আন্তর্জাতিক

ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের ফোন রেকর্ড চাওয়ার অভিযোগ

The New York Times building in Manhattan with pedestrians in front. Channel i News - চ্যানেল আই নিউজ

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এর একাধিক সাংবাদিক এবং তাদের কয়েকজন স্বজনের ফোন রেকর্ড চেয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। পত্রিকাটির দাবি, কাতারের দেওয়া নতুন এয়ার ফোর্স ওয়ান বিমান নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনের গোপন সূত্র শনাক্ত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সোমবার আদালতে দাখিল করা এক আবেদনে নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপ আগে জানা তথ্যের চেয়েও বিস্তৃত ছিল। শুধু সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের নয়, তাদের কয়েকজন স্বজনের ফোন রেকর্ডও চাওয়া হয়। এমনকি ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া সময়ের রেকর্ডও চাওয়া হয়েছিল, যা আলোচিত প্রতিবেদন প্রকাশের অনেক আগের সময়।

পত্রিকাটির আইনজীবীরা আদালতে বলেন, এ ধরনের সময়সীমা থেকে বোঝা যায়, বিচার বিভাগের লক্ষ্য শুধু নির্দিষ্ট কোনো তথ্য ফাঁসের তদন্ত নয়, বরং সাংবাদিকদের গোপন সূত্রের সঙ্গে তাদের সামগ্রিক যোগাযোগ খতিয়ে দেখা। এর আগে ১০ জুলাই তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে গ্র্যান্ড জুরি সমন জারি করে তাদের গোপন সূত্র সম্পর্কে সাক্ষ্য দিতে বলা হয়েছিল। নিউইয়র্ক টাইমস ওই সমনও আদালতে চ্যালেঞ্জ করেছে। এ বিষয়ে শুনানি বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। আদালত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত ফোন রেকর্ড সংক্রান্ত সমনের কার্যকারিতাও স্থগিত রাখা হয়েছে। আদালতে দাখিল করা আবেদনে আরও বলা হয়, কিছু ফোন রেকর্ডের সমন ১০ জুলাই জারি করা হয়। পরে ১৪ ও ১৬ জুলাই আরও দুটি সমন দেওয়া হয়, যদিও এরই মধ্যে নিউইয়র্ক টাইমস গ্র্যান্ড জুরি সমন বাতিলের আবেদন করেছিল।

পত্রিকাটির অভিযোগ, সরকার নিজস্ব নীতিমালা অনুসরণ না করে এবং সাংবাদিকদের আগাম অবহিত না করেই এসব সমন জারি করেছে। আইনজীবীদের ভাষ্য, এটি ‘সৎ উদ্দেশ্যের অভাব’ এবং বিচার বিভাগের অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া লঙ্ঘনের ইঙ্গিত দেয়। অতিরিক্ত সমনের মধ্যে একজন সাংবাদিকের মা এবং দুই সাংবাদিকের স্বামী বা স্ত্রীর ফোন রেকর্ড চাওয়ার বিষয়ও রয়েছে। আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট মা একজন মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং তার পেশাগত গোপনীয়তার বিষয় রয়েছে। আর একজন জীবনসঙ্গী একটি আইন প্রতিষ্ঠানের জেনারেল কাউন্সেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

অন্যদিকে বিচার বিভাগ আদালতে জানিয়েছে, সমন জারির ক্ষেত্রে তারা নিজস্ব নিয়ম মেনেই কাজ করেছে এবং প্রয়োজনীয় তদন্ত শেষে এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিভাগটির দাবি, সাংবাদিকরা তদন্তের লক্ষ্য নন, বরং যারা গোপন তথ্য ফাঁস করেছে তাদের শনাক্ত করাই তদন্তের উদ্দেশ্য। গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, এই ঘটনা ট্রাম্প প্রশাসনের তথ্য ফাঁসের বিরুদ্ধে চলমান কঠোর অবস্থানের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন এর আগে এমন পদক্ষেপকে সাংবাদিকদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের চেষ্টা বলে সমালোচনা করেছে।

আলোচিত নতুন এয়ার ফোর্স ওয়ান বিমানটি কাতারের দেওয়া একটি উপহার। ট্রাম্প প্রশাসন বিমানটি আধুনিকীকরণে প্রায় ৪০ কোটি ডলার ব্যয় করেছে। তবে জুলাইয়ের শুরুতে ন্যাটো সম্মেলন শেষে ফেরার সময় ট্রাম্প নতুন বিমানটির পরিবর্তে পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ান ব্যবহার করেন।

নিউইয়র্ক টাইমস নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, নতুন বিমানটিতে পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানের কিছু উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থা, যেমন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী সক্ষমতা না থাকায় মার্কিন সিক্রেট সার্ভিসের অনুরোধে পুরোনো বিমান ব্যবহার করা হয়েছিল। যদিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প এ ধরনের নিরাপত্তা উদ্বেগের কথা অস্বীকার করেছেন।

বিষয়:এয়ার ফোর্স ওয়ান ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সাংবাদিক

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…