মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ কার্যত শেষ হয়েছে। তবে এ দাবি সত্ত্বেও মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ও প্রাণঘাতী হামলা অব্যাহত রয়েছে।
সংবাদমাধ্যম দ্যা টাইমস অফ ইন্ডিয়া এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
বুধবার (৩ জুন) মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটিতে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে রুবিও বলেন, আমরা আর ইরানের অভ্যন্তরে তাদের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করার উদ্দেশ্যে ধারাবাহিক হামলা চালাচ্ছি না, কারণ ‘এপিক ফিউরি’ শেষ হয়েছে। তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র এই যুদ্ধে নিজেদের লক্ষ্য অর্জন করেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান, যার নাম ছিল অপারেশন এপিক ফিউরি, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে প্রথম হামলার মাধ্যমে শুরু হয়। এরপর সংঘাত পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়ে।
এর জবাবে ইরান অঞ্চলজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল ও গ্যাস পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে।
রুবিও বলেন, আমরা বিজয়কে সংজ্ঞায়িত করি তাদের প্রতিরক্ষা শিল্পভিত্তি ধ্বংস করা, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা এবং ড্রোনের মজুত হ্রাস করার মাধ্যমে।
তিনি আরও দাবি করেন, এসব লক্ষ্য অর্জনের পাশাপাশি আমরা তাদের অবশিষ্ট বিমানবাহিনী ধ্বংস করেছি এবং প্রচলিত নৌবাহিনী সম্পূর্ণভাবে অকার্যকর করে দিয়েছি।
তবে ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা রুবিওর এই বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন। তাদের মতে, সংঘাত এখনো চলমান এবং পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে।
বুধবার ইরানের হামলায় কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর আক্রান্ত হলে একজন নিহত এবং ৬৩ জন আহত হন। বিশ্লেষকদের মতে, এটি চলমান সংঘাতের বড় ধরনের উত্তেজনা বৃদ্ধি।
একই রাতে ইরানের ড্রোন হামলার শিকার হয় বাহরাইন। দেশটিতেও উল্লেখযোগ্য মার্কিন সামরিক উপস্থিতি রয়েছে।
ক্যালিফোর্নিয়ার প্রতিনিধি সারা জ্যাকবস রুবিওকে বলেন, আপনি অভিযানের নাম পরিবর্তন করতে পারেন, কিন্তু এতে বাস্তবতা বদলায় না। প্রণালী এখনো বন্ধ রয়েছে এবং আমাদের সেনাসদস্যরা এখনো ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন।
শুনানিতে রুবিও ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনার বিষয়েও আইনপ্রণেতাদের অবহিত করেন। তিনি জানান, ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে এবং তেহরান এখনো কোনো শান্তিচুক্তিতে সম্মতি দেয়নি।
ওয়াশিংটনের দাবি, যে কোনো শান্তি চুক্তির জন্য ইরানকে অস্ত্রমানের কাছাকাছি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত হস্তান্তর করতে হবে, পারমাণবিক কার্যক্রম সীমিত করতে হবে এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের জন্য খুলে দিতে হবে।
রুবিও বলেন, আমার মনে হয়, উভয় পক্ষের মধ্যে বিনিময় হওয়া কিছু নথিতে বিষয়টি এখন স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে আজ সকাল পর্যন্তও আমরা তাদের ব্যবস্থার পক্ষ থেকে চূড়ান্ত অনুমোদন পাইনি।
অন্যদিকে ইরান জানিয়েছে, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে অর্থবহ আলোচনায় বসার আগে তাদের জব্দ থাকা ১ হাজার ২০০ কোটি ডলারের সম্পদ মুক্ত করতে হবে। পাশাপাশি ইরান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সেই মন্তব্যও প্রত্যাখ্যান করেছে, যেখানে তিনি বলেছিলেন ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত শেষ পর্যন্ত ধ্বংস করা হবে।








