নেটদুনিয়ায় মুক্তি পেয়েছে অ্যাভেঞ্জার্স ডুমসডের দ্বিতীয় ট্রেলার। আর পাকাপোক্তভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে কি ঘটতে যাচ্ছে ডুম’স ডে তে। কী থাকছে এই সিনেমায়, সেটি নিয়েই থাকছে এই চলছে নানান জল্পনা। ডুম’স ডে ট্রেলার রিলিজ ইঙ্গিত দিচ্ছে বিশাল যুদ্ধের। কী সেই যুদ্ধ ? এই যুদ্ধকে জানতে ফিরে যেতে হবে এন্ডগেমে আবারও।

অ্যাভেঞ্জার্স এন্ডগেম :
প্রথমাবারের মতো এখানেই মাল্টিপল রিয়েলিটি নিয়ে কথা বলেন টাইমস্টোন প্রতিরক্ষক অ্যানশেন্ট ওয়ান। এন্ডগেমের গল্প অনুযায়ী যা রিপ্রেজেন্ট করছে এমসিইউ টাইমলাইনের অতীতের ২০১২ সাল। যখন ইনফিনিটি স্টোন সংগ্রহ করতে ২০১৯ সাল থেকে ২০১২ সালের অ্যাভেঞ্জার্সের নিউইয়র্ক ব্যাটল টাইমে পৌছায় হাল্ক বা ডক্টর ব্যানার , টনি ও স্টিভ। তখন সময়মনি বা টাইমস্টোন আনার জন্য অ্যানশেন্ট ওয়ানের কাছে যায় হাল্ক অর্থাৎ ডক্টর ব্যাানার। আর সেখানেই তাদের কথোপকথনে উঠে আসে টাইমলাইন থিওরি।

এন্ডগেমে অ্যানসেন্ট ওয়ান ডক্টর ব্যানারকে বলেছিলো টাইমলাইন থেকে যেকোন ইনফিনিটি স্টোন সরালে সেখানে আলাদা আরেকটি টাইমলাইন শুরু হয়! যেগুলো হলো শাখা টাইমলাইন। যার পরিনাম হবে খুব ভয়ংকর! তখন খুব সহজে ব্যানার বলেছিলো- স্টোনগুলোকে যার যার সঠিক সময়ে ফের রেখে দিলে সেই শাখা টাইমলাইন মিটে যাবে!
এরপর অ্যাভেঞ্জারসরা ইনফিনিটি স্টোন আনার জন্য ৫ টা টাইমলাইনে যায়! ইনফিনিটি স্টোন আনে। এন্ডগেম ওয়ার হয়। টনির স্নাপের পর ইনফিনিটি স্টোন ফেরত দিতে যায় স্টিভ। বাট স্টিভ ফেরে বুড়ো হয়ে। কারন সে তার পুরোনো অতীতে থেকে যায়। সেখানে পেগি কার্টারের সাথে সংসার শুরু করে। আর এখানেই দর্শক ভাবে শেষ হয়েছে মারবেল এর একটা বিশাল গল্প।
কিন্তু এখানেই শুরু হয় ডক্টর ডুমের গল্প!
অ্যাভের্ঞ্জাস ইনফিনিটি সাগার লাস্ট মুভি স্পাইডারম্যান ফার ফর্ম হোম। আমার মতে, এই সিনেমায় ভিলেন মিস্টিরিও প্রথম ডিফরেন্ট ইউনিভার্সের কথা বলে। যদিও তখনকার সময়ে সেটি সের্ফ মনে হচ্ছিলো একটি বানোয়াট গল্প। এরপর বিগত সাড়ে ৬ বছর ধরে বিল্ড আপ করা হয় মাল্টিভার্স প্লট।

লোকি সিরিজ
লোকি সিরিজের মধ্যে দিয়ে বিস্তরভাবে তুলে ধরা হয় মাল্টিভারস রিয়েলিটি। যার শুরুটা হয় এন্ডগেমে ২০১২ এর টাইমলাইন থেকে টেসারেক্ট নিয়ে পালায় যাওয়া লোকিকে দিয়ে। লোকির ২ টা বিশাল সিজন। না দেখে থাকলে এই লেখা পড়লেও বুঝতে পারবেন।

