সম্প্রতি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু অবৈধ বসতি সম্প্রসারণ পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার জন্য একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, কোনও ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র থাকবে না।
বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, জেরুজালেমের ঠিক পূর্বে অবস্থিত ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী মালে আদুমিমে এক অনুষ্ঠানে নেতানিয়াহু বলেন, আমরা আমাদের প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে যাচ্ছি। তা হলো কোনও ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র থাকবে না, এই জায়গাটি আমাদের।
তিনি বলেন, আমরা আমাদের ঐতিহ্য, আমাদের ভূমি এবং আমাদের নিরাপত্তা রক্ষা করব… আমরা শহরের জনসংখ্যা দ্বিগুণ করতে যাচ্ছি।
ইসরায়েলের প্রায় ১২ বর্গকিলোমিটার (পাঁচ বর্গমাইল) জমিতে ই-ওয়ান নির্মাণের উচ্চাকাঙ্ক্ষা ছিল কিন্তু আন্তর্জাতিক বিরোধিতার মুখে বছরের পর বছর ধরে এই পরিকল্পনাটি আটকে ছিল।
এই স্থানটি জেরুজালেম এবং ইসরায়েলি বসতি মালে আদুমিমের মাঝামাঝি অবস্থিত, যা ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের উত্তর ও দক্ষিণে সংযোগকারী পথের কাছে অবস্থিত।
এদিকে, কাতারের রাজধানী দোহায় ইসরায়েলের ভয়াবহ হামলার নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। যদিও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ ১৫টি সদস্যের একমত হওয়া বিবৃতিতে ইসরায়েলের নাম উল্লেখ করা হয়নি।
ইসরায়েলি ওই হামলায় নিহত ছয়জনের জানাজায় যোগ দেন কাতারের আমির। এসময় তিনি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদের জন্য বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানান।
ইসরায়েলি বাহিনী গাজা উপত্যকায় বোমাবর্ষণ অব্যাহত রেখেছে। যার ফলে বৃহস্পতিবার ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর হামলায় কয়েক ডজন মানুষ নিহত হয়েছে। এরমধ্যে বেশ কয়েকজন সাহায্যপ্রার্থীও রয়েছেন। গাজার দশ লাখ বাসিন্দাকে বাস্তুচ্যুত করার এবং শহরটি দখল করার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী হামলার তীব্রতা বাড়িয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, নেতানিয়াহু অবৈধ বসতি সম্প্রসারণ পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার জন্য একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, কোনও ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র থাকবে না।
প্রসঙ্গত, গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে কমপক্ষে ৬৪ হাজার ৬৫৬ জন নিহত এবং এক লাখ ৬৩ হাজার ৫০৩ জন আহত হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও হাজার হাজার মানুষ আটকা পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ৭ অক্টোবরের হামলায় ইসরায়েলে মোট এক হাজার ১৩৯ জন নিহত হয় এবং প্রায় ২০০ জনকে বন্দী করা হয়।








