চ্যানেল আই অনলাইন
Advertisement
English
  • সর্বশেষ
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • রাজনীতি
  • খেলাধুলা
  • বিনোদন
  • অপরাধ
  • অর্থনীতি
  • আদালত
  • ভিডিও
  • জনপদ
  • প্রবাস সংবাদ
  • ফিফা ২০২৬
  • চ্যানেল আই টিভি
No Result
View All Result
চ্যানেল আই অনলাইন
En

বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তি: বর্তমান সরকার যা করতে পারে

মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়ামোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া
৬:০৫ অপরাহ্ণ ১১, জুন ২০২৬
মতামত
A A

এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির দোহাই দিয়ে রাজস্ব সংগ্রহ ও রপ্তানি বৃদ্ধির জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আমেরিকায় আমদানিতব্য দ্রব্যাদির উপর অযৌক্তিক হারে (১০ শতাংশ থেকে ১৪৫ শতাংশ পর্যন্ত) শুল্কারোপ করেন।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার খেয়ালখুশিমতো বিভিন্ন দেশের উপর আরোপিত এ শুল্ক আবার হ্রাস-বৃদ্ধিও করেন। যখন মনে করেন, কোনো দেশ তার প্রস্তাবিত শুল্কারোপে নতজানু হয়ে অনুকূল সাড়া দিচ্ছে না, তখন শুল্কের পরিমাণ বাড়িয়ে দেন। একপর্যায়ে চীনের রপ্তানির উপর ১৪৫ শতাংশ এবং ভারতের রপ্তানির ওপর ১০০ শতাংশ শুল্কারোপের ঘোষণা দেন। ২০২৫ সালের মার্চ-এপ্রিল থেকে জুলাই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশাধিকারপ্রাপ্ত ৬০টি দেশের ওপর শুল্কারোপের তাণ্ডব চলতে থাকে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে এটি একটি নজিরবিহীন ঘটনা।

গত ২ এপ্রিল ২০২৫ ট্রাম্প প্রশাসন নির্বাহী আদেশ নং- ১৪২৫৭ জারির মাধ্যমে বাংলাদেশি পণ্যের উপর ৩৭ শতাংশ অতিরিক্ত পাল্টা শুল্ক আরোপ করে।

বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনার পর এ শুল্ক ৩৭ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশ করা হয়। এখানে উল্লেখযোগ্য যে, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের বার্ষিক রপ্তানি ৮.২ থেকে ৮.৬ বিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্য যা একক রাষ্ট্র হিসেবে সর্বোচ্চ রপ্তানি। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে বার্ষিক আমদানি প্রায় ২.৩ বিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্য, অর্থাৎ বাংলাদেশের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলার।

অবশ্য যুক্তরাষ্ট্র বছরে বাংলাদেশে প্রায় ১.২বিলিয়ন মূল্যের সেবা রপ্তানি করে। তাছাড়া বাংলাদেশে আমেরিকার বৈদেশিক বিনিয়োগ একক দেশ হিসেবে সর্বোচ্চ। বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর লক্ষ্যেই ট্রাম্পের অতিরিক্ত শুল্কারোপ। এর ফলে আমেরিকায় বাংলাদেশি রপ্তানি পণ্যে মোট শুল্কের পরিমাণ (২০ +১৫)= ৩৫ শতাংশ দাঁড়ায়।
যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন দেশের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপ করে পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য আহ্বান করলে এ পর্যন্ত বাংলাদেশসহ ৯টি দেশ আলাদা আলাদা এআরটি (অ্যাগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড) স্বাক্ষর করে।

Reneta

দেশগুলো হলো কম্বোডিয়া, এল সালভাদর, গুয়াতেমালা, আর্জেন্টিনা, তাইওয়ান, ইন্দোনেশিয়া, ইকুয়েডর, মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশ। বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র এআরটি স্বাক্ষরিত হয় ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখ। এ চুক্তি স্বাক্ষরের ফলে শুল্ক আরও ১ শতাংশ কমে ১৯ শতাংশে স্থির হয়।

যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ পারস্পরিক বাণিজ্যিক চুক্তি স্বাক্ষরের পর দেশের সুশীল সমাজ, গবেষক, সাংবাদিক, থিংক ট্যাংক এ চুক্তির বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করে দেখিয়েছেন যে, এটি একটি অসম বাণিজ্য চুক্তি, যা বাস্তবায়িত হলে আমেরিকা-যুক্তরাষ্ট্র বেশি লাভবান হবে, বাংলাদেশের লাভ হবে সামান্য। প্রথম আলোর বিশিষ্ট সাংবাদিক ও অর্থনীতিবিদ শওকত হোসেন ৪-৫ মে, ২০২৬ উক্ত কাগজে প্রকাশিত তার নিবন্ধে এ চুক্তি নিয়ে বিশদ আলোচনা করেছেন।

অধ্যাপক আনু মুহাম্মদের এ সম্পর্কীত নিবন্ধটি প্রথম আলোতে প্রকাশিত হয় ৯ মে, ২০২৬ তারিখে। এর আগে লেখক ও গবেষক কল্লোল মোস্তফার বিশ্লেষণ প্রথম আলোতে প্রকাশিত হয় ২০-২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬। অধ্যাপক এম এম আকাশের লেখা পর্যালোচনা দৈনিক বার্তায় প্রকাশিত হয় ১৩ মে, ২০২৬। এছাড়াও পত্রিকার পাতায় বিভিন্ন লেখকের বেশ ক’টি বিশ্লেষণ/অভিমত/আলোচনা পড়ে আমার মনে হয়েছে সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের চিন্তা ও বিবেচনার জন্য কিছু লেখা প্রয়োজন।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয় ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, অর্থাৎ দেশের ত্রয়োদশ সাধারণ নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে। যুক্তরাষ্ট্র সরকারের প্রণীত খসড়া চুক্তিটি পাওয়ার পর সরকারের হাতে বেশ কয়েক মাস সময় ছিল। এ সময়ে পর্যাপ্ত হোম ওয়ার্ক অর্থাৎ স্টেক হোল্ডারস কনসালটেশন, আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক কিংবা বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা ইত্যাদি হয়েছে কি না, তা জানা যায়নি। প্রতিপক্ষের সঙ্গে আলোচনায় নেতৃত্ব দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান, বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন, বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমানসহ মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা, ওয়াশিংটনস্থ বাংলাদেশের দূতাবাসের কর্মকর্তারা। ব্যবসায়ী বা বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের কাউকে আলোচনায় যুক্ত করা হয়নি। অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে চুক্তিটি পর্যালোচনা ও স্বাক্ষরিত হয়।

সাবেক উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান বর্তমান ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সাংবাদিকরা তাকে এ চুক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি জানান যে, চুক্তি স্বাক্ষরের পূর্বে অন্তর্বর্তী সরকার দেশের প্রধান দু’টি রাজনৈতিক দল বিএনপি ও জামাতে ইসলামীর সঙ্গে আলোচনা করেছে, যদিও জামায়াতে ইসলামী ইতিমধ্যে বলে দিয়েছে যে, তাদের সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকার আলোচনা করেনি।

অভিজ্ঞ মহলের কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো- এমন একটি স্পর্শকাতর বাণিজ্যিক চুক্তি স্বাক্ষরে তাড়াহুড়ার কি প্রয়োজন ছিল? কয়েকদিন পরেই নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার আসবে জেনেও চুক্তিটি স্বাক্ষরে কিছুদিন বিলম্ব করা গেল না কেন? দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, স্বার্থ ইত্যাদি বিবেচনায় যারা ভুক্তভোগী, উপকারভোগী কিংবা বাস্তবায়নকারী তাদের সঙ্গে কি চুক্তির সংশ্লিষ্ট ধারাসমূহ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে? চুক্তিটির বিষয়ে কঠোর গোপনীয়তা বজায় রাখারই বা কারণ কী? এসব প্রশ্নের উত্তর অন্তর্বর্তী সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের কাছে আছে বলে মনে হয় না।

