এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
হরমুজ প্রণালী আবারও জাহাজ চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শিগগিরই সমঝোতা হতে পারে এমন আশাবাদে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। একই সঙ্গে ইতিবাচক এই প্রত্যাশার প্রভাবে বিশ্বের প্রধান কয়েকটি শেয়ারবাজারেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে।
বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়েছে, গত পাঁচ মাস ধরে উপসাগরীয় অঞ্চলে তেল ও গ্যাসবাহী ট্যাংকার চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল। তবে নতুন করে সমঝোতার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের আস্থা বেড়েছে এবং তেলের দামে চাপ কমেছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানান, হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালুর বিষয়ে ‘আজ অথবা আগামীকাল’ একটি সমঝোতা হতে পারে। তার এই বক্তব্যের পরপরই বিশ্ববাজারে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এর প্রভাব পড়েছে বিশ্ব শেয়ারবাজারেও। ওয়াল স্ট্রিটের প্রধান তিনটি সূচকের মধ্যে দুটি নতুন রেকর্ড গড়েছে। ইউরোপে প্যারিস ও মিলানের প্রধান সূচক সর্বকালের সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছে। ফ্রাঙ্কফুর্ট ও মাদ্রিদের সূচকও আগের রেকর্ড ছাড়িয়েছে।
বাজারে ইতিবাচক মনোভাব তৈরিতে যুক্তরাষ্ট্রের বড় কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের প্রত্যাশার চেয়ে ভালো আর্থিক ফলাফলও ভূমিকা রেখেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ডেটা বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান প্যালান্টির এবং ভারী যন্ত্রপাতি নির্মাতা ক্যাটারপিলারের শক্তিশালী মুনাফা বিনিয়োগকারীদের আস্থা আরও বাড়িয়েছে। বি রাইলি ওয়েলথ ম্যানেজমেন্টের বাজার বিশ্লেষক আর্ট হোগান বলেন, হরমুজ প্রণালী নিয়ে প্রশাসনের ইতিবাচক বক্তব্যের প্রতি বাজারের প্রতিক্রিয়া ছিল তাৎক্ষণিক। পাশাপাশি চলতি আয় মৌসুমে কোম্পানিগুলোর শক্তিশালী আর্থিক ফলাফলও বাজারকে ঊর্ধ্বমুখী রাখতে সহায়তা করছে।
তবে বিনিয়োগকারীরা এখনো পুরোপুরি নিশ্চিন্ত নন। কারণ এর আগেও যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা ও হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালুর বিষয়ে আশাবাদ তৈরি হলেও তা বাস্তবে রূপ নেয়নি।










