আন্তর্জাতিক

১৯ মাসের মধ্যে ওয়াল স্ট্রিটে সবচেয়ে বড় দরপতন

১৯ মাসের মধ্যে ওয়াল স্ট্রিটে সবচেয়ে বড় দরপতন

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বড় জয়ের পর ওয়াল স্ট্রিটে শুরু হওয়া শেয়ারবাজারে ব্যাপক দরপতন হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে প্রযুক্তিনির্ভর নাসডাক কম্পোজিট। একই সঙ্গে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ ও ডাও জোন্স সূচকেও বড় পতন হয়েছে। বাজারে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগের মাত্রা পরিমাপক সূচকও বেড়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বরাত দিয়ে এনডিটিভি জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার নাসডাক কম্পোজিট সূচক ৫ দশমিক ৫২ শতাংশ কমেছে। গত ১৯ মাসের মধ্যে এক দিনে এটিই সূচকটির সবচেয়ে বড় পতন। একই দিনে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক কমেছে ৪ দশমিক ৩৬ শতাংশ এবং ডাও জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজ কমেছে ৩ দশমিক ৪৪ শতাংশ। তিনটি সূচকেই ২০২৫ সালের এপ্রিলের পর সবচেয়ে বড় দৈনিক পতন দেখা গেছে।

এ ছাড়া নাসডাক ১০০ সূচক এক দিনেই কমেছে ৬ দশমিক ৩৬ শতাংশ। ২০২০ সালে করোনা মহামারির কারণে শেয়ারবাজারে ধসের পর এটিই সূচকটির সবচেয়ে বড় দৈনিক পতন।

বাজারে এই ধসের পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও সেমিকন্ডাক্টর খাতের শেয়ারে ব্যাপক বিক্রির চাপকে। চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যাডভান্সড মাইক্রো ডিভাইসেসের (এএমডি) শেয়ারের দাম কমেছে ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ। মাইক্রন টেকনোলজির শেয়ার কমেছে ১৭ দশমিক ৫ শতাংশ। এনভিডিয়ার শেয়ারের দাম কমেছে ৯ দশমিক ৩ শতাংশ, যা ২০২৫ সালের জানুয়ারির পর প্রতিষ্ঠানটির সবচেয়ে বড় পতন। স্মার্টফোনের চিপ বিক্রির পূর্বাভাস বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারায় কোয়ালকমের শেয়ারও কমেছে ৯ দশমিক ৫ শতাংশ।

শুধু চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান নয়, এআই প্রযুক্তির অবকাঠামো নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত কোম্পানিগুলোর শেয়ারেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। গত এক বছরে এআই প্রযুক্তির প্রসার, ডেটা সেন্টার নির্মাণ এবং কম্পিউটিং সক্ষমতার চাহিদা বৃদ্ধির প্রত্যাশায় এসব প্রতিষ্ঠানে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করেছেন বিনিয়োগকারীরা। তবে শেয়ারের অতিরিক্ত মূল্যায়ন এবং ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ নিয়ে সংশয় তৈরি হওয়ায় এখন বিক্রির চাপ বাড়ছে।

এদিকে ডেমোক্র্যাটদের নির্বাচনী জয়ও প্রযুক্তি খাতে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। নির্বাচনী প্রচারে দলটির কয়েকজন প্রার্থী দ্রুত এআই ডেটা সেন্টার সম্প্রসারণের বিরোধিতা করেছিলেন। তাদের উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে বিদ্যুতের অতিরিক্ত ব্যবহার, পরিবেশের ওপর প্রভাব এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি। ফলে নতুন সরকারের নীতিতে ডেটা সেন্টার নির্মাণে নিয়ন্ত্রণ, বিধিনিষেধ কিংবা প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্বের আশঙ্কা করছেন বিনিয়োগকারীরা।

এর পাশাপাশি নির্বাচনের পর শেয়ারবাজারে বড় উত্থানের সুযোগে অনেক বিনিয়োগকারী মুনাফা তুলে নিয়েছেন। ৪ নভেম্বর নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর ডাও জোন্স সূচক লেনদেনের শুরুতেই এক হাজার পয়েন্টের বেশি বেড়েছিল। এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচকও তিন মাসের মধ্যে এক দিনে সবচেয়ে বড় শতকরা উত্থান দেখেছিল। কিন্তু পরদিন বাজার খুলতেই বিক্রির চাপ বাড়তে থাকে। বিশেষ করে এআই ও সেমিকন্ডাক্টর খাতের শেয়ারে দরপতন ছড়িয়ে পড়ে পুরো বাজারে।

উল্লেখ্য, মধ্যবর্তী নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেয়েছে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি। এতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন রিপাবলিকানদের একক নিয়ন্ত্রণের অবসান হয়েছে। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক উদ্বেগ এবং ইরান যুদ্ধসহ সরকারের বিভিন্ন নীতির প্রতি অসন্তোষকে এই ফলের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিনির্ধারণ ও বাকি মেয়াদের কার্যক্রমে ডেমোক্র্যাটরা গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তারের সুযোগ পাবে।

রাজনৈতিক পরিবর্তনের পাশাপাশি এআই খাতের ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ ও কোম্পানিগুলোর শেয়ারের অতিরিক্ত মূল্যায়ন নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় ওয়াল স্ট্রিটে এই বড় দরপতন ঘটেছে।

বিষয়:এআই এসঅ্যান্ডপি ওয়াল স্ট্রিট কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ডেমোক্র্যাট নাসডাক কম্পোজিট

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…