হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকের প্রশ্নকে কেন্দ্র করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়েছে সিএনএনের প্রতিবেদক ক্রিস্টেন হোমসের। একই ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হোমসকে আক্রমণ করে পোস্ট করেছে হোয়াইট হাউসের ‘র্যাপিড রেসপন্স’ টিম।
সোমবার (১৭ আগস্ট) ওভাল অফিসে এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্পের নির্বাহী সহকারী ন্যাটালি হার্পকে নিয়ে এক ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতার মন্তব্যের বিষয়ে প্রেসিডেন্টের প্রতিক্রিয়া জানতে চান ৩৫ বছর বয়সী হোমস।
এরপর হোয়াইট হাউসের ‘র্যাপিড রেসপন্স’ টিমের এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে হোমসকে উদ্দেশ করে একটি পোস্ট দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, একদিন তার সন্তানরা তার করা ‘ঘৃণ্য ও অমানবিক প্রশ্নের’ মুখোমুখি হবে। পোস্টের সঙ্গে ট্রাম্পের ওই প্রশ্নের জবাব দেওয়ার একটি ভিডিওও যুক্ত করা হয়।
পরে উত্তর কোরিয়া নিয়ে প্রশ্ন করতে গেলে হোমসের সঙ্গে আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠেন ট্রাম্প। তিনি সাংবাদিককে বলেন, ‘আপনি খুবই অসম্মানজনক। আপনি অনেক জোরে কথা বলেন, আপনি বাচাল, আপনি ভুয়া খবর। চুপ করুন।’
সাংবাদিকের প্রতি হোয়াইট হাউসের এমন আচরণের সমালোচনা করেছে সিএনএন। এক বিবৃতিতে সংবাদমাধ্যমটি বলেছে, হোমসকে যেভাবে আক্রমণ করা হয়েছে তা প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের মর্যাদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। একই সঙ্গে তারা হোমসের পাশে থাকার কথা জানিয়েছে।
সম্প্রতি ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহকারী ন্যাটালি হার্পকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়। জুলাইয়ে গোপনে এয়ার ফোর্স ওয়ান পরিবর্তনের সময় ট্রাম্পের সঙ্গে থাকা অল্প কয়েকজন সহযোগীর মধ্যে হার্পও ছিলেন বলে জানা যাওয়ার পর তাকে নিয়ে আলোচনা আরও বাড়ে।
রোববার এক প্রচারাভাষণে ডেমোক্র্যাট সিনেটর ও ২০২৮ সালের সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট প্রার্থী জন অসফ ট্রাম্পকে আক্রমণ করে বলেন, প্রেসিডেন্ট দায়িত্ব পালনের বদলে নিজের জন্য হোয়াইট হাউসে ৪০ কোটি ডলারের বলরুম তৈরি এবং ন্যাটালি হার্পকে সঙ্গে নিয়ে ভ্রমণ করতেই বেশি আগ্রহী।
অসফের এই মন্তব্য প্রত্যাখ্যান করে ট্রাম্প তাকে কটাক্ষ করেন। তবে হার্পকে নিয়ে করা মন্তব্যের বিষয়ে সরাসরি কিছু বলেননি তিনি।
ওভাল অফিসের ওই অনুষ্ঠানটি ছিল পানিতে পড়ে যাওয়া এক শিশুকে উদ্ধার করা কিশোর লাইফগার্ডকে সম্মান জানাতে। অনুষ্ঠানের মাঝেই সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের সুযোগ দেন ট্রাম্প। সেই সুযোগে হার্পকে নিয়ে প্রশ্ন করেন হোমস।
এরপর হোয়াইট হাউসের ‘র্যাপিড রেসপন্স’ অ্যাকাউন্ট থেকে হোমসের সমালোচনা করে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট একজন বীর লাইফগার্ডকে সম্মান জানাচ্ছিলেন, অথচ হোমস সেটিকে প্রেসিডেন্টের একজন কর্মীকে নিয়ে ‘সস্তা আক্রমণের’ সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করেছেন।
পোস্টে হোমস ও অন্য সমালোচকদের উদ্দেশে আরও অবমাননাকর ভাষা ব্যবহার করা হয়।
হার্প আগে টেলিভিশন সংবাদমাধ্যমে কাজ করতেন। ট্রাম্পের পাশে তাকে প্রায়ই দেখা যায়। প্রেসিডেন্টের জন্য বিভিন্ন তথ্য প্রিন্ট করে দেওয়ার কারণে তাকে ‘হিউম্যান প্রিন্টার’ নামেও ডাকা হয়।
এর আগে হোয়াইট হাউসের যোগাযোগ পরিচালক স্টিভেন চিয়াংও হার্পকে নিয়ে অসফের মন্তব্যের সমালোচনা করেন। তিনি অসফকে রাজনৈতিক অঙ্গনের ‘সবচেয়ে বড় পরাজিত’ বলে কটাক্ষ করেন।
ঘটনাটি এমন সময়ে সামনে এলো, যখন ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে নারী সাংবাদিকদের একাধিকবার উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় ও প্রকাশ্য বিরোধের ঘটনা নিয়ে বিতর্ক চলছে।










