বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় দায়ের করা বিস্ফোরক মামলার শুনানি আলিয়া মাদ্রাসার মাঠে স্থাপিত অস্থায়ী আদালতে মুলতবি ঘোষণার পর বকশিবাজার প্রধান সড়কে যান চলাচল শুরু হয়েছে।
আজ (৯ জানুয়ারি) বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে বারোটার দিকে বকশিবাজার মোড় থেকে বেরিকেড তুলে নেওয়ার পর শুরু হয় যান চলাচল।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী চিফ প্রসিকিউটর (অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল) আলহাজ্ব মো. বোরহান উদ্দিন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের জানান, আজকের মত আদালতের কার্যক্রম মুলতবি ঘোষণা করা হয়েছে। পরবর্তীতে আদৌ এখানে আদালতের কার্যক্রম পরিচালিত হবে কিনা সে সিদ্ধান্ত পরে হবে।
পরে এই আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান আইনজীবীর বক্তব্যে ও আদালত পরবর্তীতে এখানে আর বসবে না. এমন আশ্বাস পেয়ে অবরোধ বিক্ষোভ কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেয় আলিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা।
আলিয়া মাদ্রাসা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের একজন ওমর ফারুক বলেন, আলিয়া মাদ্রাসার প্রাঙ্গনে বাৎসরিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার অনুষ্ঠান চলছে। এমন একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভেতরে আদালতের কার্যক্রম চলতে পারেনা তাতে প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক ও শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হয়। আমরা অনুরোধ ও আবেদন জানিয়েছিলাম এখানে যেন ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলের ন্যায় কোন আদালতে কার্যক্রম পরিচালিত না হয়। কিন্তু সেটি তোয়াক্কা না করে গতকাল আবার এখানে আদালত পরিচালনার সিদ্ধান্ত হয়। এ খবর পাওয়ার পরে আমরা আন্দোলন নেমেছিলাম আমরা এখন আশ্বস্ত হয়েছি যেখানে আদালত বসবে না সেই মর্মে আমরা আন্দোলন ও সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করে নিয়েছি।
বেলা ১১ টা থেকে সকাল সাড়ে ১২ টা পর্যন্ত বকশিবাজার মোড়ে অবস্থা নিয়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ করতে দেখা যায়। অবরোধের কারণে আশপাশের রাস্তায় দেখা দেয় যানজট। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অবস্থানের কারণে বাঁশ ও কাঁটাতারের ব্যারিকেড দিয়ে বকশিবাজার সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দেয় পুলিশ।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মোতায়ন করা হয় বিপুল সংখ্যক পুলিশ, এপিবিএন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় সেনাবাহিনীর একটি দল। শিক্ষার্থীরা অবরোধ ও বিক্ষোভের কারণে বেলা ১২টা পর্যন্ত শুরু করা সম্ভব হয়নি আদালতের কার্যক্রম।
এই আদালতের বিচারক আলিয়া মাদ্রাসায় স্থাপিত আদালত প্রাঙ্গণ পরিদর্শন করেন। এরপর আদালত পরিচালনার সুষ্ঠু পরিবেশ নেই মর্মে আজকের মত আদালতের কার্যক্রম মূলতবি ঘোষণা করে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামী পক্ষে উভয় আইনজীবীদের জানিয়ে দেন।







