যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের অভিবাসন নীতির কঠোরতায় বিদেশি শিক্ষার্থীদের ওপর চাপ বাড়ার প্রেক্ষাপটে শিক্ষার্থীরা এখন বিকল্প দেশগুলোর দিকে ঝুঁকছে। যুক্তরাষ্ট্রের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী নির্ভরতা কমাতে এবং শিক্ষার্থী ভিসা প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত যাচাই-বাছাইয়ের পদক্ষেপের কারণে এই পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
আজ (৭ আগস্ট) বৃহস্পতিবার প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে এনডিটিভি জানিয়েছে, চীনে মার্কিন দূতাবাসে শিক্ষার্থী ভিসার সাক্ষাৎকারের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষার ফলে অনেকেই যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার আশা বাদ দিয়েছেন। বিকল্প হিসেবে হংকং, ব্রিটেন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে শিক্ষার্থীদের ট্রান্সফার চাহিদা ও আবেদন সংখ্যা বাড়ছে।
‘যুক্তরাষ্ট্রের ব্র্যান্ডে বড় ধাক্কা লেগেছে’ বলে মন্তব্য করে ইলিউম স্টুডেন্ট অ্যাডভাইজরি সার্ভিসেস-এর প্রধান নির্বাহী মাইক হেনিঞ্জার বলেন, আর এই সুযোগে সবচেয়ে বেশি লাভবান হচ্ছে যুক্তরাজ্য। যদিও নতুন লেবার সরকার অভিবাসন হ্রাসে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং পোস্ট-স্টাডি ভিসার মেয়াদ কমিয়েছে, তবুও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আগ্রহ কমেনি।
হংকং, সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার মতো এশিয়ান দেশগুলোও শিক্ষার্থীদের জন্য বিকল্প গন্তব্য হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এই দেশগুলোর খরচ তুলনামূলকভাবে কম এবং অনেক আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ক্যাম্পাসও রয়েছে। দুবাইয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ক্যাম্পাসে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে বিদেশি শিক্ষার্থী সংখ্যা এক-তৃতীয়াংশ বেড়েছে।
এই প্রবণতা যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষা খাত ও অর্থনীতির ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের নতুন ভর্তি ৩০ শতাংশ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক শিক্ষা সংস্থা এনএএসএফএ। এর ফলে মার্কিন অর্থনীতি প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলার ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।







