রাশিয়ান তেল কেনার অপরাধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন। এরপর থেকে ভারতে আমেরিকা বিরোধী মনোভাবের ঢেউ উঠেছে। পেপসি, কোকা-কোলা, সাবওয়ে, কেএফসি, ম্যাকডোনাল্ডসের মতো আমেরিকান বহুজাতিক সংস্থাগুলো বয়কটের হুমকির মুখে পড়েছে।
রোববার ৩১ আগস্ট ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভারতের উপর আরোপিত শুল্কের ফলে পেপসি, কোকা-কোলা, সাবওয়ে, কেএফসি, ম্যাকডোনাল্ডসের মতো আমেরিকান বহুজাতিক সংস্থাগুলো বয়কটের হুমকির কবলে পড়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের পর থেকে ভারতে আমেরিকা বিরোধী মনোভাবের ঢেউ উঠেছে।
ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের প্রতিবাদে যোগগুরু রামদেব ভারতীয়দের সকল আমেরিকান পণ্য বয়কটের পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, পেপসি, কোকা-কোলা, সাবওয়ে, কেএফসি, অথবা ম্যাকডোনাল্ডসের কাউন্টারে একজনও ভারতীয়কে দেখা উচিত নয়। এত ব্যাপক বয়কট করা উচিত।
ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য এবং কানাডার মতো বিশ্বের অন্যান্য অংশেও ইতোমধ্যেই আমেরিকা বিরোধী বয়কট চলছে। ১.৫ বিলিয়ন জনসংখ্যার ভারতে মার্কিন কোম্পানি বয়কটের ফলে ব্যাপক ক্ষতি এবং গুরুতর চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ভারতীয়দের “স্বদেশী” বা দেশীয় পণ্য কিনতে এবং ব্যবহার করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, যদি কেউ ভারতকে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত করতে চায়, তাদের দেশের স্বার্থে কথা বলা উচিত এবং জনগণের মধ্যে স্বদেশী পণ্য কেনার সংকল্প জাগানো উচিত।
তিনি ট্রাম্পকে কটাক্ষ করে বলেন, বিশ্বে অর্থনৈতিক স্বার্থপরতার রাজনীতি চলছে এবং প্রত্যেকেই তাদের নিজস্ব স্বার্থ রক্ষায় ব্যস্ত।
গত ৬ আগস্ট, ট্রাম্প ভারতের উপর ২৫ শতাংশ পারস্পরিক শুল্কের উপরে ২৫ শতাংশ জরিমানা আরোপ করেন। নয়াদিল্লি বলেছে, অতিরিক্ত শুল্ক “অন্যায় ও অযৌক্তিক”। তারা জাতীয় স্বার্থ রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ নেবে। ৫০ শতাংশ শুল্ক ২৭শে আগস্ট থেকে কার্যকর হয়েছে।
এএপি এমপি অশোক কুমার মিত্তল ১৯০৫ সালের ৭ই আগস্টের স্বদেশী আন্দোলনের কথা উল্লেখ করে ট্রাম্পের কাছে একটি খোলা চিঠি লিখেছিলেন। চিঠিতে তিনি বলেছিলেন, যদি ১৪৬ কোটি ভারতীয় আজই সেই চেতনাকে কাজে লাগায় এবং মার্কিন ব্যবসার উপর কৌশলগত নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, তাহলে ভারতের চেয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এর প্রভাব অনেক বেশি গুরুতর হবে।








