তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলোপ করে আনা সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর বৈধতা নিয়ে শুনানি শেষ হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) জানা যাবে রায় ঘোষণার তারিখ।
বুধবার (৪ ডিসেম্বর) বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে এ সংক্রান্ত শুনানি শেষ হয়। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ফিদা এম কামাল ও শাহরিয়ার কবির।
ফিদা এম কামাল বলেন, বিদ্যমান সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের কারণে সংসদ সদস্যদের স্বাধীনতা থাকে না। আইন প্রণয়নই সংসদ সদস্যের মূল কাজ। অথচ কালভার্ট বানানো, ম্যানেজমেন্ট কমিটি ইত্যাদি নিয়ে তাদের ব্যস্ত দেখা যায়। জনগণ সার্বভৌম হলেও তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন দেখা যায় না। এক রায়ে বলা হয়েছে, জাতীয় সংসদে ৭০ শতাংশ সংসদ সদস্য ব্যবসায়ী। এখানে অর্থই চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
শাহরিয়ার কবির বলেন, পঞ্চদশ সংশোধনী আনা হয় এক ব্যক্তির শাসন কায়েমের জন্য, যা সংবিধানের মূল চেতনা ও জনগণের ইচ্ছার পরিপন্থি।
২০১১ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে পঞ্চদশ সংশোধনী বিল পাস হয় এবং রাষ্ট্রপতি ২০১১ সালের ৩ জুলাই তাতে অনুমোদন দেন। ওই সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির পিতা হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেয়া হয়।
এছাড়া জাতীয় সংসদে নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন সংখ্যা ৪৫ থেকে বাড়িয়ে ৫০ করা হয়; সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা পুনর্বহাল এবং রাষ্ট্রীয় মূলনীতি হিসেবে জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি সংযোজন করা হয়।








