ফেনীর দাগনভূঁঞার জায়লস্কর ইউনিয়নের উত্তর নেয়াজপুর গ্রামের খলিল মাঝি বাড়িতে চেতনানাশক গায়ে ছিটিয়ে তিন পরিবারের সদস্যদের অচেতন করে প্রায় ১১ লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণলাংকর ও মালামাল লুট করেছে চোরেরা। অচেতন অবস্থায় পরিবারের সদস্যদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ৯ নভেম্বর দুপুরে এ বিষয়ে মো. ইমাম হোসেন (৩৫) বাদী হয়ে দাগনভূঁঞা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন।
পুলিশ ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার সূত্র জানা যায়, ফেনীর দাগনভূঁঞা উপজেলার জায়লস্কর ইউনিয়নের উত্তর নেয়াজপুর গ্রামের খলিল মাঝি বাড়ির আমজাদ হোসেন বাবুলের মা অসুস্থ হওয়ায় ৭ নভেম্বর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যায়। তখন বাড়িতে কেউ ছিল না। এই সুযোগে বুধবার ৮ নভেম্বর রাত অনুমান ২টার মধ্যে চোররা ঘরের পিছন দিয়ে কৌশলে ঘরে প্রবেশ করে।
জানা যায়, ঘরের আলমারিতে থাকা ১০ ভরি স্বর্ণ, যার বাজার মূল্য ৯ লাখ টাকা চুরি করে নিয়ে যায়। পরে আমজাদের জেঠাতো ভাই ছালে আহাম্মদের ঘরে প্রবেশ করে। ঘুমের মধ্যে তাদের সবাইকে চেতনানাশক গায়ে ছিটিয়ে অচেতন করে ২ ভরি ওজনের স্বর্ণ, যার মূল্য এক লাখ ৮০ হাজার টাকা চুরি করে। এছাড়া অপর জেঠাতো ভাই মনির আহাম্মদের ঘরে প্রবেশ করে সকলকে অচেতন করে ১২ ভরি ওজনের স্বর্ণ, যার মূল্য ১০ লাখ টাকা চুরি করে নিয়ে যায়। পরের দিন অনুমান ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পরে পাশের ঘরের লোকজন তাদের কোন সাড়া শব্দ না পেয়ে ডাকাডাকি করে তাদের ঘুম থেকে উঠানোর চেষ্টা করে।
স্থানীয়রা চুম্পা আক্তার, মো. শ্রাবণ ও মো. সামির, ছালেহ আহম্মদ, খোদেজা আক্তার, শারমিন আক্তার, মনির আহম্মদ ও মনোয়ারা বেগমকে উদ্ধার করে দাগনভূঁঞা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। কয়েকজনের অবস্থার অবনতি হলে তাদের ফেনী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল ও একটি বেসরকারী হাসপাতালে ভর্তি করে। হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে অন্যরা চলে গেলেও মনির আহম্মদ (৬০) ও মনোয়ারা বেগম (৫৫) শহরের একটি বেসরকারী হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
ঘরের স্বর্ণলাংকর ও মালামাল চুরির বিষয়ে আমজাদকে মোবাইলে অবগত করলে ঢাকা থেকে দ্রুত বাড়িতে এসে অজ্ঞাতনামা চোরের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।
আমজাদ বলেন, আমি ১৩ বছর পর দুবাই থেকে দেশে আসি। আমার মা অসুস্থ হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাই। এদিকে চোরেরা আমাদের ঘরে ঢুকে চেতনানাশক গায়ে ছিটিয়ে সকলকে অচেতন তিন পরিবারের প্রায় ২১ লাখ টাকা মূল্যের ২৪ ভরি স্বর্ণ ও মালামাল চুরি করে নিয়ে যায়। পরিবারের ৯ জন সদস্যের মধ্যে এখনও অচেতন অবস্থায় দু’জন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। আমরা প্রবাসীরা সরকারের কাছে জানমালের নিরাপত্তা চাই।
দাগনভূঁঞা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নিজাম উদ্দিন বলেন, জায়লস্কর ইউনিয়নের উত্তর নেয়াজপুর গ্রামের খলিল মাঝি বাড়িতে চেতনানাশক গায়ে ছিটিয়ে অচেতন করে চুরির খবর শুনেছি। বিষয়টি তদন্তে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছে। তদন্ত পূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।







