যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সঙ্গে প্রতিরক্ষা ব্যয় নিয়ে মতবিরোধের জেরে পদত্যাগ করেছেন।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ প্রকাশিত ও প্রধানমন্ত্রীকে পাঠানো এক চিঠিতে হিলি অভিযোগ করেন, ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক হুমকির মুখে দেশকে রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ দিতে ব্যর্থ হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী এবং অর্থ মন্ত্রণালয়।
তিনি লেখেন, বর্তমান সময়ে বাড়তে থাকা হুমকির মধ্যে দেশকে রক্ষার জন্য যে সম্পদ প্রয়োজন, তা দিতে আপনি সক্ষম হননি এবং ট্রেজারি তা দিতে অনিচ্ছুক ছিল। ব্রিটেনের প্রতিরক্ষা ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে মাসের পর মাস ধরে সামরিক ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা চলছিল। এর ফলে গত বছর থেকেই দেশের ডিফেন্স ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যান চূড়ান্ত করতে বিলম্ব হচ্ছে।
হিলি জানান, সোমবার (৮ জুন) পাওয়া অর্থনৈতিক সমঝোতা প্রতিরক্ষার জন্য অপর্যাপ্ত। তার মতে, ২০৩০ সালের মধ্যে প্রতিরক্ষা ব্যয় জিডিপির ২ দশমিক ৬৮ শতাংশে উন্নীত করার প্রস্তাব নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য যথেষ্ট নয়, যেখানে তিনি ওই সময়ের মধ্যে ৩ শতাংশ লক্ষ্য নির্ধারণকে জরুরি বলে মনে করেন।
তিনি প্রধানমন্ত্রী স্টারমারের পূর্বের বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলেন, রাশিয়া ২০৩০ সালের মধ্যেই ন্যাটোতে আক্রমণ করতে পারে। হিলি আরও বলেন, আপনি প্রতিরক্ষার প্রয়োজন ভালোভাবেই জানেন এবং ফেব্রুয়ারিতে মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে আপনার ভাষণে আপনি এটি শক্তভাবে তুলে ধরেছিলেন।
তার পদত্যাগ এমন সময় এলো যখন যুক্তরাজ্য একাধিক সামরিক দায়িত্ব সামলাচ্ছে যার মধ্যে ইরানের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যে হরমুজ প্রণালীতে বহুজাতিক মিশনের নেতৃত্ব, আর্কটিকে ন্যাটোর ‘আর্কটিক সেন্ট্রি’ মিশন পরিচালনা এবং ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান তৎপরতার মুখোমুখি থাকা।
হিলি সতর্ক করে বলেন, পর্যাপ্ত অর্থায়ন না থাকলে সেনাবাহিনীর প্রস্তুতি কমে যাবে, মাঠপর্যায়ের সদস্যদের ঝুঁকি বাড়বে এবং দেশের নিরাপত্তাও দুর্বল হতে পারে। এটি প্রধানমন্ত্রী স্টারমারের জন্য রাজনৈতিকভাবে একটি সংকটপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যে ৯৫ জনেরও বেশি লেবার এমপি তার পদত্যাগ দাবি করেছেন বা নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণের আহ্বান জানিয়েছেন।
এর আগে গত মাসে আরও কয়েকজন মন্ত্রী পদত্যাগ করেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং ১৪ মে পদ ছাড়েন, স্টারমারের নেতৃত্ব ও সরকারের দিকনির্দেশনার অভাব নিয়ে সমালোচনা করেন। স্টারমার সরকারের জনপ্রিয়তা গত দুই বছরে ব্যাপকভাবে কমে গেছে। অন্যদিকে প্রতিরক্ষা বিনিয়োগ পরিকল্পনা বিলম্ব হওয়ায় দেশটির প্রতিরক্ষা শিল্পও দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছে।