এমসিইউ মেইন টাইমলাইনে (আর্থ ৬১৬ ) লোকি ইনফিনিটি ওয়ারে মারা যায়। কিন্তু এন্ডগেমে টাইম হেইস্টের মধ্যে দিয়ে অ্যাভেঞ্জার্সরা ২০১২ সালে যায় টেসারেক্ট ও সেপটার আনতে। টাইম ট্রাভেলের ওই সময়ে টেসারেক্ট নিয়ে পালায় যায় লোকি। যা আরেকটা টাইমলাইন ক্রিয়েট করে ফেলে। আর লোকি সিরিজ শুরু হয় এখান থেকে। তো পালায় লোকি যে টাইমলাইনে যায়, সেখান থেকে লোকিকে ধরে নিয়ে আসে টাইম ভ্যারিয়েন্ট অথোরিটি-টিবিএ। তারা লোকির পালায় যাওয়া টাইমলাইন মুছে ফেলে। টিভিএ তে আসার পর লোকির মাধ্যমে মাল্টিপল টাইমলাইন নিয়ে কাজ শুরু হয়। এই সিরিজে পুরো মাল্টিভারস সিস্টেম কীভাবে চলে তা হি হু রিমেন-ক্যাং এর চরিত্রের মাধ্যমে বিল্ড করা হয়।

সহজ করে বুঝতে হলে বিষয়টা এমন- আমরা এমসিইউ ইনফিনিটি সাগার যতগুলো মুভি দেখেছি সেগুলো মিলে একটা টাইমলাইন (আইরনম্যান ২০০৮- স্পাইডারম্যান ব্র্যান্ড নিউ ডে ২০২৬ ) আর এটাই হলো অরিজিনাল এমসিইউ টাইমলাইন। কিন্তু পুরো ইউনিভার্সে আরোও পৃথিবী আছে। যেগুলো নিজ নিজ সময় রেখায় চলছে। আর এগুলো নিয়ন্ত্রন করছে টিবিএ। যাতে এক টাইমলাইনের মানুষ আরেক টাইমলাইনে যেয়ে কোন রিয়েলিটি চেঞ্জ করতে না পারে। কিন্তু লোকি আর লোকির অলটারনেট ইউনিভার্সের ভ্যারিয়েন্ট সিলভির ফ্রি উইল কান্ডে তৈরী হয় নির্দিষ্ট টাইমলাইন থেকে মাল্টিভার্স টাইমলাইন।
এখন প্রশ্ন আসবে ফ্রি উইল কি ?
সহজ করে বলি-লোকি মেইন টাইমলাইনে ইনফিনিটি ওয়ারে মারা যায়। কিন্তু এন্ডগেমে টাইম মেশিনের মাধ্যমে অ্যাভঞ্জার্সরা ২০১২ সালে ফেরত যেয়ে টেসারেক্ট ও সেপটার আনতে গেলে লোকি সেখান থেকে পালিয়ে যায়। এখন এই পালিয়ে যাওয়ার পর লোকিকে টিভিএ ধরে নিয়ে আসে, সেটা আমরা প্রথমেই বলেছি। টিভিএতে এসে লোকি দেখতে পায় এমন বহু টাইমলাইন মুছে দেয়া হচ্ছে। আর সেখানে বাস করা মানুষও মুছে যাচ্ছে। টিভিএর কাজই এটা । মানে কোন অতি আগ্রহী বুদ্ধিমানরা এক টাইমলাইন থেকে আরেক টাইমলাইনে যাতে না আসতে পারে। আর এটাই লোকি মানতে পারেনা। লোকির কথা হলো সবার একটা সুযোগ পাওয়া দরকার। তো সে তৈরী করে মাল্টিভার্স রিয়েলিটি।

ক্যাপটেন আমেরিকা বা স্টিভ রজার্স টাইমলাইন
এবার কথা বলি ক্যাপটেন আমেরিকাকে নিয়ে। এন্ডগেমে স্টিভ স্টোন ফেরত দিতে যায়। কিন্তু ফেরত আসে বুড়ো হয়ে। আর পোস্ট ক্রেডিটে আমরা দেখি স্টিভ ও পেগির ডান্স। তার মানে স্টিভ ১৯৭০ সালে রয়ে গেছে। পেগির সাথে সংসার করেছে। তার মানে দাড়ালো স্টিভের কারনে আরোও একটি রিয়েলিটি তৈরী হয়েছে। আরোও একটি টাইমলাইনও।

