মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, গাজা যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক তদারকি সংস্থায় যুক্ত হতে চান যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী স্যার টনি ব্লেয়ার।
সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ট্রাম্পের নেতৃত্বে গঠিত হবে নতুন ‘বোর্ড অব পিস’, যেখানে প্রথম নাম ঘোষিত সদস্য হচ্ছেন টনি ব্লেয়ার। হামাস প্রস্তাবে রাজি হলে এ বোর্ড সাময়িকভাবে গাজার শাসন তদারকি করবে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, অন্যান্য দেশের নেতাদের নামও পরে ঘোষণা করা হবে।
২০ দফার এ পরিকল্পনায় ইসরায়েল-হামাসের প্রায় ২ বছরের যুদ্ধের অবসান, গাজার নিরস্ত্রীকরণ ও পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ব্লেয়ার পরিকল্পনাটিকে দুই বছরের যুদ্ধ, দুর্ভোগ ও ভোগান্তি শেষ করার সেরা সুযোগ বলে মন্তব্য করেছেন।
যুদ্ধবিরতিতে রাজি হলেই তাৎক্ষণিকভাবে লড়াই বন্ধ হবে, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে জীবিত ২০ ইসরায়েলি বন্দি ও মৃতপ্রায় দুই ডজনের বেশি বন্দির মরদেহ ফেরত দেওয়া হবে, এর বিনিময়ে ইসরায়েল ২৫০ জন যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত এবং ১ হাজার ৭০০ আটক গাজাবাসীকে মুক্তি দেবে।, গাজায় তাৎক্ষণিকভাবে পূর্ণ মানবিক সহায়তা পাঠানো হবে, নিরাপত্তা জোরদার ও স্থানীয় পুলিশ প্রশিক্ষণে বহুজাতিক শান্তিরক্ষী বাহিনী মোতায়েন হবে এবং ধাপে ধাপে গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার করা হবে।
পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, গাজার প্রশাসন পরিচালনার জন্য গঠিত হবে অরাজনৈতিক, কারিগরি সক্ষমতাসম্পন্ন ফিলিস্তিনি কমিটি। এ কমিটিতে যোগ দেবেন দক্ষ ফিলিস্তিনি ও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা। তাদের তদারকি করবে আন্তর্জাতিক বোর্ড অব পিস, যার নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্প, আর সদস্য হিসেবে থাকবেন টনি ব্লেয়ারসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রপ্রধান।
হামাসের কোনো ভূমিকা থাকবে না সরাসরি, পরোক্ষ কিংবা কোনোভাবেই—বলে পরিকল্পনায় উল্লেখ করা হয়েছে।
ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, হামাস প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে তিনি পূর্ণ সমর্থন দেবেন “যা করার দরকার, তা করতে।
পরিকল্পনায় ভবিষ্যতে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের পথ খোলা রাখা হয়েছে, তবে শর্ত হলো ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে ব্যাপক সংস্কার করতে হবে।
ট্রাম্প এক পর্যায়ে যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও ফ্রান্সসহ সম্প্রতি ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া দেশগুলোর সমালোচনা করে বলেন, তারা “বোকামি” করেছে।
ঘোষণার পর ব্লেয়ার বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সাহসী ও বুদ্ধিদীপ্ত পরিকল্পনা দিয়েছেন, যা যুদ্ধ বন্ধ করতে, গাজার মানুষকে তাৎক্ষণিক স্বস্তি দিতে এবং ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে।
তিনি আরও বলেন, ট্রাম্প নিজে বোর্ড অব পিসের নেতৃত্ব দেবেন এটি গাজার ভবিষ্যতের প্রতি আস্থা ও আঞ্চলিক শান্তির পথে ইতিবাচক বার্তা বহন করছে।
ট্রাম্পের এই পরিকল্পনা তার পূর্ববর্তী প্রস্তাব থেকে ভিন্ন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তিনি ঘোষণা করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র গাজা দখল করে সেখানে মধ্যপ্রাচ্যের রিভিয়ার তৈরি করবে।
এতে ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক উচ্ছেদ জড়িত থাকত, যা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী। সে সময় টনি ব্লেয়ারের কার্যালয় জানায়, তিনি এ ধরনের পরিকল্পনা সমর্থন করবেন না।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের ইসরায়েলের দক্ষিণে হামলার পর গাজায় অভিযান চালায় ইসরায়েল। সে ঘটনায় প্রায় ১,২০০ জন নিহত এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করা হয়।
হামাস নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, এ পর্যন্ত অন্তত ৬৬ হাজার ৫৫ জন গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন।
জাতিসংঘের একটি সংস্থা সম্প্রতি জানিয়েছে, গাজা শহরে দুর্ভিক্ষ চলছে। এ মাসের শুরুর দিকে জাতিসংঘের একটি কমিশন জানিয়েছে, ইসরায়েল গাজায় গণহত্যা চালিয়েছে যা ইসরায়েল অস্বীকার করে।







