তথ্যপ্রযুক্তি

এআই দিয়ে লাখো গান আর বট দিয়ে বিলিয়ন স্ট্রিম, শেষে ১৮ মাসের জেল

এআই দিয়ে লাখো গান আর বট দিয়ে বিলিয়ন স্ট্রিম, শেষে ১৮ মাসের জেল

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি গান প্রায় ১০ হাজার বট অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে বিলিয়নবার স্ট্রিম করিয়ে ৮০ লাখ ডলারের বেশি রয়্যালটি হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে ১৮ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, দণ্ডপ্রাপ্ত মাইকেল স্মিথের বয়স ৫৪ বছর। সংগীত স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম ও শিল্পীদের রয়্যালটি থেকে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ নেওয়ার পরিকল্পনায় অংশ নেওয়ার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল।

২০২৬ সালের ১৯ মার্চ তার বিরুদ্ধে আনা তারবার্তা জালিয়াতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ স্বীকার করেন স্মিথ। কারাদণ্ডের পাশাপাশি তাকে দুই বছরের তত্ত্বাবধানে মুক্তি এবং ৮০ লাখ ৯১ হাজার ৮৪৩ ডলার ৬৪ সেন্ট বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

প্রসিকিউটরদের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত তিন ধাপে প্রতারণাটি চালান স্মিথ। প্রথমে অ্যামাজন মিউজিক, অ্যাপল মিউজিক, স্পটিফাই ও ইউটিউব মিউজিকের মতো প্ল্যাটফর্মে হাজার হাজার ভুয়া অ্যাকাউন্ট তৈরি করেন তিনি।

এসব অ্যাকাউন্টে ভুয়া ই-মেইল ঠিকানা এবং প্রতারণার মাধ্যমে সংগ্রহ করা ডেবিট কার্ড ব্যবহার করা হতো। পরে সফটওয়্যারের মাধ্যমে ওই অ্যাকাউন্টগুলো দিয়ে স্মিথের মালিকানাধীন গান বারবার স্ট্রিম করা হতো। এসব গানের বেশিরভাগই এআই ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছিল।

প্রতারণা ধরা পড়া এড়াতে একটি গানেই অস্বাভাবিক সংখ্যক স্ট্রিম না দেখিয়ে হাজার হাজার গানের মধ্যে স্ট্রিম ছড়িয়ে দিতেন স্মিথ। এতে কোনো নির্দিষ্ট গানে অস্বাভাবিক স্ট্রিমিংয়ের ধরন তৈরি হতো না।

প্রসিকিউটররা জানান, দ্রুত বিপুলসংখ্যক গান তৈরির জন্য স্মিথ এআই ব্যবহার করে কয়েক লাখ গান তৈরি করেন। পরে তার নিয়ন্ত্রণে থাকা বট অ্যাকাউন্টগুলো দিয়ে এসব গান বিলিয়নবার স্ট্রিম করা হয়। এভাবে তিনি ৮০ লাখ ডলারের বেশি রয়্যালটি আয় করেন।

সাধারণত কোনো গান স্ট্রিম হলে গীতিকার, শিল্পী ও অন্যান্য স্বত্বাধিকারীরা নির্দিষ্ট অংশের অর্থ পান। স্ট্রিমিং থেকে পাওয়া অর্থের একটি যৌথ তহবিল থেকে স্ট্রিমের অনুপাতে এই অর্থ বণ্টন করা হয়। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, স্মিথের ভুয়া স্ট্রিমের কারণে প্রকৃত শিল্পীরা তাদের প্রাপ্য রয়্যালটির একটি অংশ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

ঘটনার ব্যাপকতা বোঝাতে প্রসিকিউটররা স্মিথের স্ট্রিমিংয়ের সঙ্গে মার্কিন গায়িকা টেইলর সুইফটের স্ট্রিমিংয়ের তুলনা করেন। ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে শুধু ইউটিউব মিউজিকের ফ্যামিলি প্ল্যান ব্যবহার করে স্মিথের বট অ্যাকাউন্টগুলো তার এআই-নির্মিত গান ৮ কোটি ৯ লাখ বার স্ট্রিম করে। একই সময়ে ওই প্ল্যাটফর্মের ফ্যামিলি প্ল্যানে টেইলর সুইফটের পুরো গানের সংগ্রহ স্ট্রিম হয় ৯৩ লাখ বার।

যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেমি ম্যাকডোনাল্ড বলেন, প্রযুক্তির সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে স্মিথ প্রতারণার একটি ব্যবস্থা তৈরি করেছিলেন। ভোক্তার জায়গায় স্বয়ংক্রিয় বট এবং সৃষ্টিশীলতার জায়গায় ভুয়া গান ব্যবহার করে তিনি প্রকৃত শিল্পী ও তাদের ভক্তদের প্রাপ্য রয়্যালটির অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন।

মামলাটিকে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স-সহায়িত মিউজিক স্ট্রিমিং প্রতারণা’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পরিবর্তে সরকারি নথিতে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ শব্দ ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়ার পর এই মামলার ঘোষণাতেও নতুন পরিভাষাটি ব্যবহার করা হয়েছে।

বিষয়:এআই গান স্ট্রিম কারাদণ্ড কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মার্কিন যুবক

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…