লাইফস্টাইল

আলমারি ভর্তি পোশাক, তবু পরার মতো কিছু নেই কেন?

আলমারি ভর্তি পোশাক, তবু পরার মতো কিছু নেই কেন?

ছবি: সংগৃহীত

আলমারি খুললেই চোখে পড়ে নানা রঙের পোশাক। শার্ট, প্যান্ট, শাড়ি, কামিজ কিংবা পছন্দের জামা- কোনো কিছুরই অভাব নেই। অথচ বাইরে যাওয়ার আগে সেই চেনা কথা, ‘পরার মতো কিছুই নেই!’ এমন অভিজ্ঞতা অনেকেরই। কিন্তু কেন এমন হয়?

সকালে অফিসে যাওয়ার তাড়া, বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করার পরিকল্পনা কিংবা কোনো অনুষ্ঠানে যাওয়ার প্রস্তুতি- প্রতিবারই পোশাক বাছাই করতে গিয়ে অনেকের সময় চলে যায়। একের পর এক পোশাক পরেও মনে হয়, আজকের জন্য ঠিক মানানসই কিছু পাওয়া যাচ্ছে না। বিষয়টি শুধু পোশাকের অভাব নয়। এর পেছনে কাজ করতে পারে আমাদের পছন্দ, সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভ্যাস, আত্মবিশ্বাস এবং পোশাক নিয়ে প্রত্যাশা।

পোশাক অনেক, কিন্তু পছন্দের সংখ্যা কম

আলমারিতে অনেক পোশাক থাকলেই যে প্রতিটি পোশাক আমাদের পছন্দ হবে, এমন নয়। কিছু পোশাক কেনা হয়েছিল বিশেষ কোনো অনুষ্ঠানের জন্য, কিছু উপহার পাওয়া, আবার কিছু কেনা হয়েছিল তখনকার ফ্যাশন দেখে।

সময় বদলানোর সঙ্গে সঙ্গে রুচি ও পছন্দও বদলায়। ফলে আলমারি ভর্তি পোশাক থাকলেও পরার সময় দেখা যায়, হাতে গোনা কয়েকটি পোশাকই নিয়মিত পরতে ইচ্ছা করছে।

বেশি বিকল্প, বেশি দ্বিধা

পোশাক বাছাই করার সময় শুধু জামা নির্বাচন করলেই হয় না। এর সঙ্গে মিলিয়ে জুতা, ব্যাগ, ওড়না, গয়না কিংবা অন্য অনুষঙ্গও ভাবতে হয়। এতগুলো বিষয় একসঙ্গে বিবেচনা করতে গিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সময় লাগতে পারে।

মনোবিজ্ঞানে অনেক বিকল্পের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে অসুবিধা হওয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা রয়েছে। বিকল্প বেশি হলেই যে সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হবে, তা নয়। কখনো বেশি বিকল্প বরং দ্বিধা বাড়াতে পারে।

অন্য দিনের সঙ্গে তুলনা

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যদের সাজপোশাক দেখে নিজের পোশাক নিয়ে প্রত্যাশা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে ছবি বা ভিডিওতে পছন্দের কাউকে সুন্দর পোশাকে দেখলে নিজের আলমারির পোশাকগুলো হঠাৎ সাধারণ মনে হতে পারে।

তবে ছবিতে সুন্দর লাগা কোনো পোশাক বাস্তব জীবনে সবার জন্য সমান মানানসই হবে, এমন নয়। ব্যক্তির রুচি, স্বাচ্ছন্দ্য ও প্রয়োজন আলাদা। অন্যের সাজের সঙ্গে নিজের পোশাকের তুলনা করতে থাকলে নিজের পছন্দের পোশাকও একসময় ভালো না লাগতে পারে।

মনের অবস্থাও প্রভাব ফেলতে পারে

পোশাক নিয়ে নিজের অনুভূতিও গুরুত্বপূর্ণ। কোনো দিন নিজের চেহারা নিয়ে অস্বস্তি থাকলে বা মন ভালো না থাকলে পছন্দের পোশাকটিও ভালো লাগতে নাও পারে।

আবার কোনো বিশেষ অনুষ্ঠানে কেমন দেখাবে, অন্যরা কী ভাববে এসব নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা করলে পোশাক নির্বাচন কঠিন হয়ে উঠতে পারে। তবে প্রতিবার এমন হওয়ার অর্থ এই নয় যে এর পেছনে মানসিক কোনো সমস্যা রয়েছে। এটি দৈনন্দিন সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাভাবিক অভিজ্ঞতাও হতে পারে।

কীভাবে কমানো যায় এই সমস্যা?

কিছু সহজ অভ্যাস পোশাক বাছাইয়ের ঝামেলা কমাতে পারে।

১. নিয়মিত পোশাক গুছিয়ে রাখুন: যেসব পোশাক আর পরা হয় না, সেগুলো আলাদা করুন। এতে ব্যবহারযোগ্য পোশাকগুলো সহজে চোখে পড়বে।

২. আগে থেকেই পোশাক ঠিক করুন: অফিস বা অনুষ্ঠানে যাওয়ার আগের রাতে পোশাক বেছে রাখলে সকালে তাড়াহুড়া কমবে।

৩. কয়েকটি পছন্দের পোশাক রাখুন: যেসব পোশাকে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন এবং সহজে অন্য পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে পরতে পারেন, সেগুলো হাতের কাছে রাখুন।

৪. নতুন পোশাক কেনার আগে ভাবুন: আলমারিতে একই ধরনের পোশাক আছে কি না, নতুন পোশাকটি অন্য পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে পরা যাবে কি না এসব বিবেচনা করুন।

৫. সব সময় নতুন কিছু পরার চাপ নেবেন না: একই পোশাক বিভিন্নভাবে পরা যায়। পরিচিত পোশাক আবার পরা মানেই একঘেয়ে দেখানো নয়।

আসলে অভাবটা কোথায়?

আলমারি ভর্তি পোশাক থাকার পরও ‘পরার মতো কিছু নেই’ মনে হওয়া মানেই যে পোশাক কম, তা নয়। কখনো পছন্দের সঙ্গে পোশাকের মিল থাকে না, কখনো বিকল্প বেশি হওয়ায় সিদ্ধান্ত নিতে অসুবিধা হয়, আবার কখনো নিজের চেহারা বা অন্যের মতামত নিয়ে প্রত্যাশা কাজ করে।

তাই সমাধান হিসেবে সব সময় নতুন পোশাক কেনার প্রয়োজন নেই। বরং নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী পোশাক বেছে নেওয়া, আলমারি গুছিয়ে রাখা এবং কী পরলে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন, তা বোঝার চেষ্টা করা যেতে পারে।

শেষ পর্যন্ত, সুন্দর দেখানোর জন্য আলমারি ভর্তি পোশাকের চেয়ে নিজের পছন্দ ও স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে মানানসই কয়েকটি পোশাকই বেশি কাজে আসে।

বিষয়:আলমারি পছন্দ পোশাক

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…