পুলিশের বিশেষায়িত সংস্থা অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের (এটিইউ) প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. রেজাউল করিম বলেছেন সরকারি পর্যায়ে বলা হচ্ছে দেশে বর্তমানে জঙ্গিবাদ নেই। নেই বললেই আগামীতে কেউ করবে না—এটা নিশ্চয়তা দিতে পারি না। তাই আমাদের কাজ থেমে থাকার সুযোগ নেই, বরং আরও সিরিয়াসলি কাজ করতে হবে।
বৃহস্পতিবার বিকালে রাজধানীর বারিধারা ডিপ্লোম্যাটিক জোনে এটিইউ সদর দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
রেজাউল করিম বলেন, আমাদের দেশের মানুষ উগ্রবাদে বিশ্বাসী নয়। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব, ভেজাল মতাদর্শ কিংবা দেশি-বিদেশি চক্রান্তে কেউ কেউ বিপথগামী হতে পারে। সেই কারণে আমরা এসব বিষয় নজরদারিতে রাখছি।
অতিরিক্ত আইজিপি রেজাউল করিম বলেন, বাংলাদেশ শান্তিপ্রিয় ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ, উগ্রবাদ, মাদক এবং বিশেষ করে যুবকদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান অনলাইন ও সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে এটিইউ কাজ করছে। একটি মাত্র সন্ত্রাসী ঘটনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
তিনি বলেন, দেশের মাটি ও মানুষ সবার। তাই এসব সমস্যা মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা অপরিহার্য। বিশেষায়িত ইউনিটের পাশাপাশি গণমাধ্যমের সহযোগিতা অপরিহার্য। সাধারণ মানুষকে সঠিক তথ্য দিতে ‘ইনফোমেট’ অ্যাপ ও একটি যোগাযোগ নম্বর চালু করা হয়েছে, যেখানে তথ্যদাতার গোপনীয়তা রক্ষা করা হবে।
মালয়েশিয়ায় গ্রেপ্তার ৩৬ বাংলাদেশি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তাদের আমরা আলাদাভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। তারা শ্রমিক শ্রেণির মানুষ। মালয়েশিয়া সরকারও তাদের ক্লিয়ার দিয়েছে। তবে এর পেছনে কারা আছে—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
জঙ্গিবাদের বর্তমান অবস্থা প্রসঙ্গে পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশ শান্তিপ্রিয় দেশ। আমাদের বিশ্লেষণে দেশে বড় ধরনের জঙ্গি কার্যক্রম নেই। তারপরও আমরা সতর্ক আছি, যাতে কোথাও কোনও ঘটনার উদ্ভব না ঘটে।
এটিইউর যৌক্তিকতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একটা ঘটনা বড় ধরনের ইমেজ সংকট ও আতঙ্ক তৈরি করতে পারে। তাই এ ধরনের প্রতিষ্ঠানকে আরও শক্তিশালী হওয়া দরকার। ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম, সাইবার ক্রাইম ও হ্যাকিং মোকাবিলাতেও এটিইউর সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন।








