আরেক বৃদ্ধার গলিত লাশ উদ্ধার, স্বামী-ছেলেমেয়েরা কানাডা প্রবাসী

ছবি: সংগৃহীত
সম্প্রতি রাজধানীতে সচিব ও বুয়েট শিক্ষকের মায়ের গলিত লাশ উদ্ধার নিয়ে সমালোচনার মধ্যেই ঢাকার পল্লবীতে আরেক বাসা থেকে আরেক নারীর পচা-গলা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আনুমানিক ৫৫ বছর বয়সি এই নারীর নাম সেলিনা আফরোজ। তার স্বামী মমিনুল হক ও তিন সন্তান কানাডা প্রবাসী। বোনের পরিবারসহ একই ভবনে থাকতেন তিনি।
জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এ খবর পেয়ে বুধবার (৩ জুন) ভোরে পল্লবীর সেকশন ৬ এলাকার ১০ নম্বর সড়কের একটি বাসার তৃতীয় তলার ফ্ল্যাট থেকে থেকে লাশটি উদ্ধারের কথা জানান পল্লবী থানার পরিদর্শক এমদাদ।
তিনি বলেন, “মঙ্গলবার গভীর রাতে আমরা ৯৯৯-এ খবর পাই। এরপর বাসা থেকে লাশটি উদ্ধার করে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠাই। লাশ দেখে মনে হয়েছে, বেশ কয়েকদিন আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।”
পুলিশ জানিয়েছে, সেলিনা আফরোজের এক ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। স্বামী-সন্তানদের সঙ্গে তিনিও কানাডা থাকতেন। বছর আট-দশেক আগে দেশে ফিরে আসেন তিনি। পরে পল্লবীতে তার বাবার বাসার ওই ফ্ল্যাটে তিনি একাই বসবাস করতেন। ওই বাসার চতুর্থ তলায় তার আরেক বোন পরিবারসহ থাকেন।
পল্লবী থানার এসআই মোবারক আলী বলেন, “স্বামীর সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় ৮-১০ বছর আগে দেশে ফিরে ওই বাসায় একাই বসবাস করে আসছিলেন সেলিনা আফরোজ। কোনো কাজের লোক ছিল না, নিজেই বাজার সদাই করতেন। নিজেই রান্নাবান্না করতেন। বাসাটিও অনেক নোংরা ছিল।
“গত ২৬ মে রাত আনুমানিক ১১টার দিকে মৃত সেলিনা আফরোজের সঙ্গে তার ভাতিজার সর্বশেষ কথা হয়। এরপর আর তার কারও সঙ্গে যোগাযোগ হয়নি।”
লাশের ময়নাতদন্তের পর বুধবারই স্বজনরা ওই বাসার কাছের ‘জান্নাতুল মাওয়া কবরস্থানে’ দাফন করেছেন বলে জানান তিনি।
এসআই মোবারক জানান, দরজা ভেঙে লাশটি বাসার ডাইনিং রুমে পড়ে থাকতে দেখা গেছে। তার মুখে রক্ত ও মাথায় আঘাতের চিহ্ন ছিল।
তিনি আরও বলেন, “আমরা ধারণা করছি, উনি গোসল করছিলেন। বাথরুমে পানির টেপ ছাড়া ছিল। কোনো কারণে বাথরুম থেকে বের হয়ে হয়তো পড়ে যান, ওই অবস্থাতেই তিনি মারা গেছেন। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।”
উল্লেখ্য, পল্লবী ৬ নম্বর সেকশনের ৮ নম্বর সড়কের একটি বাসা থেকে রোববার রাতে নূরজাহান বেগম নামে এক বৃদ্ধার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। বহুতল ভবনটির চতুর্থ তলায় মেয়ের বাসার একটি কক্ষে দীর্ঘদিন ধরে নিঃসঙ্গ জীবন-যাপন করছিলেন তিনি।
নিঃসঙ্গ জীবনযাপন করা নুরজাহান বেগমের গলিত লাশ উদ্ধারের পর তার সন্তানদের ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়। তার চার সন্তানের মধ্যে বড় ছেলে যুগ্ম সচিব, মেজ ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষক, ছোট ছেলে কানাডায় বসবাস করেন এবং মেয়ে স্থানীয় একটি স্কুলের শিক্ষক। এর মধ্যে যুগ্ম সচিব ছেলে আনিসুর রহমানকে বুধবার ওএসডি করা হয়েছে।






