সালমানের স্টুডিও ভাঙচুর: চাঁদাবাজির অভিযোগে প্রমাণ চান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুর ও চাঁদা দাবির অভিযোগ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা মামলা ছাড়া ঢালাও অভিযোগের কোনো আইনি ভিত্তি নেই। ভুক্তভোগী নিজেই স্বীকার করেছেন, তার কাছে কেউ চাঁদা দাবি করেনি বলেও জানান তিনি।
রোববার দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুরের ঘটনা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ক্যান্টনমেন্ট থানার মানিকদী এলাকায় প্রায় ৩৫ কাঠা একটি জমি নিয়ে নিউ গিনি প্রপার্টিজ নামের একটি বিল্ডার গোষ্ঠী ও একজন অবসরপ্রাপ্ত ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তার মধ্যে মালিকানা বিরোধ রয়েছে। ওই বিরোধপূর্ণ জমিতে রাতের আঁধারে এক পক্ষ দখলের চেষ্টা করলে সালমান মুক্তাদিরের টিনশেড স্টুডিও ভাঙচুর করা হয়।
তিনি জানান, ৯৯৯-এ কল পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় গুলির খোসাসহ কিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার পর ফেসবুক লাইভে এসে বিএনপিকে চাঁদাবাজ দল হিসেবে অভিযোগ করার প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভুক্তভোগী নিজেই জানিয়েছেন, তার কাছে কেউ চাঁদা দাবি করেনি। তাই সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা মামলা ছাড়া এ ধরনের ঢালাও অভিযোগের আইনি ভিত্তি নেই।
মন্ত্রী বলেন, সালমান মুক্তাদির লিখিত অভিযোগ বা মামলা করলে পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে পুরো বিষয়টি তদন্ত করবে।
জাসদ কার্যালয়ে অভিযান প্রসঙ্গে যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
রাজধানীর জাসদ কার্যালয়ে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বৈঠক ও সেখানে পুলিশের অভিযান প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গোপন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, ওই কার্যালয়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের কিছু সদস্য একত্রিত হয়ে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা করছিলেন।
ওই তথ্যের ভিত্তিতেই পুলিশ সেখানে অভিযান চালায় বলে জানান তিনি। অভিযানের পর প্রাথমিকভাবে প্রায় ২৮০ জনকে আটক করা হলেও তাদের বেশিরভাগকেই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ২৭ জনকে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে রাখা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, উদ্ধার করা মোবাইল ফোনের ফরেনসিক পরীক্ষা এবং অন্যান্য তথ্য যাচাই করে নাশকতায় জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কাউকে অযথা হয়রানি করার উদ্দেশ্যে অভিযানটি চালানো হয়নি বলেও জানান তিনি।
শাহআলীতে ক্লিনিকে হামলা, ওসি প্রত্যাহার
মিরপুরের শাহআলী থানা এলাকায় রাড্ডা ক্লিনিকে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা ও দায়িত্বে অবহেলার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেন, গত ২৫ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে ওই হামলার ঘটনা ঘটে। এর পরপরই শাহআলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) প্রত্যাহার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ঘটনাটি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণের জন্য ডিএমপি কমিশনারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত নয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে। উদ্ধার করা হয়েছে বেশ কিছু মালামাল ও আলামত।
ঘটনায় জড়িত সব অপরাধীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
অপরাধীর রাজনৈতিক পরিচয় নেই
সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর যেকোনো অপচেষ্টা কঠোর হাতে দমন করা হবে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে দল-মত নির্বিশেষে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘অপরাধীর কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই। অপরাধী সে অপরাধীই।’
ককটেল বিস্ফোরণ ও রাজপথের আন্দোলন নিয়ে এক নেতার সাম্প্রতিক বক্তব্য প্রসঙ্গে মন্ত্রী বক্তব্যটিকে ‘অসংলগ্ন ও ভারসাম্যহীন’ বলে মন্তব্য করেন। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য না করে বিষয়টি মূল্যায়নের দায়িত্ব সচেতন জনগণের ওপর ছেড়ে দেন তিনি।
পুলিশ কর্মকর্তাদের বদলি প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দায়িত্বে অবহেলা বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে শুধু বদলিই শেষ পদক্ষেপ নয়। কোনো কর্মকর্তা রাষ্ট্রদ্রোহিতা বা অন্য কোনো ফৌজদারি অপরাধে জড়িত থাকলে বিভাগীয় ব্যবস্থার পাশাপাশি নিয়মিত মামলায়ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
পুলিশ বাহিনীতে অপরাধ কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকার জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে।







