দক্ষিণ আমেরিকার দেশ পেরুতে নাজকা লাইনস পরিদর্শনে যাওয়ার পথে একটি ছোট যাত্রীবাহী বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ১৩ আরোহীর সবাই নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১১ জন যাত্রী এবং দুইজন ক্রু সদস্য ছিলেন। তাদের বেশিরভাগই পর্যটক বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
পুলিশ জানায়, বিমানটি পেরুর ইকা বিভাগের পিসকো থেকে উড্ডয়ন করেছিল। নাজকা লাইনসের আকাশপথে ভ্রমণের সময় এটি দুর্ঘটনার শিকার হয়। ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ নিশ্চিত করে, বিমানে থাকা কেউই বেঁচে নেই।
দুর্ঘটনাস্থল থেকে পুলিশের কর্মকর্তা মেজর জর্জ অন্দ্রেদে বলেন, ‘আমাদের কাছে থাকা তথ্য অনুযায়ী, ১১ জন যাত্রী ও দুইজন ক্রু সদস্য নিহত হয়েছেন।’
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার পর দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ায় উদ্ধার অভিযান চালানো সম্ভব হয়নি। দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ।
পেরুর অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন আকর্ষণ নাজকা লাইনস দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় মরুভূমিতে আন্দিজ পর্বতমালার কাছাকাছি অবস্থিত। বিশাল আকৃতির এই জিওগ্লিফগুলো খ্রিস্টপূর্ব ৫০০ থেকে খ্রিস্টাব্দ ৫০০ সালের মধ্যে নির্মিত হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। এর ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব বিবেচনায় ইউনেস্কো নাজকা লাইনসকে বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতি দিয়েছে।
ইউনেস্কোর ভাষ্য অনুযায়ী, আকার, বৈচিত্র্য ও ধারাবাহিকতার দিক থেকে নাজকা লাইনস বিশ্বের অন্যতম রহস্যময় প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। এখানে প্রাণী, উদ্ভিদ, কাল্পনিক সত্তা এবং কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ জ্যামিতিক নকশার অসংখ্য ভূ-চিত্র রয়েছে, যেগুলোর জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক গুরুত্ব ছিল বলে গবেষকদের ধারণা।
বিশাল আকারের কারণে নাজকা লাইনসের পূর্ণ সৌন্দর্য মূলত আকাশ থেকেই দেখা যায়। এ কারণে প্রতিবছর হাজারো পর্যটক ছোট বিমানে করে বানর, হামিংবার্ড ও বিড়ালসহ বিভিন্ন আকৃতির এই ভূ-চিত্রগুলো দেখতে সেখানে ভ্রমণ করেন।
পেরুর বৈদেশিক বাণিজ্য ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে সাড়ে তিন কোটি জনসংখ্যার দেশটিতে ৪১ লাখের বেশি বিদেশি পর্যটক ভ্রমণ করেছেন।







