আর্থিক নীতিমালা ভাঙ্গার দায়ে বার্সেলোনা ও চেলসিকে বড় অঙ্কের জরিমানা করেছে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা। আর্থিক অনিয়মের কারণে দুই জায়ান্টসহ ১২ ইউরোপীয় ক্লাবকে গুণতে হচ্ছে জরিমানা। ২০২৪ সালের আর্থিক প্রতিবেদনের উপর ভিত্তি করে ক্লাবগুলোকে শুক্রবার এ জরিমানা করে উয়েফা। পরের মৌসুমে ব্যর্থতার পুনরাবৃত্তি হলে আরও বড় জরিমানা গুনতে হতে পারে ক্লাবগুলোকে।
ইউরোপে এক মৌসুমে কোনো ক্লাবকে সর্বোচ্চ জরিমানার রেকর্ড গড়ে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব চেলসিকে ৩১ মিলিয়ন ইউরো জরিমানা করেছে উয়েফা। নির্ধারিত অঙ্কের ৮০ শতাংশের বেশি অর্থ খরচ করেও রাজস্ব আয় হয়নি তাদের বিশাল স্কোয়াড সৃষ্টি ও তাদের পারিশ্রমিক দিতে গিয়ে। সে কারণে তাদের কাঁধে যথাক্রমে ২০ মিলিয়ন ও ১১ মিলিয়ন ইউরো জরিমানা উঠেছে। অন্যদিকে গত কয়েক মৌসুম ধরে আর্থিক সংকটে থাকা স্পেনের ক্লাব বার্সাকে ১৫ মিলিয়ন ইউরো জরিমানা গুণতে হবে।
চেলসি এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘ক্লাবটি উয়েফার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে ও স্বচ্ছভাবে কাজ করেছে এবং তাদের সম্পূর্ণ আর্থিক প্রতিবেদনের বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করেছে। যা ইঙ্গিত করে ক্লাবটির আর্থিক পারফরম্যান্স শক্তিশালীভাবে উন্নতির দিকে।’
চেলসি বর্তমানে ব্লুকো-২২ লিমিটেডের মালিকানাধীন। এর আগে ৭৬.৫ মিলিয়ন পাউন্ড মূল্যের দুটি হোটেল বিক্রির জন্যও তারা তদন্তের মুখে পড়েছিল। এদিকে বার্সেলোনাও ২০২৩ সালে আয়ের তথ্য ভুলভাবে উপস্থাপন করার কারণে উয়েফা ৫ লাখ ইউরো জরিমানা করেছিল।
এই দুই জায়ান্ট ক্লাব ছাড়াও অ্যাস্টন ভিলাকে তৃতীয় সারির ইউরোপা কনফারেন্স লিগে খেলার সময় আয়-ব্যয়ের সামঞ্জস্য না থাকার কারণে মোট ১১ মিলিয়ন জরিমানা করেছে। একই কারণে ফরাসি ক্লাব লিয়ঁকে ১২.৫ মিলিয়ন ইউরো জরিমানা করা হয়েছে এবং লিগ ওয়ানের ক্লাবটিকে পদাবনতি করে লিগ টুতে পাঠানো হয়েছে। যদিও তারা এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে বলে জানিয়েছে।
উয়েফা আর্থিক নিয়ম ভাঙ্গার অভিযোগে পর্তুগিজ ক্লাব পোর্তোকে ৫ মিলিয়ন, ইতালিয়ান দুই ক্লাব এসি মিলানকে ও ইন্টার মিলানকে ৩ মিলিয়ন করে জরিমানা করেছে। এছাড়া ক্রোয়েশিয়ান এইচএনকে হাজডুক স্প্লিট ৩ মিলিয়ন, গ্রিসের প্যানাথিনাইকোসকে ৮ মিলিয়ন, তুর্কি ক্লাব বেসিকতাসকে ৮ মিলিয়ন এবং ফরাসি দুই ক্লাব এসি মনাকোকে ও অলিম্পিক মার্শেইকে জরিমানা গুণতে হবে ৩ মিলিয়ন করে।








