিকার আদায় থেকে পিছু হতে পারে না। রাষ্ট্রের উচিত হবে অনতিবিলম্বে জবি শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবি মেনে নেয়া। যতক্ষণ পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের এই দাবি মানা না হচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত ইসলামি ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ জবি শিক্ষার্থীদের পাশে আছে।