তাড়াহুড়া করে চুক্তি করায় জনমনে সন্দেহে দানা বেঁধেছে। যদিও চুক্তিটি যেকোনো পক্ষের ৬০ দিনের নোটিশে বাতিল করার শর্ত আছে, তথাপি আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের মতো প্রভাবশালী দেশের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি বাতিল করা যেকোনো সরকারের পক্ষে ঝুঁকিপূর্ণ। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে কয়েকটি বিদেশী সংস্থার সাথে আরও বেশ ক’টি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি হয়েছে, যেগুলোতে দরকষাকষি (নেগোসিয়েশন) হয়েছে সামান্যই। বিএনপি-জামাত উভয় দলই নির্বাচনের বিষয়ে এত বেশি আগ্রহী ছিল যে, তারা মুহম্মদ ইউনুস সরকারের কোনো কাজেই প্রশ্ন তোলেনি। নির্বাচনের মাত্র ৩ দিন আগে বাংলাদেশের স্বার্থের বিপক্ষে যায় এরূপ একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে অন্তর্বর্তী সরকার এর বাস্তবায়নের দায় চাপিয়ে গেলেন নির্বাচিত বিএনপি সরকারের ঘাড়ে।

চুক্তির কিছু গুরুত্বপূর্ণ ধারার বিষয়াবলী নিয়ে নিম্নে আলোচনা করা হচ্ছে:
৩২ পৃষ্ঠার এই চুক্তিতে মাত্র ৬টি ধারায় অসংখ্য অনুচ্ছেদ রয়েছে। আবার চুক্তিটি কীভাবে বাস্তবায়িত হবে তার উল্লেখ পরিশিষ্টে রয়েছে। পরিশিষ্টের সব সংযুক্তিই চুক্তির অংশ। এই পারস্পরিক বাণিজ্যিক চুক্তিতে বাংলাদেশের ওপর বাধ্যবাধকতাই বেশি, সে তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের ওপর বাধ্যবাধকতা খুবই কম। সাংবাদিক শওকত হোসেনের ভাষায় ‘বাংলাদেশকে মানতে হবে ১৩১ শর্ত, আর যুক্তরাষ্ট্রকে মানতে হবে মাত্র ৬টি শর্ত’।

যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ শুল্ক (১৬+৩৭=৫৩ শতাংশ) আরোপের কারণে বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানিকারক তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের হৈচৈ ও হা-হুতাশ বন্ধ করার জন্য যে চুক্তি করা হলো তার মাধ্যমে ৩৪ শতাংশ শুল্কে আমাদের তৈরি পোশাক আমেরিকার বাজারে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত হলো। কিন্তু বিনিময়ে দেশের ১৮ কোটি মানুষের বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৯২২টি পণ্য চুক্তি কার্যকর হওয়ার দিন থেকে শুল্কমুক্ত হবে এবং আগামী ১০ বছরে যুক্তরাষ্ট্রের ৭১৩২টি পণ্যের শুল্ক তুলে নিতে হবে। বিনিময়ে বাংলাদেশ ১৬৩৮টি পণ্যে শুল্ক ছাড় সুবিধা পাবে।

এক হিসাবে দেখা গেছে, এ শুল্ক ছাড়ের ফলে বাংলাদেশ বছরে প্রায় ১৩২৭ কোটি টাকা শুল্ক হারাবে (সিপিডি), তবে উপরিউক্ত নির্ধারিত পণ্য ব্যতিত অন্যান্য পণ্যে বাংলাদেশ নির্ধারিত হারে শুল্ক বসাতে পারবে, যুক্তরাষ্ট্রও বাংলাদেশি পণ্যের ওপর শুল্ক বসাবে।

অশুল্ক বাধা ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ক ধারায় ১১টি অনুচ্ছেদ রয়েছে। পরীক্ষা, মান যাচাই বা ব্র্যান্ড উল্লেখ ইত্যাদির অজুহাতে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের আমদানি বাধাগ্রস্ত করা যাবে না। যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত পরীক্ষাগার থেকে সনদপ্রাপ্ত হলে বাংলাদেশ কোনো অতিরিক্ত শর্ত আরোপ করতে পারবে না। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে বিএসটিআইয়ের মান যাচাই চলবে না। চুক্তির শর্তানুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি পণ্যের জন্য বাংলাদেশি বাজারে অগ্রাধিকার দিতে হবে। স্বাস্থ্য বা নিরাপত্তার কারণে আমদানি নিয়ন্ত্রণ করতে হলে তা হতে হবে বিজ্ঞানভিত্তিক ও ঝুঁকিভিত্তিক। বাংলাদেশ এমন কোনো স্বাস্থ্যবিধি বা মানদণ্ড দেবে না, যাতে মার্কিন পণ্য অন্য দেশের তুলনায় প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ে।

