‘সারাদেশে ছাত্রলীগের অপতৎপরতা’ এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০২০-২১ সেশনের শিক্ষার্থী কৃষ্ণ রায়কে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের প্রতিবাদে মশাল মিছিল করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমমনা ৫টি ছাত্রসংগঠন।
বুধবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেটের আমতলা চত্বর থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে বুদ্ধিজীবী চত্বরে এসে শেষ হয়। পরে তারা একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশে এসে মিলিত হয়।
এসময় তারা- ‘জ্বালো রে জ্বালো, আগুন জ্বালো আগুন জ্বালো; লড়াই লড়াই লড়াই চাই, লড়াই করে বাচতে চাই; সন্ত্রাসীদের আস্তানা, ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও; আমার ভাই আহত কেন, প্রশাসন জবাব চাই’ স্লোগান দেয়।
রাবি শাখা নাগরিক ছাত্র ঐক্যের মেহেদী হাসান মুন্না বলেন, প্রশাসন আদর-স্নেহ দিয়ে সরকার দলীয় ছাত্র সংগঠনকে লালন-পালন করছে। ইবিতে এক ছাত্রীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন চালিয়েছে। চট্টগ্রামে আইসিইউতে গিয়ে এক শিক্ষার্থীকে হুমকি দিয়েছে। রাবি শিক্ষার্থী কৃষ্ণ রায়কে শিবির বলে চালিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে। আওয়ামী লীগের ১৪ বছরের শাসনামলে এরকম ঘটনা অহরহই ঘটেছে। আজকে পুরো দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ না থাকায় হামলা-মামলা হচ্ছে। আমরা এসব ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের আহবায়ক রিদম শাহরিয়ার বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলে শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের ঘটনা ছাত্রলীগের সিট বাণিজ্যের কারণে হয়েছে। যখন যেই সরকার ক্ষমতায় থাকে তখন সেই সংগঠনের ছাত্র সংগঠন এই হল গুলোকে মিনি ক্যান্টনমেন্টে পরিণত করে। তারা শিক্ষার্থীদের আাবসিক সংকটকে পুঁজি করে সিট বানিজ্য করছে। ফ্যাসিস্ট কায়দায় তারা যে রাজত্ব কায়েম করছে তার বিরুদ্ধে সকলকে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। ক্যাম্পাসে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হলে ছাত্র সংসদ নির্বাচন দিতে হবে। এজন্য সকলকে সচেতন হতে হবে।
সমাবেশে বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রীর সভাপতি শাকিল হোসেনের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাকিব হাসান ও ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি রায়হান আলী।
গত রোববার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সোহরাওয়ার্দী হলে আটকে রেখে কৃষ্ণ রায়কে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠে হল শাখা ছাত্রলীগের দুই নেতার বিরুদ্ধে। সেইসঙ্গে তাকে মেরে ‘শিবির’ বলে চালিয়ে দেওয়ারও হুমকি দেওয়া হয় ওই শিক্ষার্থীকে। অভিযুক্ত দুই ছাত্রলীগ নেতা হলেন- হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নাঈম ইসলাম ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. সোলাইমান। এ ঘটনায় গতকাল মঙ্গলবার রাতে হল প্রাধ্যক্ষ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী।
অভিযোগপত্রে তিনি উল্লেখ করেন, গত রোববার দিবাগত রাত সাড়ে ১০টার দিকে হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নাঈম ইসলামের ৭-৮ জন অনুসারী আমার রুমে এসে আমাকে বের হয়ে যেতে হুমকি দেয়। আমি রাজি না হলে আমার বিছানাপত্র ফেলে দিয়ে আরেকজনকে তুলে দেয় তারা। এসময় সোলাইমান নামে এক ছাত্রলীগ নেতা আমাকে মারধর করে। এরপর আমাকে সাধারণ সম্পাদক নাঈম ইসলামের রুমে নিয়ে তাকে মারধর ও মানসিক নির্যাতন করে এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। এক পর্যায়ে হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নাঈম বলেন, ‘তোকে মেরে শিবির বলে চালিয়ে দেব।’ কিন্তু আমি হিন্দু জানার পর বলে, ‘এখন তো তোকে মেরে ফেললেও কেউ কিছু করতে পারবে না।’








