মধ্য গাজার একটি হাসপাতালে গতকাল রাতে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৫০০ জন মানুষ নিহত হয়েছেন। নারকীয় এই হামলায় নিন্দা জানানোর পাশাপাশি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে সারাবিশ্ব। এই ঘটনার জেরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সাথে পূর্বনির্ধারিত বৈঠক বাতিল করেছে জর্দান, ফিলিস্তিন ও মিসর।
গতকাল (১৭ অক্টোবর) স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাতে ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ অঞ্চল গাজার আল-আহলি ব্যাপ্টিস্ট হাসপাতালে ইসরায়েলি বিমান হামলায় কমপক্ষে ৫০০ জন নিহত হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এবং একাধিক নেতা এই হামলার নিন্দা জানিয়েছেন।
ফিলিস্তিন
ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের একজন মুখপাত্র এই বিমান হামলাকে গণহত্যা এবং মানবিক বিপর্যয় বলে নিন্দা জানিয়েছেন। মাহমুদ আব্বাস মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সাথে পূর্ব নির্ধারিত বৈঠক থেকেও সরে এসেছেন।
জর্ডান
গতকাল মঙ্গলবার একটি বিবৃতিতে, জর্ডানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইসরায়েলের এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। জর্ডান ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের জন্য আন্তর্জাতিক সুরক্ষা এবং যুদ্ধের অবসানের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছে।
জর্ডানের বাদশাহ দ্বিতীয় আবদুল্লাহ বলেছেন, গাজার হাসপাতালে ইসরায়েলের বোমা হামলা একটি গণহত্যা এবং যুদ্ধাপরাধ যা সম্পর্কে কেউ নীরব থাকতে পারে না।
মিশর
মিশররের সরকার একটি বিবৃতি জারি করে এই হামলার কঠোর নিন্দা প্রকাশ করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে পদক্ষেপ নিতে এবং আরও হামলা প্রতিরোধ করতে আহ্বান জানিয়েছে।
কাতার
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, হামলা বিপজ্জনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। হাসপাতাল, স্কুল এবং অন্যান্য কেন্দ্রগুলোতে হামলার সম্প্রসারণ বিপজ্জনক।।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)
ডব্লিউএইচও আল আহলি ব্যাপ্টিস্ট হাসপাতালে হামলার তীব্র নিন্দা করে। জাতিসংঘের স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম ঘেব্রেয়েসুস সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ বলেছেন, প্রাথমিক প্রতিবেদনগুলো শত শত মৃত্যু এবং আহতের ইঙ্গিত দিচ্ছে। আমরা অবিলম্বে বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা এবং স্বাস্থ্যসেবা সরিয়ে নেওয়ার আদেশ প্রত্যাহার করার জন্য আহ্বান জানাই।
জাতিসংঘ
হামলার নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে সাধারণ ফিলিস্তিনি নাগরিক হত্যা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিবের একজন মুখপাত্র। বিধ্বস্ত গাজায় জরুরি ভিত্তিতে খাবার, পানি, জ্বালানি ও চিকিৎসা সহায়তা পাঠানো না হলে মানবিক বিপর্যয় দেখা দেবে বলে হুঁশিয়ার করেছেন তিনি।
আরব লীগ
আরব লীগের প্রধান আহমেদ আবুল গিত এই হামলার প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, আন্তর্জাতিক নেতাদের অবিলম্বে এই ট্র্যাজেডি বন্ধ করতে হবে। কোন শয়তানি মন ইচ্ছাকৃতভাবে একটি হাসপাতাল এবং এর অরক্ষিত বাসিন্দাদের ওপর বোমাবর্ষণ করে?
তিনি একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে লিখেছেন, আরব ব্যবস্থা এই যুদ্ধাপরাধ নথিভুক্ত করবে এবং অপরাধীরা তাদের কর্ম থেকে রেহাই পাবে না।
তুরস্ক
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি বিবৃতিতে হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, মহিলা, শিশু এবং নিরাপরাধ বেসামরিক নাগরিকে পূর্ণ একটি হাসপাতালে ইসরায়েলের আঘাত করার ঘটনা মানবিক মূল্যবোধের বাইরের হামলার সর্বশেষ উদাহরণ। গাজার এই নজিরবিহীন বর্বরতা বন্ধে পদক্ষেপ নিতে আমি সকল মানবতাকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।
কানাডা
কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো এই হামলার নিন্দা করেছেন এবং যুদ্ধের আইন মেনে চলার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি বলেন, গাজা থেকে যে খবর আসছে তা ভয়ঙ্কর এবং একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া দরকার এবং সব ক্ষেত্রেই। যুদ্ধের নিয়ম রয়েছে এবং হাসপাতালে আঘাত করা গ্রহণযোগ্য নয়।
ইরান
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই বিমান হামলাকে নিরস্ত্র ও অরক্ষিত মানুষদের ওপর হামলা বলে নিন্দা করেছে।