বাংলাদেশ মেধাস্বত্বের সুরক্ষা দেবে, অর্থাৎ মেধাস্বত্ব লঙ্ঘনে দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলার মতো ব্যবস্থা নিতে হবে। মেধাস্বত্ব যাচাইয়ের জন্য শুল্ক স্টেশনে বাংলাদেশ যে ব্যবস্থা নেবে তা যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা যাচাই করতে পারবেন।

যুক্তরাষ্ট্র যদি নিজেদের শ্রমিক ও ব্যবসা রক্ষায় সীমান্তে কোনো নিয়ম চালু করে, বাংলাদেশ সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মিল রেখে কাজ করবে। যুক্তরাষ্ট্র যদি নিজেদের রপ্তানিকারকদের কর ছাড় দেয়, বাংলাদেশ এর বিরোধিতা করবে না। বাংলাদেশ এমন ভ্যাট ধার্য করবে না যাতে যুক্তরাষ্ট্রের কম্পানির প্রতি বৈষম্য হয়।

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে কার্যত যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামাফিক চলতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র যদি তার নিজের স্বার্থে কোনো দেশের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের শুল্ক বা অশুল্ক প্রতিবন্ধকতা আরোপ করে, তাহলে চুক্তির এই ধারা অনুযায়ী সে দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য যতই লাভজনক হোক বা কৌশলগত কারণে গুরুত্বপূর্ণ হোক, বাংলাদেশকে তখন যুক্তরাষ্ট্রের নেওয়া পদক্ষেপের অনুরূপ ব্যবস্থা নিতে হবে। আবার তৃতীয় দেশের মালিকানাধীন কোনো কম্পানি বাংলাদেশ থেকে খুব কম দামে রপ্তানি করে যুক্তরাষ্ট্রের বাজার ক্ষতিগ্রস্ত করলে বাংলাদেশ ব্যবস্থা নেবে। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে তথ্য দেবে।

জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ পণ্য বা প্রযুক্তির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এমনভাবে রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নেবে যাতে তা যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ম বা ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। বাংলাদেশ নিজের আইনের সীমার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে সহযোগিতা করবে, যাতে কেউ লেনদেনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি আইন ভঙ্গ করতে না পারে। বাংলাদেশ বিদেশি বিনিয়োগের তথ্যও যুক্তরাষ্ট্রকে প্রদান করবে।

যুক্তরাষ্ট্রের ডিজিটাল পণ্যের সঙ্গে বাংলাদেশ কোনো বৈষম্য করতে পারবে না। ‘ব্যবসা প্রয়োজনে’ বাংলাদেশের ডিজিটাল তথ্যের ডাটা অন্য দেশে বা যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ কোনো ধরনের বাধা দিতে পারবে না।

বাংলাদেশ তার জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ খাতকে এমনভাবে মার্কিন কম্পানির জন্য উন্মুক্ত করবে, যাতে মার্কিন কম্পানি বাংলাদেশের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও জ্বালানি কেবল অনুসন্ধান, উত্তোলন, শোধন, প্রক্রিয়াজাতকরণ পরিবহন ও বিতরণই করতে পারবে না, মার্কিন কম্পানি সেটা ইচ্ছামাফিক রপ্তানিও করতে পারবে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ মার্কিন কম্পানির সঙ্গে কোনো বৈষম্যমূলক আচরণ করতে পারবে না।

যুক্তরাষ্ট্র লিখিতভাবে চাইলে বাংলাদেশ ভর্তুকি সংক্রান্ত তথ্য দেবে। এ ধরনের ভর্তুকি বা সহায়তায় যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ও বিনিয়োগে অসাম্য তৈরি হলে বাংলাদেশ তা কমাতে পদক্ষেপ নেবে। জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ এমন কোনো রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানকেও যুক্তরাষ্ট্রের সম্মতি ব্যতিত ভর্তুকি দেওয়া যাবে না।

অর্থনৈতিক ও জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কীত ক্ষেত্রে বাংলাদেশে বিদেশ থেকে কী কী বিনিয়োগ, কী কী শর্তে আসছে তার তথ্য যুক্তরাষ্ট্রকে দিয়ে বাংলাদেশ সহযোগিতা করবে। যদি তারা মনে করে বাংলাদেশে আসা প্রতিদ্বন্দ্বী কোনো দেশের বিনিয়োগ যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য হুমকি, তাহলে সেই বিনিয়োগ বন্ধ করার জন্য চাপ দিতে পারবে।

