ভারতের আসামের হাইলাকান্দি জেলায় ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে তিন কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারদের মধ্যে একজনের বয়স ১৭ বছর এবং অন্য দুজনের বয়স ১৭ থেকে ১৯ বছরের মধ্যে।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, নিহত কিশোরীর সঙ্গে অভিযুক্তদের একজনের পরিচয় ছিল এবং তাদের মধ্যে যোগাযোগ ছিল। তবে হত্যার সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
গত শনিবার (১ আগস্ট) রাত প্রায় ১১টার দিকে হাইলাকান্দির কাটলিচেরা থানার আওতাধীন আলোইছড়া এলাকায় ঘটে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১ আগস্ট রাতে পরিবারের সদস্যরা এক নিকট আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলেন। পরিবারের দাবি, কিশোরিও সেখানে গিয়েছিল। তবে এক আত্মীয়ের সঙ্গে কথা-কাটাকাটির পর রাত সাড়ে ১০টার দিকে কিশোরি বাড়ি ফিরে যায়। প্রায় এক ঘণ্টা পর পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে এসে তাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মরদেহে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল এবং ময়নাতদন্ত ও অন্যান্য ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত চলছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যৌন নির্যাতনের পাশাপাশি নির্যাতনের একাধিক আলামত পাওয়া গেছে।

হাইলাকান্দির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সমীর দর্পণ বড়ুয়া জানান, গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১০৩(১) ধারা (হত্যা), ৬৫ (১) ধারা (১৬ বছরের কম বয়সী শিশুকে ধর্ষণ) এবং শিশুদের যৌন অপরাধ থেকে সুরক্ষা আইনের ৬ ধারায় মামলা করা হয়েছে। তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে আরও ধারা যুক্ত হতে পারে এবং এ ঘটনায় আরও গ্রেপ্তারও হতে পারে।
হাইলাকান্দির সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ অমিতাভ সিনহা বলেন, গ্রেপ্তার হওয়া ১৭ বছর বয়সী অভিযুক্তকে ঘটনার নৃশংসতার কারণে প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে বিচার করার আবেদন আদালতে করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, কয়েকজনের মোবাইল ফোন জব্দ করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। একইসঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুক্তভোগীর পরিচয় বা মামলার সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশ না করার আহ্বান জানিয়েছে তারা।
এদিকে, ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাইলাকান্দি ও বরাক উপত্যকার বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। বিক্ষোভকারীরা আসাম ও মিজোরামকে সংযোগকারী জাতীয় মহাসড়ক-৬ অবরোধ করে অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান।







