আন্তর্জাতিক

গাজায় গণহত্যা ঠেকাতে ইসরায়েলকে জাতিসংঘের বার্তা

গাজায় মানবাধিকার সমাবেশে হাজারো মানুষ অংশগ্রহণ করছে. Channel i News - চ্যানেল আই নিউজ

গাজায় একটি জনসমাবেশে হাজারো মানুষ মানবাধিকার ও শান্তির জন্য র‌্যালি করছে।. Channel i News – চ্যানেল আই নিউজ

গাজায় চলমান সংঘাতের মধ্যে সম্ভাব্য গণহত্যা প্রতিরোধে জরুরি ব্যবস্থা নিতে ইসরায়েলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড ও অধিকৃত পশ্চিম তীরে ‘জাতিগত নির্মূলের’ ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে বলেও সতর্ক করেছে সংস্থাটি।

আল জাজিরা জানিয়েছে, জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক ইসরায়েলকে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে বলেন, গাজায় গণহত্যামূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে এবং ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী যেন এমন কর্মকাণ্ডে জড়িত না হয় তা নিশ্চিত করতে হবে।

সোমবার প্রকাশিত জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও মানবিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন। অনেক ক্ষেত্রে এসব কর্মকাণ্ড যুদ্ধাপরাধ ও অন্যান্য নৃশংস অপরাধের’ পর্যায়ে পড়ে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনটি ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের মে পর্যন্ত সময়ের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে তৈরি করা হয়েছে। ওই সময় হামাসের হামলার মধ্য দিয়ে গাজা যুদ্ধের সূচনা হয়। প্রতিবেদনে হামাসসহ ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর কর্মকাণ্ডেরও সমালোচনা করা হয়েছে এবং তাদের কিছু কর্মকাণ্ড যুদ্ধাপরাধের পর্যায়ে পড়ে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এতে বলা হয়, হামাসের হামলায় ইসরায়েল অংশে এক হাজার ২২১ জন নিহত হন, যাদের বেশিরভাগই বেসামরিক নাগরিক। একই সঙ্গে জিম্মিদের ওপর নির্যাতন, অমানবিক আটক পরিস্থিতি এবং যৌন সহিংসতার অভিযোগও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। তবে প্রতিবেদনের মূল আলোকপাত করা হয়েছে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের ওপর।

হামাস পরিচালিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলের অভিযানে এখন পর্যন্ত ৭২ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। গাজায় বেসামরিক নাগরিক, হাসপাতাল, চিকিৎসাকেন্দ্র, সাংবাদিক, স্বাস্থ্যকর্মী, মানবিক সহায়তাকর্মী ও অন্যান্য সুরক্ষিত স্থাপনায় ধারাবাহিকভাবে হামলা চালানো হয়েছে।

এতে গাজার বিস্তীর্ণ এলাকার জীবনযাত্রা ফিলিস্তিনিদের জন্য প্রায় বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। পশ্চিম তীরেও অসম শক্তি প্রয়োগের ফলে বহু অবৈধ হত্যাকাণ্ড এবং ব্যাপক জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির ঘটনা ঘটেছে। গাজা ও পশ্চিম তীরের বিভিন্ন এলাকায় ঘরবাড়ি ও শরণার্থী শিবির ধ্বংসের মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের এলাকা ছাড়তে বাধ্য করা হচ্ছে।

এতে জাতিগত নির্মূলের আশঙ্কা আরও জোরালো হয়েছে বলে মনে করছে সংস্থাটি। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক ও অমানবিক ভাষা ব্যবহারের অভিযোগও আনা হয়েছে ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ।

প্রতিবেদনে সব ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রমাণ সংরক্ষণ এবং দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

বিষয়:গাজা জাতিসংঘ

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…