বাংলাদেশ অবাজার (নন মার্কেট) অর্থনীতির কোনো দেশের সঙ্গে মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো বাণিজ্য চুক্তি করতে পারবে না। অবাজার অর্থনীতির দেশ বলতে চীন, রাশিয়া ও ভিয়েতনামকে বোঝানো হয়েছে। অর্থাৎ বাংলাদেশকে এসব দেশের সঙ্গে কোনো ধরনের নতুন বাণিজ্য চুক্তি করা থেকে বিরত রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

চুক্তির শর্ত অনুযায়ী বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে সামরিক সরঞ্জাম কেনা বাড়াতে হবে এবং সুনির্দিষ্ট কিছু দেশ থেকে সামরিক সরঞ্জাম কেনা সীমিত করতে হবে।

আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা বাণিজ্য সহজতর ও জোরদার করবে। প্রকারান্তরে সাময়িক ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে এককভাবে যুক্তরাষ্ট্রের মুখাপেক্ষী করে তোলা হয়েছে।

পারমানবিক প্রযুক্তি ব্যবহারে কতিপয় বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। মার্কিন স্বার্থকে হুমকীর মুখে ফেলে এমন কোনো দেশ থেকে বাংলাদেশ নতুন করে নিউক্লিয়ার রিঅ্যাক্টর, ফুয়েল রড বা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কেনার চুক্তি করতে পারবে না। অর্থাৎ বাংলাদেশ যদি নতুন করে কোনো পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করতে চায়, তবে তা যুক্তরাষ্ট্রের মাধ্যমেই করতে হবে। তবে ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠিত রূপপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্র চুক্তি এর বাইরে থাকবে।

দ্রব্যাদি ক্রয় বিক্রয়ের জন্য বীমা করার ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক রিইন্সুরেন্স প্রথা তুলে নিতে হবে। ফলে মার্কিন বীমা কোম্পানিগুলোকে তাদের অন্তত ৫০ শতাংশ ব্যবসা সাধারণ বীমা করপোরেশনকে দিতে হবে না।

পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রে আমাদের রপ্তানি মূল্যের চেয়ে আমদানি মূল্য কম। তাতে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি থাকে। সেজন্য এ চুক্তি অনুযায়ীই বাংলাদেশকে বাধ্যতামূলকভাবে আরো বেশি আমদানি করতে হবে। এখানে তাৎক্ষণিক প্রয়োজন কিংবা মূল্য কিছুই বিবেচ্য নয়। আমরা ভারত কিংবা চীন থেকে যত আমদানি করি তার প্রায় এক দশমাংশ রপ্তানি করি। আমাদের বাণিজ্য ঘাটতি পূরণের জন্য আমরা ভারত ও চীনকে অধিক আমদানির জন্য বাধ্য করতে পারি না। চুক্তির শর্তানুযায়ী, কিছু পণ্য আমাদেরকে বাধ্যতামূলকভাবে প্রায় বিনা শুল্কে আমদানি করতে হবে। যেমন- মাছ, হাঁস-মুরগি, ডিম, মাংস, দুধ ও দুগ্ধজাত কয়েকশ পণ্য। এগুলো আমাদের দেশেই উৎপন্ন হয়। এসবের উৎপাদনে দেশে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়। যুক্তরাষ্ট্রের কিছু করপোরেট গোষ্ঠীর ব্যবসা নিশ্চিত করার জন্য এগুলো আমাদের বাধ্যতামূলক আমদানি করতে হবে, যাতে দেশে বহু মানুষের কর্মসংস্থান বিপন্ন হবে। এসব আমদানিতে পণ্যের মান যাচাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফুড সেফটি অ্যান্ড ইনসপেকশন সার্ভিসের সার্টিফিকেটই মেনে নিতে হবে। বাংলাদেশ যদি হালাল সনদ বাধ্যতামূলক করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের যেসব সনদদাতা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের শর্ত পূরণ করবে, তাদের হালাল সনদ বাংলাদেশকে মেনে নিতে হবে। বার্ড ফ্লু ধরা পড়লে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের পুরো অঙ্গরাজ্য থেকে পোলট্রি, ডিম বা সংশ্লিষ্ট পণ্য আমদানি বন্ধ করতে পারবে না। নিষেধাজ্ঞা শুধু আক্রান্ত এলাকার ১০ কিলোমিটার জোনে সীমিত রাখতে হবে।

মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির কারণে বাংলাদেশের ঔষধ শিল্প বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে, যা প্রথম আলোতে ২২ এপ্রিল, ২০২৬ প্রকাশিত মাহা মির্জার বিশ্লেষণ থেকে জানা যায়। আইপি আইনের বাধ্যবাধকতা, বন্দরে ডিজিটাল এনফোর্সমেন্ট, আমেরিকা থেকে অবাধে ঔষধ আমদানি আমাদের ঔষধ শিল্পকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। অথচ এলডিসি হওয়ার কারণে আমাদের ঔষধ কম্পানিগুলো এতদিন ঔষধ কাঁচামাল ক্রয়ে ব্র্যান্ডগুলোকে পেটেন্ট ফি দিতে হতো না। এ সুবিধা আমাদের ঔষধ কম্পানীগুলোর ২০৩৩ সাল পর্যন্ত ভোগ করার কথা থাকলেও মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির কারণে পেটেন্ট ফি দিতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি পূরণের জন্য বাংলাদেশকে বাধ্যতামূলকভাবে কতিপয় পণ্য ক্রয় করতে হবে। যথা যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে প্রতিবছর ৭ লাখ মেট্রিকটন গম, ১.২৫ বিলিয়ন ডলারের সয়াবিন, ৩.৫ বিলিয়ন ডলারের তুলা কিনতে হবে। এছাড়া কিনতে হবে ১৪টি বোয়িং বিমান, ১৫ বছরে ১৫ বিলিয়ন ডলারের এলএনজি।

এ যাবৎ বাংলাদেশ তুলা, সয়াবিন, গম, এলএনজি প্রতিযোগিতামূলক দরে যেখানে অপেক্ষাকৃত কম দামে পাওয়া যায় সেখান থেকে কিনত। যুক্তরাষ্ট্র থেকে বেশি দামে সেগুলো কিনতে হবে, যদিও গম, সয়াবিন প্রভুতি ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র গুণগত মানের দিক দিয়ে উঁচু মানের যুক্তি দেখাচ্ছে।

চুক্তি কার্যকর করার জন্য দুই পক্ষ নিজেদের আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে লিখিতভাবে জানালে ৬০ দিন পর চুক্তি চালু হবে। আবার যেকোনো পক্ষ ৬০ দিনের নোটিশ দিয়ে চুক্তি বাতিল করতে পারবে।

বিশ্লেষক ও বিশেষজ্ঞদের মতে এ যাবৎ যে ৯টি দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, তার মধ্যে বাংলাদেশের সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তির ভাষা সর্বাধিক কঠোর, আধিপত্যপূর্ণ ও বাধ্যতামূলক শর্তাদিযুক্ত এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের অনুকূল, তথা বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী। চুক্তিপত্রে কেবল আমদানি পণ্যের শুল্ক নয় বরং বাংলাদেশের সামগ্রিক বাণিজ্য ও নিয়ন্ত্রণকাঠামো ঢেলে সাজানোর বাধ্যবাধকতা রয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যকে শুল্ক ছাড়ের সুবিধা দিলে এমএফএন নীতির কারণে অন্য দেশগুলোকে একই সুবিধা দিতে হতে পারে। এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশের খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার পথ রুদ্ধ হতে পারে। প্রয়োজন থাকুক আর নাই থাকুক ‘খাদ্য নিরাপত্তা’ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে কৃষিপণ্য, পোলট্রি ও ডেইরি পণ্য আমদানি করতে হবে। জ্বালানি নিরাপত্তার অজুহাতে তেল ও এলএনজি আমদানি করতে হবে। অতিরিক্ত সংখ্যক বিমান চালানো, রক্ষণাবেক্ষণ ও সংরক্ষণের ব্যবস্থা ও সক্ষমতা না থাকা সত্ত্বেও ১৪টি বোয়িং বিমান ক্রয়ের চুক্তি করতে হয়েছে।