নো ওয়ে হোম ও ডক্টর স্ট্রেঞ্জ (মাল্টিভার্স অব ম্যাডনেস)
এই দুই সিনেমা মাল্টিভার্সের রিয়েলিটি তুলে ধরে। যদিও স্পাইডার ম্যান নো ওয়ে হোমে ডক্টর স্ট্রেঞ্জ মাল্টিভার্স ব্রেকডাউন হতে দেননা নিজের শক্তি দিয়ে। তবুও দেখা যায় তিনটি ইউনিভার্সের স্পাইডারম্যান। যারা পরে যার যার টাইমলাইনে ফেরত যায়। কিন্তু মাল্টিভার্স অব ম্যাডনেস সিনেমায় মাল্টিভার্স ব্রেকডাউন শো করা হয়। সেখানেই ডার্ক হোল্ড ব্যবহার করেন স্ট্রেঞ্জ। ওপেন হয় ডক্টর স্ট্রেঞ্জ এর থার্ড আই। যেটা দিয়ে সে আরেকটা ইউনিভার্সে ওয়ান্ডার সাথে যুদ্ধ করে। সবশেষ পোস্ট ক্রেডিট সিনে ক্লিয়া এসে তাকে বলে- ডক্টর স্ট্রেঞ্জ ইউ হ্যাভ কসড ইনকারশন ! এই মুভিও বিশাল এক গল্পের। তবে ডুমসডে বোঝার জন্য এটুক যথেষ্ট।

ইনকারশন কি ?
মাল্টিভার্স অব ম্যাডনেস এ ইনকারশন দেখানো হয়। ইনকারশন হলো যখন এক টাইমলাইনের মানুষ আরেক টাইমলাইনে যায় তখন দুটো পৃথিবী একে অন্যের সাথে সংঘর্ষ বাধে। এই সংঘর্ষে যেকোন একটা ইউনিভার্স অক্ষত থাকে, আরেকটা ধ্বংস হয়।

আর এখানেই এখানেই এনশেন্ট ওয়ানের সেই বক্তব্যর সত্যতা উঠে আসে। অ্যাভেঞ্জার্সরা এন্ডগেমে অতীতে যেয়ে ইনফিনিটি স্টোন এনে সবাইকে ফেরত এনেছে ঠিকই , কিন্তু ওইযে অতীতে সবাই ফেরত গিয়েছে, সেখান থেকে স্টোন উঠিয়েছে, তার ফলে অতীতে বদলে গেছে অনেক ঘটনা। যা তৈরী করেছে নতুন রিয়েলিটি। ফলাফল : নতুন এক রিয়েলিটির উদ্ভব!
লোকি- স্টিভ- থরের মেয়েসহ আরোও যে কয়েকটি নতুন রিয়েলিটি ও টাইমলাইন তৈরী হয়েছে সেকারনে ঘটে এক ইনকারশন। আর এমনই কোন এক ইনকারশনের ফলে ডক্টর ডুম হারায় তার পরিবার। আর এই কারনেই নতুন ট্রেলারে ডক্টর ডুম বলে – ইউ অল লিভ স্টোলেন লাইভস!

ট্রেলারে প্রতিটা সংলাপ আর অ্যাভেঞ্জার্সদের এক্সপ্রেশনও তাই বলে। ডক্টর ডুম যেন তেনো কেউ নয়। ভেতর থেকে ভেঙে পড়া এমন এক ভিলেন যাকে প্রতিহত করা এতোটাও সহজ হবেনা। সিনেমার অ্যাঙ্গেল থেকে আপাতত এটাই ডুমস’ডে বোঝার জন্য ওয়ার্ল্ডওয়াইড সবচেয়ে প্রতিষ্টিত থিওড়ি। তবে মারবেল কমিকস আর রুশো ব্রাদারস অনেক কিছুই করতে পারেন। অন্যদিকে ফ্যান থিওড়িতে এগিয়ে আছে আরোও একটা গুঞ্জন। আবারও ঘটতে পারে ইনফিনিটি ওয়ারের মতো ঘটনা। সেবার সবাই গায়েব হয়েছিলো। আর এবার সবাই হারাবে তাদের স্মৃতি। ক্রিয়েট হবে ব্যাটল ওয়ার্ল্ড। শুরু হবে সিক্রেট ওয়ার্স এর প্রস্তুতি।








