হরমুজ প্রণালীতে আটকে পড়া ১১ হাজারের বেশি নাবিককে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (আইএমও)। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের ফলে সৃষ্ট সংকটের কারণে নাবিকরা দীর্ঘদিন ধরে সেখানে আটকা পড়ে আছেন।
বুধবার (২৪ জুন) সংবাদ মাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
আইএমওর মহাসচিব আর্সেনিও ডমিঙ্গেজ জানিয়েছেন, এটি একটি ‘বৃহৎ পরিসরের উদ্ধার অভিযান’। এ কার্যক্রমে ইরান, ওমান, যুক্তরাষ্ট্র, উপসাগরীয় উপকূলীয় অন্যান্য দেশ এবং সামুদ্রিক শিল্পখাতের বিভিন্ন পক্ষ সহযোগিতা করবে।
তিনি বলেন, ‘এই অভিযান পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চয়তা আমরা পেয়েছি এবং নিরাপদ নৌ-চলাচলের পরিবেশ নিশ্চিত করতে সব ধরনের পরিস্থিতি যাচাই করা হয়েছে।’
গত সপ্তাহে সংঘাত বন্ধে একটি অন্তর্বর্তী চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) বিভিন্ন বিষয় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মতবিরোধ এখনো অব্যাহত রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, চুক্তিতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) তদারকির আওতায় আনার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এদিকে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও মঙ্গলবার উপসাগরীয় অঞ্চল সফর শুরু করেছেন। সফরের প্রথম গন্তব্য ছিল সংযুক্ত আরব আমিরাত। এ সফরে তিনি কুয়েত ও বাহরাইনও সফর করবেন। দেশ দুটিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। সফরকালে তিনি তেহরানের সঙ্গে হওয়া চুক্তি নিয়ে আলোচনা করবেন।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে পৌঁছে মঙ্গলবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, ‘হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের কাছ থেকে কোনো দেশ টোল বা ফি আদায় করতে পারে না। সম্প্রতি এ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজের ওপর ফি আরোপের বিষয়ে চাপ দিচ্ছে ইরান।’
তিনি বলেন, ‘এটি একটি আন্তর্জাতিক নৌপথ। আন্তর্জাতিক নৌপথে কোনো দেশ টোল বা ফি আরোপ করা যাবে না। এটি বিদ্যমান আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট বিধান।’
রুবিও আরও বলেন, ‘এ বিষয়ে আমাদের কাউকে বোঝানোর প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না। আমার বিশ্বাস, এ অঞ্চলের সব দেশই এ বিষয়ে আমাদের সঙ্গে একমত হবে।’








