মিনিয়াপোলিসে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস)-এর এক এজেন্টের গুলিতে এক মার্কিন নারীর মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। গত বুধবার ৭ জানুয়ারি, এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটে। এই হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে ট্রাম্প প্রশাসন এবং ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস)-এর বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে।
প্রশাসনের দাবি এবং ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজের মধ্যে বিশাল অসঙ্গতি থাকায় অভিযোগ উঠেছে যে, ট্রাম্পের কর্মকর্তারা ঘটনার সত্যতা ধামাচাপা দিতে ‘জঘন্য মিথ্যাচার’ করছেন।
ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) দাবি করেছে, ওই নারী তার গাড়ি দিয়ে এজেন্টদের চাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু ঘটনাস্থল থেকে প্রাপ্ত ভিডিও ফুটেজ এবং কমিউনিটি নেতাদের বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিন্ন কথা বলছে। ভিডিওতে দেখা যায়, নিহত নারী-শান্তিপূর্ণভাবে তার অভিবাসী প্রতিবেশীদের ওপর চলা রেইড বা তল্লাশি অভিযান পর্যবেক্ষণ করছিলেন। ভিডিও প্রমাণে স্পষ্ট দেখা গেছে তিনি কোনোভাবেই এজেন্টদের ওপর গাড়ি চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেননি।
অথচ ট্রাম্প প্রশাসনের ডিএইচএস সেক্রেটারি ক্রিস্টি নোয়েম এবং ফক্স নিউজ এই ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে নিহত নারীকে ‘সন্ত্রাসী’ এবং বিক্ষোভকারীদের ‘দাঙ্গাবাজ’ হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা করছে। সমালোচকরা বলছেন, ট্রাম্পের কর্মকর্তারা নিজেদের অপরাধ ঢাকতে সত্যকে বিকৃত করছেন এবং তাদের আর কোনোভাবেই বিশ্বাস করা যায় না।
মিনিয়াপোলিসের মেয়র জ্যাকব ফ্রে এই ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তিনি অভিযোগে বলেন, ফেডারেল বাহিনীর উপস্থিতি শহরে অরাজকতার সৃষ্টি করছে। ক্ষুব্ধ মেয়র আইস-কে অবিলম্বে শহর ত্যাগের নির্দেশ দিয়ে কড়া ভাষায় বলেন, ‘এখনই মিনিয়াপোলিস থেকে বিদায় হও’।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এই বর্বরোচিত আচরণের প্রতিবাদে ঘটনাস্থলে বিক্ষোভকারীরা জড়ো হলে পুলিশ তাদের ওপর পিপার স্প্রে ব্যবহার করে, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে।
রিপোর্টের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসন মিনিয়াপোলিসে অভিবাসন আইন প্রয়োগের নামে প্রায় ২ হাজার এজেন্ট মোতায়েন করেছে, যাদের মূল লক্ষ্যবস্তু মূলত সোমালি-আমেরিকান কমিউনিটি।
স্থানীয়দের অভিযোগে বলেন, সাধারণ নাগরিকদের-বিশেষ করে যারা অভিবাসীদের সমর্থনে দাঁড়াচ্ছেন- তাদের বিরুদ্ধে ফেডারেল ক্ষমতাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
পরিসংখ্যানের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালেই আইস-এর হাতে অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন এবং বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন যে ২০২৬ সাল পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। এই হত্যাকাণ্ড স্থানীয়দের মধ্যে গভীর শোক এবং ভীতির সঞ্চার করেছে। নিজেদের এলাকায় এখন আর কেউ নিরাপদ বোধ করছেন না।
সমালোচকদের মতে, এটি নিছক কোনো দুর্ঘটনা নয়, বরং এটি হলো সাধারণ আমেরিকানদের বিরুদ্ধে লাগামহীন ফেডারেল ক্ষমতার অপব্যবহার। ট্রাম্প প্রশাসন এবং তার মিত্ররা এই হত্যাকাণ্ডকে ‘ডোমেস্টিক টেররিজম’ বা অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাসবাদ বলে চালানোর চেষ্টা করলেও, ভিডিও প্রমাণ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ প্রমাণ করে যে এটি ছিল একটি ঠাণ্ডা মাথার খুন।
এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করল যে, রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নে ট্রাম্প প্রশাসন কতটা নির্মম হতে পারে, যেখানে খোদ মার্কিন নাগরিকদের প্রাণহানিও তাদের মিথ্যাচারের আড়ালে ঢাকা পড়ে যাচ্ছে।