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকরা অন্যান্য দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে অপেক্ষাকৃত কম দামে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানি করে। যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের চাহিদা ও প্রয়োজনের কারণেই তাদের আমদানিকারকরা বাংলাদেশ থেকে পোশাক কেনে। এটি তাদের কোনো দয়া বা অনুগ্রহের বিষয় নয়। বাংলাদেশ থেকে না কিনলে অন্য কোনো দেশ থেকে তাদের এসব সামগ্রী ক্রয় করতে হবে। বাণিজ্য সমতা আনার অজুহাতে বাধ্যতামূলকভাবে ক্রয়ের তালিকায় যেসব দ্রব্যাদি তালিকাভুক্ত করা হয়েছে, বাংলাদেশ সেসব এ যাবৎ মধ্যপ্রাচ্য, এশিয়া ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে অপেক্ষাকৃত সাশ্রয়ীমূল্যে ক্রয় করে আসছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের যে পাল্টা শুল্কের কারণে অতি দ্রুততার সঙ্গে বাংলাদেশ এ চুক্তিতে রাজি হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ আদালত দুই দফায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আরোপিত শুল্ক বাতিল করেছে। ফলে চুক্তির তাৎপর্য ও প্রয়োজনীয়তা অনেকাংশে কমে গেছে। এ চুক্তির দরকষাকষি ও স্বাক্ষরের সঙ্গে যুক্ত বাংলাদেশ পক্ষের অন্যতম ব্যক্তি সাবেক বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান জাতীয় নির্বাচনের পর সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘হয়তো এ চুক্তি বাতিল হতে পারে।’ নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকার এ চুক্তি মানবে কি না, এ বিষয়ে তিনি সন্দিহান ছিলেন।

বিএনপির নির্বাচনী ইশতিহারে পররাষ্ট্র নীতির ক্ষেত্রে প্রধান লক্ষ্য হিসেবে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ মূলনীতির কথা বলা হয়েছে। ‘পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, জাতীয় স্বার্থ, জাতীয় নিরাপত্তা এবং জনগণের কল্যাণ সর্বাগ্রে প্রাধান্য পাবে। সমতা, ন্যায্যতা ও পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে বাংলাদেশ একটি আত্মমর্যাদাশীল, সক্রিয় ও দায়িত্বশীল বৈশ্বিক অবস্থান গ্রহণ করবে।’

মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির বিভিন্ন ধারায় যেভাবে আমাদের সার্বভৌমত্ব জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি রয়েছে এবং বাংলাদেশের জন্য অসমতা, অন্যায্যতা এবং অসম্মানজনক ধারা রয়েছে তা বিএনপির রাষ্ট্রনীতি ও পররাষ্ট্রনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যদি নির্বাচনের ৩ দিন পূর্বে এটি স্বাক্ষর না করত, তবে রাজনৈতিক সরকার চুক্তির বর্তমান অবস্থায় এটি স্বাক্ষর করত কিনা সন্দেহ রয়েছে। কোনো জবাবদিহিমূলক সরকার জাতীয় স্বার্থ বিসর্জন দিতে পারে না।

বাণিজ্য চুক্তিটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়নি। এটি মন্ত্রিসভা অনুসমর্থন করার পর যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে জানানো হলে একটি নির্দিষ্ট তারিখ থেকে চুক্তিটি কার্যকর হবে। তবে চুক্তিটি কার্যকর হওয়ার পূর্বেই অন্তর্বর্তী সরকার ও বর্তমান বিএনপি সরকার এর বাস্তবায়ন শুরু করেছে। গম আমদানির চুক্তি হয়েছে ২০২৫ সালের ২০ জুলাই। প্রতিবছর অন্তত ৭ লাখ মেট্রিক টন করে ৫ বছর গম কিনতে হবে। বোয়িং থেকে ১৪টি বিমান আমদানির চুক্তি হয়েছে ৩০ এপ্রিল ২০২৬। যুক্তরাষ্ট্র থেকে দীর্ঘমেয়াদী এলএনজি আমদানির চুক্তি হয়েছে ২০২৫ সালের ২৪ জানুয়ারি। বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১৫ বছরে ১৫ বিলিয়ন ডলার মূল্যের জ্বালানি কিনবে। আরও আমদানি চুক্তি পাইপলাইনে আছে বলে শোনা যাচ্ছে। এছাড়া মে’ ২০২৬ মাসের মাঝামাঝি সময়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী সহযোগিতার একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছেন।

