ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নারী সংসদ সদস্যরা বহুদলীয় নারী সংসদীয় ককাস গঠনের বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছেন। রাজধানীতে ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল (ডিআই) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ ও স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচিত নারী এমপিরা এ বিষয়ে একমত হন।
গত বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে নারী সংসদ সদস্যরা নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বৃদ্ধি, বৈষম্য দূরীকরণ, জেন্ডার বাজেট, শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিতে দলীয় বিভাজনের বাইরে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার করেন।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ককাস গঠন ও কার্যকর রাখতে পরবর্তীতে নারী সংসদ সদস্যদের নিয়ে কর্মশালা আয়োজনসহ বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দেবে ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল (ডিআই)। যুক্তরাজ্যের ফরেইন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিসের (এফসিডিও)আর্থিক সহায়তায় এ আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান বলেন, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে দীর্ঘদিনের বৈষম্য ও সহিংসতা নারীদের রাজনৈতিক অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করেছে। এ বাস্তবতা বদলাতে নারীনেতৃত্বকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নুরুন্নেসা সিদ্দীকা বলেন, আমরা ভিন্ন দল থেকে নির্বাচিত হলেও নারীর অধিকার ও ক্ষমতায়নের প্রশ্নে আমরা প্রতিপক্ষ নই। সংসদে নারীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ইস্যুগুলোতে আমরা একসঙ্গে কাজ করতে চাই। এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব ও সংসদ সদস্য মাহমুদা আলম মিতু বলেন, নারী অধিকার, সামাজিক নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণের প্রশ্নে নারী সংসদ সদস্যদের সমন্বিত ও শক্তিশালী ভূমিকা রাখা প্রয়োজন। তরুণ ও অভিজ্ঞ নারী রাজনীতিবিদদের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করাও জরুরি।
অনুষ্ঠানে বিএনপি সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় কমিটির স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক শিরিন সুলতানা ও প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক রাশেদা বেগম হীরা বহুদলীয় নারী ককাস গঠনের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, এই প্ল্যাটফর্ম নারী সংসদ সদস্যদের মধ্যে সমন্বয় বাড়াবে এবং নারী অধিকার, বৈষম্যমূলক আইন, জেন্ডার বাজেট ও সাধারণ আসনে নারীদের মনোনয়ন বৃদ্ধির মতো বিষয়ে যৌথভাবে কাজ করার সুযোগ তৈরি করবে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ক্যাথেরিন সিসিল, আমিনুল এহসান এবং লিপিকা বিশ্বাস। অনুষ্ঠানে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের মোট ৩৯ জন নারী সংসদ সদস্য অংশ নেন। বক্তারা বলেন, সংসদে নারীদের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে দলীয় বিভাজনের বাইরে একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম সময়ের দাবি।






