৩৬ বছর পর আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ এনে দেয়ার কারিগর হওয়ার স্বীকৃতি আগেই পেয়েছেন লিওনেল মেসি। করিম বেনজেমা ও কাইলিয়ান এমবাপেকে হারিয়ে গত মৌসুমে ফিফা বর্ষসেরা খেলোয়াড় হয়েছেন কিংবদন্তি এলএম টেন। কোপা আমেরিকা ও কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে জেতানো মহাতারকা এবার জিতেছেন ক্যারিয়ারের অষ্টম ব্যালন ডি’অর।
সোমবার রাতে ফ্রান্সের প্যারিসে জমকালো আয়োজনে ব্যালন ডি’অর-২০২৩ বিজয়ীদের হাতে ট্রফি তুলে দেয়া হয়। আর্লিং হালান্ড, কাইলিয়ান এমবাপেদের টপকে এবার আরও উচ্চতায় পৌঁছেছেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি। একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে আটবার ব্যালন ডি’অর জিতেছেন মেসি। তালিকায় মেসির পরে অবস্থান ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পাঁচটি ব্যালন ডি’অর জিতেছেন পর্তুগিজ কিংবদন্তি। যদিও এবারের তালিকায় শীর্ষ কুড়িতেও অবস্থান করে নিতে পারেননি তিনি।
ব্যালন ডি’অর জয়ের দৌড়ে এগিয়ে ছিলেন কাতার বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টিনার অধিনায়ক ও চলতি বছর মেজর লিগ সকার ক্লাব ইন্টার মিয়ামিতে যোগ দেয়া লিওনেল মেসি। বিশ্বকাপের দুবার সেরা খেলোয়াড় মেসির অধীনে ৩৬ বছর পর শিরোপা জিতেছে আর্জেন্টিনা। আসরে নিজে ৭ গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে ৩টি গোল করিয়েছেন ৩৬ বর্ষী মহাতারকা।
বিশ্বকাপ জয়ের পাশাপাশি লিগ ওয়ানের শিরোপা জিততে প্যারিস সেইন্ট জার্মেইনকে সহায়তা করেছেন মেসি। মৌসুমে মোট ৩২ ম্যাচে মাঠে নেমে ১৬ গোল করেছেন। পাশাপাশি ১৬টি গোল করতে সহায়তা করেছেন এলএম-১০। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ৭ ম্যাচে ৪ গোলের দেখা পেয়েছিলেন আলবিসেলেস্তে মহাতারকা।
ব্যালন ডি’অর জয়ের দৌড়ে মেসির নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ম্যানচেস্টার সিটি তারকা আর্লিং হালান্ড। ২০২২-২৩ মৌসুমে রঙিন সময় কাটিয়েছেন নরওয়ে ফরোয়ার্ড। ম্যানচেস্টার সিটির ট্রেবল রেখেছেন অনবদ্য অবদান। সিটিজেনদের জার্সিতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি স্বরূপ জিতেছিলেন উয়েফা বর্ষসেরার পুরস্কারও। পাশাপাশি নিজের করে নিয়েছেন প্রফেশনাল ফুটবলার্স অ্যাসোসিয়েশন (পিএফএ) এর বর্ষসেরার পুরস্কার ও প্রিমিয়ার লিগের প্লেয়ার অফ দ্য সিজন এবং ফুটবল রাইটার্স অ্যাসোসিয়েশনের বর্ষসেরা পুরুষ খেলোয়াড়ের খেতাব।
বরুসিয়া ডর্টমুন্ড থেকে ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দেয়া হালান্ড প্রথম মৌসুমেই ট্রেবল জিতেছেন। প্রিমিয়ার লিগে সর্বোচ্চ ৩৬ গোলের রেকর্ড করেছেন ২৩ বর্ষী নরওয়ে তারকা। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ, এফএ কাপ এবং চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ট্রফি জয়ের আনন্দে মেতেছিল পেপ গার্দিওলার দল। সবধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে নরওয়ে তারকা ৫৩ ম্যাচে করেছিলেন ৫২ গোল।
সেরা তিনে অবস্থান করেছিলেন মেসির সাবেক সতীর্থ কাইলিয়ান এমবাপে। বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার কাছে হেরে রানার্সআপ হয়েছে তার দেশ ফ্রান্স। ফ্রান্সের হয়ে বিশ্বকাপে ৮ গোল ও ২ এসিস্ট করেছেন। পিএসজির জার্সিতে গত মৌসুমে ফ্রেঞ্চ লিগ ওয়ান, ফ্রেঞ্চ কাপ ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগ মিলিয়ে খেলেছেন ৪৬ ম্যাচ, ২৬ গোলের পাশাপাশি তার এসিস্ট ছিল ২৬টি।
অন্যদিকে মেয়েদের ব্যালন ডি’অর জিতেছেন স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ী বার্সেলোনা তারকা আইতানা বোনমাতি।








