দাতব্য সংস্থা অক্সফাম জানিয়েছে, ২০২৫ সালে বিশ্বের বিলিয়নেয়ারদের সম্মিলিত সম্পদের পরিমাণ রেকর্ড মাত্রায় বেড়েছে। বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের জন্য বিশ্বব্যাপী অভিজাতদের জড়ো হওয়ার সাথে সাথে অত্যন্ত বিপজ্জনক রাজনৈতিক পরিণতির বিষয়ে সতর্ক করেছে দাতব্য সংস্থা অক্সফাম।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।
এনজিওটি দাভোস ফোরামের আগে বাৎসরিকভাবে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতিগুলো বিশেষ করে অতি ধনীদের ভাগ্যকে উৎসাহিত করেছে, যা তার দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম বছরে ১৬ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ১৮ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।
এতে আরও বলা হয়েছে, বিশ্বে এখন প্রথমবারের মতো ৩ হাজারেরও বেশি বিলিয়নেয়ার রয়েছে। টেসলা এবং স্পেসএক্স প্রধান এলন মাস্কের নেতৃত্বে শীর্ষ ১২ জনের পৃথিবীর দরিদ্রতম জনগোষ্ঠীর অর্ধেকেরও বেশি, অর্থাৎ চার বিলিয়নেরও বেশি মানুষের চেয়েও বেশি সম্পদ রয়েছে।
অক্সফ্যাম জানিয়েছে, ক্রমবর্ধমানভাবে এই অর্থ দিয়ে বিলিয়নেয়াররা রাজনৈতিক ক্ষমতা কিনছে। বিশেষ করে টাইকুনদের সংবাদপত্র এবং অন্যান্য মিডিয়া কেনার দিকে ইঙ্গিত করে, যেমন মাস্কের এক্স-এর দখল নেওয়া বা অ্যামাজনের জেফ বেজোস কর্তৃক ওয়াশিংটন পোস্ট কেনা।
অক্সফ্যামের নির্বাহী পরিচালক অমিতাভ বেহার বলেছেন, “ধনী এবং বাকিদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান ব্যবধান একই সাথে একটি রাজনৈতিক ঘাটতি তৈরি করছে যা অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং অস্থিতিশীল।”
ট্রাম্প দাভোস সম্মেলনে সর্বকালের সবচেয়ে বড় মার্কিন প্রতিনিধিদলগুলোর মধ্যে একটি নিয়ে আসবেন, যেখানে তিনি “আ স্পিরিট অফ ডায়ালগ” নামে আনুষ্ঠানিকভাবে বিল করা একটি এজেন্ডায় প্রাধান্য দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
রোববার দাভোসে আগত প্রায় ৩০০ বিক্ষোভকারী ট্রাম্পের অংশগ্রহণে উজ্জীবিত হয়েছিলেন, যাদের অনেকেই মাস্ক বা মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের মুখোশ পরেছিলেন এবং মুষ্টিবদ্ধভাবে ইউরো ধরে প্রতিবাদ করেছিলেন।
সুইস ইয়ং সোশ্যালিস্টদের নাথালি রুস এএফপিকে বলেন, বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তিরা দাভোসে এমন সিদ্ধান্ত নেন যা সকলের উপর প্রভাব ফেলে এবং তারা কোনও গণতান্ত্রিক বৈধতা ছাড়াই এটি করেন।”
তিনি বলেন, ডব্লিউইএফ ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো ফ্যাসিস্টদের স্বাগত জানানোকে অগ্রহণযোগ্য বলে অভিহিত করেন।
অক্সফামের মতে, আন্তর্জাতিকভাবে সম্মত ন্যূনতম ১৫ শতাংশ হারের কর থেকে মার্কিন বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে অব্যাহতি দেওয়ার ওয়াশিংটনের সিদ্ধান্ত ক্রমবর্ধমান বৈষম্যকে উপেক্ষা করার একটি স্পষ্ট উদাহরণ।
এতে বলা হয়েছে, “বিভিন্ন দেশে অতি ধনীরা কেবল ব্যয় করার চেয়ে বেশি সম্পদ সঞ্চয় করেনি, বরং আমাদের অর্থনীতি ও দেশকে পরিচালিত করে এবং তারা এই পরিচালনা করার নিয়ম গঠনের জন্য রাজনৈতিক ক্ষমতা সুরক্ষিত করতে এই সম্পদ ব্যবহার করেছে।