এমতাবস্থায় এ অসম এবং বাংলাদেশের জন্য আত্মঘাতী চুক্তি বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। তবে সরকার যদি একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিশন বা বিশেষজ্ঞ কমিটির মাধ্যমে চুক্তিটি পর্যালোচনা করে অনুসমর্থনের পূর্বেই সংশোধনের পদক্ষেপ নেয় এবং উভয়পক্ষের জন্য মর্যাদাপূর্ণ ও লাভজনক একটি চুক্তিতে উপনীত হতে পারে তবে দেশ ও সরকারের জন্য তা মঙ্গলজনক হবে। কোনো বিশেষ রাষ্ট্রের সঙ্গে জোটভুক্ত না হয়ে সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব বজায় রেখে চলতে হবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নভূক্ত দেশগুলোর মোট আমদানি যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে অনেক বেশি। যুক্তরাষ্ট্র যে রপ্তানি সুবিধা চাচ্ছে ইউরোপের দেশগুলো তা চাইলে বাংলাদেশকে অনুরূপ সুবিধা দিতে হবে। ব্যবসা বাণিজ্য ও সামরিক ক্ষেত্রে কোন বিশেষ দেশের সঙ্গে বিশেষ চুক্তি করা হলে অন্য দেশের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকার যদি চুক্তির শর্তাদি পরিবর্তন করতে নমনীয় না হয়, তবে চুক্তি বাতিলের পথে এগুতে হবে।

(এই বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)

Channel-i-Tv-Live-Motiom

ট্যাগ: অ্যাগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেডআন্তর্জাতিক বাণিজ্যআমেরিকা ফার্স্ট নীতিবাণিজ্য চুক্তিবাংলাদেশ ফার্স্টযুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ
শেয়ারTweetPin

সর্বশেষ

অভিনয়ে নামলেন ফুটবলার জামাল ভূঁইয়া

জুন ১৬, ২০২৬

চ্যানেল আইতে পাঁচ তারকার স্মৃতিময় একদিন

জুন ১৬, ২০২৬

জাল ভিসায় মানবপাচারের অভিযোগে বিমান কর্মকর্তা গ্রেপ্তার

জুন ১৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

সেপ্টেম্বর বা অক্টোবর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু: মির্জা ফখরুল

জুন ১৬, ২০২৬
ছবি: প্রতিনিধি

একটু আশ্রয় আর দুবেলা খাবারই এখন বিনোদ বিশ্বাসের শেষ চাওয়া

জুন ১৬, ২০২৬
iscreenads

প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
সম্পাদক: জাহিদ নেওয়াজ খান
ইমপ্রেস টেলিফিল্ম লিমিটেড , ৪০, শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ সরণী, তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮, বাংলাদেশ
www.channeli.com.bd,
www.channelionline.com 

ফোন: +৮৮০২৮৮৯১১৬১-৬৫
[email protected]
[email protected] (Online)
[email protected] (TV)

  • আর্কাইভ
  • চ্যানেল আই অনলাইন সম্পর্কে
  • চ্যানেল আই সম্পর্কে
  • চ্যানেল আই সকল সোস্যাল মিডিয়া

Welcome Back!

Login to your account below

Forgotten Password?

Retrieve your password

Please enter your username or email address to reset your password.

Log In
Bkash Stickey June 2025 Desktop

Add New Playlist

No Result
View All Result
  • সর্বশেষ
  • প্রচ্ছদ
  • ফিফা ২০২৬
  • চ্যানেল আই লাইভ | Channel i Live
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • স্বাস্থ্য
  • স্পোর্টস
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • কর্পোরেট নিউজ
  • আইস্ক্রিন
  • অপরাধ
  • আদালত
  • মাল্টিমিডিয়া
  • মতামত
  • আনন্দ আলো
  • জনপদ
  • আদালত
  • কৃষি
  • তথ্যপ্রযুক্তি
  • নারী
  • পরিবেশ
  • প্রবাস সংবাদ
  • শিক্ষা
  • শিল্প সাহিত্য
  • চ্যানেল আই সকল সোস্যাল মিডিয়া

© 2023 চ্যানেল আই - Customize news & magazine theme by Channel i IT