বিজ্ঞাপন নির্মাণ প্রডিউসার ও এজেন্সিগুলোর মধ্যে টালমাটাল অবস্থা! গত কয়েক মাস ধরে এজেন্সিগুলো থেকে ঠিকমতো পেমেন্ট না পাওয়ায় নানা ধরনের সমস্যায় পড়তে হচ্ছিল সংশ্লিষ্টদের। এসবের অবসানে কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিজ্ঞাপন নির্মাণ প্রডিউসারদের সংগঠন ‘বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব অ্যাডফিল্ম অ্যান্ড কনটেন্ট প্রডিউসার’ (বিএএসিপি)।
রবিবার সংগঠনটির পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানায়, বিজ্ঞাপন এজেন্সিগুলোর অপেশাদার আচরণের কারণে বিজ্ঞাপন সংস্থা এবং উৎপাদন সংস্থাগুলো সম্মিলিত হয়ে ১ সেপ্টেম্বর (রবিবার) থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি (ধর্মঘট) শুরু করেছে।
বিজ্ঞাপন এজেন্সিগুলোর সঙ্গে পূর্বে দফায় দফায় আলোচনা সত্ত্বেও তিনটি বিষয় এখনও অমীমাংসিত রয়েছে উল্লেখ করে বিএএসিপি থেকে জানানো হয়েছে, পূর্ববর্তী বিল ক্লিয়ার করা, সময়মতো ওয়ার্ক অর্ডার এবং যে কোনো কাজের ক্ষেত্রে ৭৫ শতাংশ কাজের পেমেন্ট অগ্রিম প্রদান করে পরবর্তী ২৫ শতাংশ পেমেন্ট কাজ শেষের ৪৫ দিনের মধ্যে প্রদান করতে হবে।
বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব অ্যাডফিল্ম অ্যান্ড কনটেন্ট প্রডিউসার সংগঠনের এসব দাবীর সঙ্গে পরিপূর্ণভাবে একাত্মতা প্রকাশ করেছে অ্যাডভার্টাইজিং ফিল্মমেকার্স অ্যাসোসিয়েশন (এডিএফএ), বাংলাদেশ অ্যালাইন্স সিনেমাটোগ্রাফার্স (বিএসি), পোস্ট প্রডাকশনস অ্যাসোসিয়েশন পব বাংলাদেশ (পিএবি), আর্ট ডিরেক্টরস অ্যান্ড কস্টিউম ডিজাইনার্স অব বাংলাদেশ। এছাড়া সমর্থন জানিয়েছে মেকআপ, প্রডাকশন ম্যানেজার, লাইট এবং কাস্টিং ডিরেক্টররা।
বিএএসিপি’র আহ্বায়ক এবং রান আউট ফিল্মসের প্রডিউসার হাবিবুর রহমান তারেক চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, ”এক বছর ধরে এজেন্সিগুলোর কাছে সমস্যা জানিয়ে আসছি। কিন্তু কোনো প্রতিকার হয়নি। এজেন্সির কাছে অনেক আগের কাজের বকেয়া রয়েছে। যেগুলো একমাস, দুইমাসে পরিশোধ করার কথা থাকলেও বছরের পর বছর গেলেও শোধ হয়নি।”
”এজেন্সি থেকে আমরা ওয়ার্ক অর্ডার পাই না এবং যেটা অ্যাডভান্স দেয়া হয় সেটা দিয়ে পুষিয়ে উঠতে পারি না। ১০ বছর আগেও আমরা ৭৫ শতাংশ পেমেন্ট অ্যাডভান্স নিয়ে কাজ করতাম। এটা ইন্ডাস্ট্রির গুড প্র্যাকটিস ছিল। কিন্তু গত সাত-আট বছর এটা মিসিং। এজেন্সিগুলো বারবার আশ্বস্ত করলেও এসব সমস্যার সমাধানে ফলপ্রসূ কিছু করেনি।”
জনপ্রিয় বিজ্ঞাপন নির্মাতা আদনান আল রাজীব বলেন, এই মুহূর্তে এই সংস্কারটা খুব জরুরী। সংস্কার হলে আমাদের বিজ্ঞাপন ইন্ডাস্ট্রি বহুদূর এগিয়ে যাবে। আমাদের যে দাবি উঠেছে, সেগুলো খুব কঠিন না। তারা চাইলেই সেগুলো খুব সহজেই সমাধান করতে পারে। নইলে বেশীরভাগ নির্মাতা ও প্রযোজকদের ভুগতে হচ্ছে। কেউ কেউ না পেরে পেশাই ছেড়ে দিচ্ছেন।
দীর্ঘদিনের অনিয়ম এবং দুর্নীতি বন্ধ করে বাংলাদেশে নতুন করে আবার সবকিছুতে পরিবর্তনের সুবাতাস বইছে। তাই বিএএসিপি মনে করে, যেহেতু চারদিকে সংস্কার চলছে, তাই এই সেক্টরের শিল্পকে সংস্কার করার এখনই উপযুক্ত সময়।








