মরক্কো থেকে স্পেনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল সেউতায় হাজার হাজার অভিবাসীর অনুপ্রবেশের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইউরোপজুড়ে সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বহিরাগত সীমান্ত আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়েছে ইউরোপীয় কমিশন।
আজ (৪ আগস্ট) মঙ্গলবার প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বিবিসি জানিয়েছে, এই পরিস্থিতিতে সংকট নিয়ে আলোচনা করতে আজই ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ইইউভুক্ত দেশগুলোর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরা জরুরি বৈঠকে বসবেন।
সেউতায় অনুপ্রবেশকারীদের মধ্যে এখন পর্যন্ত প্রায় ৬৯ হাজার ৫০০ জন অভিবাসী মরক্কোতে ফিরে গেছেন। এর আগে প্রাথমিকভাবে প্রায় ৫০ হাজার অভিবাসী ফিরে যেতে পারেন বলে ধারণা করা হয়েছিল। সীমান্তে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। স্পেনের সীমান্ত অংশে অন্তত ৭২ জন এবং মরক্কোর সীমান্তে আরও ১১ জন নিহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজকে লেখা এক চিঠিতে সংকট মোকাবেলায় তার দ্রুত পদক্ষেপের প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, এই ঘটনা প্রমাণ করেছে যে ঝুঁকিপূর্ণ সীমান্ত এলাকাগুলো আরও শক্তিশালী করতে হবে। উরোপের বহিরাগত সীমান্ত সুরক্ষা সব সদস্য দেশের যৌথ দায়িত্ব। তিনি সীমান্তে কঠোর নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী দৃশ্যমান প্রতিবন্ধকতা ব্যবহারের আহ্বান জানান।
তবে এসব পদক্ষেপে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। তিনি বলেন, বেশিরভাগ ইউরোপীয় দেশ স্পেনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করলেও কয়েকটি সরকার ভুয়া তথ্য, রাজনৈতিক স্বার্থ কিংবা ভুল ধারণার ভিত্তিতে স্পেনের সমালোচনা করছে। একই সঙ্গে তিনি মনে করিয়ে দেন, সেউতা শেনজেন এলাকার অন্তর্ভুক্ত নয়।
অবৈধ অভিবাসন মোকাবেলায় সমন্বিত ইউরোপীয় উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দিয়ে উরসুলা ফন ডার লিয়েন পাঁচটি ক্ষেত্রে আরও জোরালো পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। এর মধ্যে রয়েছে; সহযোগী দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়ে অভিবাসন প্রতিরোধ, বহিরাগত সীমান্ত আরও শক্তিশালী করা, আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা কার্যকর করা, মানব পাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া এবং অবৈধ অভিবাসীদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া আরও কার্যকর করা।
এদিকে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ অভিযোগ করেছেন, মানব পাচারকারী চক্র দেশটির সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক একটি রায়ের সুযোগ নিচ্ছে। ওই রায়ের ফলে সমুদ্রপথে আসা অভিবাসীদের তাৎক্ষণিকভাবে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর সরকারি ক্ষমতা সীমিত হয়েছে।







